বাংলাদেশ বিষয়াবলি

কালানুক্রমিক ঘটনাবলি

০৩.০৪.২০২২

♦ জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ পেটেন্ট বিল, ২০২২’ পাস।

০৪.০৪.২০২২

♦ জাতীয় সংসদে ‘মোংলা বন্দর-কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২২’ পাস।

০৫.০৪.২০২২

♦ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নির্বাচন কমিশনের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত।

♦ জাতীয় সংসদে ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২২’ এবং ‘বাণিজ্য সংগঠন বিল, ২০২২’ পাস।

♦ গাজীপুরকে দেশের ৩৭তম নদীবন্দর ঘোষণা করা হয়।

♦ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ECNEC) ‘এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, মানিকগঞ্জ প্ল্যান্ট স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেয়।

০৬.০৪.২০২২

♦ ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অষ্টম রাউন্ডের নিরাপত্তা সংলাপ অনুষ্ঠিত।

১০.০৪.২০২২

♦ মুজিববর্ষ উপলক্ষে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সারা দেশের প্রতিটি থানায় ‘সার্ভিস ডেস্ক’ উদ্বোধন।

১১.০৪.২০২২

♦ মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকার মিরপুরের মুসলিম বাজার বধ্যভূমিতে গণহত্যার শিকার শহীদদের দেহাবশেষ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত।

১৩.০৪.২০২২

♦ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলায় জেএমবির চার জঙ্গিকে ফাঁসির আদেশ দেয় আদালত।

১৫.০৪.২০২২ 

♦ পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে পরীক্ষামূলক রেলিং বসানো শুরু হয়।

১৭.০৪.২০২২

♦ পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করা হয়।

♦ ‘র‍্যাগ ডে’র নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজে পার্টিসহ নগ্ন-অশ্লীল, উন্মত্ত, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

১৮.০৪.২০২২

♦ পদ্মা সেতুর ৩৬তম স্প্যানে শেষ ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়।

১৯.০৪.২০২২

♦ পাকিস্তানে মন্ত্রিসভার ৩৪ সদস্যের শপথ গ্রহণ।

♦ ভারতের গুজরাটের জামনগরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল সেন্টার ফর ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন (GCTM) সেন্টার উদ্বোধন।

২১.০৪.২০২২

♦ ‘ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া ফার্টিলাইজার’ প্রকল্পের উদ্বোধন।

♦ পৌরসভার ‘সচিব’ পদের নাম ‘পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা’ হিসেবে প্রতিস্থাপন করে প্রজ্ঞাপন জারি।

আলোচিত বাংলাদেশ

CSocDর সদস্য

১৩ এপ্রিল ২০২২ জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলের (ECOSOC) ম্যানেজমেন্ট বৈঠকে বাংলাদেশ সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৩-২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সামাজিক উন্নয়ন কমিশনের (CSocD) সদস্য নির্বাচিত হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে ভারত ও সৌদি আরব নির্বাচিত হয়। Commission for Social Development (CSocD) জাতিসংঘের মূল সংস্থাগুলোর একটি যা, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিলকে (ECOSOC) সামাজিক নীতিবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করে এবং প্রধান সামাজিক উন্নয়ন বিষয়গুলো অনুসরণ করে। কমিশনটি ৪৬ সদস্য নিয়ে গঠিত

WAIPA’র আঞ্চলিক পরিচালক BIDA

২৮ মার্চ ২০২২ World Association of Investment Promotion Agencies (WAIPA)-এর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব লাভ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (BIDA)। সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত WAIPA’র স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে ২০২১-২০২৩ মেয়াদের জন্য বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। WAIPA জাতিসংঘের কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট আইন দ্বারা পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা, যা ১৯৯৫ প্রতিষ্ঠিত হয়। WAIPA ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সিগুলোর (IPA) একটি ফোরাম হিসেবে কাজ করে, যা সদস্য দেশগুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং তৈরি, বিনিয়োগ আকর্ষণ, বহিমুখী বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে।

টিকা চ্যাম্পিয়ন হলেন শেখ হাসিনা

৮ এপ্রিল ২০২২ জার্মানি এবং ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স Global Alliance for Vaccines and Immunization (GAVI) আয়োজিত Gavi COVAX AMC Summit : Break COVID Now-2022 শীর্ষক ভার্চুয়াল সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টিকা চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। করোনা টিকার কার্যক্রমে সফলতার স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রীকে এ সম্মানজনক উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

আসিয়ানাপোলের পর্যবেক্ষক পুলিশ

বাংলাদেশ পুলিশ আসিয়ানাপোলের পর্যবেক্ষকের মর্যাদা পেয়েছে। ১-৫ মার্চ ২০২২ কম্বোডিয়ার নমপেনে সংগঠনের ৪০তম বার্ষিক সম্মেলনে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ ও আসিয়ানাপোলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়, যা সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশসহ নয়টি সংস্থার আসিয়ানাপোলের পর্যবেক্ষকের মর্যাদা রয়েছে। আসিয়ান সদস্যভুক্ত দেশগুলো নিজেদের মধ্যে পুলিশি সহযোগিতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ প্রতিরোধ ও মোকাবিলার জন্য ১৯৮১ সালে আসিয়ানাপোল গঠন করা হয় ।

পল্লি উন্নয়নে আন্তর্জাতিক পদক লাভ

পল্লি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে অসামান্য অবদানের জন্য ‘আজিজ-উল-হক রুরাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড-২০২২’ লাভ করে ‘বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি’ (BARD)। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমন্বিত পল্লি উন্নয়ন কেন্দ্র (CIRDAP) ২০২১ সালে সংস্থাটির প্রথম প্রধান নির্বাহী আজিজ-উল-হকের সম্মানে পদকটি চালু করে। ২০২১ সালে এ পদক পান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গণহত্যার শিকার শহীদদের দেহাবশেষ সমাহিত

১১ এপ্রিল ২০২২ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ঢাকার মিরপুরের মুসলিম বাজার বধ্যভূমি থেকে উদ্ধার হওয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের দেহাবশেষ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের অসংখ্য বধ্যভূমিতে বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞ চালায়। মিরপুরের মুসলিম বাজার বধ্যভূমি এদের মধ্যে অন্যতম। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের মদদপুষ্ট রাজাকারদের হিংস্রতা যে কত ভয়াবহ ছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় ২৭ জুলাই ১৯৯৯ মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের নূরী মসজিদ সংস্কারের কাজ করার সময়। সেখানে কূপ খনন করলে বেরিয়ে আসে ১৯৭১ সালের সেই সব হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিচিহ্ন। মানুষের মাথার খুলি ও হাড়গোড়ের সঙ্গে বেরিয়ে আসে চুলের বেণি, ওড়না, কাপড়ের অংশবিশেষসহ শহীদদের বিভিন্ন ব্যবহার্য সামগ্রী। উদ্ধার করা হাড় ও খুলিগুলো ১৯৭১-এর গণহত্যার নিদর্শন কি না, তা নিশ্চিত করতে ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির উদ্যোগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। শহীদদের রক্ত সম্পর্কের আত্মীয়স্বজনের ‘টিস্যু স্যাম্পল’ নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা করা হয়। পরে দেহাবশেষগুলোর কিছু মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং কিছু সেনাবাহিনীর জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য দেওয়া হয়। অবশিষ্ট দেহাবশেষগুলো সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সম্মানজনকভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের কাজ সম্পন্ন হয়।

১১০০ বছর আগের স্থাপনার সন্ধান

মুন্সিগঞ্জের নাটেশ্বর দেউলে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে আটটি স্পোকযুক্ত ধর্মচক্র আবিষ্কৃত হয়েছে। নাটেশ্বরে পঞ্চমবারের মতো অষ্টকোণাকৃতির স্তূপ পাওয়া গেল। অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশন ও ঐতিহ্য অন্বেষণের উৎখননের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম তাৎপর্যপূর্ণ এ ধর্মচক্র আবিষ্কৃত হয়। ২০১৩-১৪ সাল থেকে নাটেশ্বরে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজ শুরু করা হয়। পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্করের (৯৮০-১০৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) জন্মভূমি বিক্রমপুরের নাটেশ্বর দেউলে সম্প্রতি আবিষ্কৃত প্রতীকী স্থাপত্যগুলো দেখে মনে হয়, প্রায় ১,১০০ বছর আগে বিক্রমপুরে বৌদ্ধধর্ম ও দর্শনের অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী চিন্তাধারা বিকাশ লাভ করে। আবিষ্কৃত আটটি স্পোকযুক্ত এ ধর্মচক্রকে সূর্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এর মাধ্যমে বৌদ্ধ দর্শনের অষ্টাঙ্গিক মার্গ— সৎবৃষ্টি, সৎসংকল্প, সবাক্য, সৎকর্ম, সজীবিকা, সৎচিন্তা, সঠিক চৈতন্য ও সংখ্যান প্রতীকীরূপে প্রতিফলিত হয়।

মারমা-বাংলা ভাষার প্রথম অভিধান

বান্দরবানে মারমা-বাংলা ভাষার প্রথম অভিধানের মোড়ক উন্মোচন করা হয় । মারমা-বাংলা অভিধানটি সংকলন করেন রোয়াংছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জুয়েল বড়ুয়া। তিনি ২০১৭ সালে সংকলনের কাজ শুরু করেন। অভিধানে মারমা ভাষার শব্দগুলো মারমা ও বাংলা বর্ণে লেখা হয়। এরপর সব মারমা শব্দের বাংলায় অর্থ দেওয়া হয় । অন্য ভাষার যারা মারমা ভাষা শিখতে আগ্রহী, তারা খুব সহজে ভাষাটি শিখতে পারবেন। বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলায়, ভারত ও মিয়ানমারে মারমাদের মোট জনসংখ্যা প্রায় তিন লাখ। এদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামেই রয়েছে প্রায় পৌনে দুই লাখ ।

মারমা ভাষার প্রথম চলচ্চিত্র

১৮ মার্চ ২০২২ বান্দরবানে মারমা ভাষার প্রথম চলচ্চিত্র ‘তংস্মাসে’র (গিরিকন্যা) প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়। ‘গিরিকন্যা’ চলচ্চিত্রের প্রযোজক ও কাহিনিকার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মং ঊষা থোয়াই এবং পরিচালক প্রদীপ ঘোষ।

দেশের ৩৭তম নদীবন্দর

The Ports Act, 1908 (Act No. XV of 1908)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নদীবন্দর ঘোষণা করে থাকে। ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৬০ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশে) প্রথম ৬টি স্থানকে নদীবন্দর ঘোষণা করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মোট ৩৬টি স্থান নদীবন্দর ঘোষিত হয়। আর সর্বশেষ ৫ এপ্রিল ২০২২ গাজীপুরকে দেশের ৩৭তম নদীবন্দর ঘোষণা করা হয়।

ঢাকায় এবার পাতাল রেল

ফ্লাইওভার, উড়ালপথ, মেট্রোরেলের পর যানজট নিরসনে রাজধানীতে পাতাল রেলপথ (সাবওয়ে) নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেয় সরকার। ২০৫০ সালের মধ্যে ১১টি পথে ২৫৮ কিলোমিটার পাতাল রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্য খরচ ধরা হয় ৮,৮৬, ২০৫ কোটি টাকা । পাতাল রেলে ভিত্তি ভাড়া ২২ টাকা ৬০ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারের জন্য দুই টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 সমীক্ষা যাচাই

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (BBA) নেতৃত্বে স্পেনের প্রতিষ্ঠান টেকনিকা ওয়াই প্রয়েক্টস এস এ (টিপসা), জাপানের পাডেকো, বিসিএল অ্যাসোসিয়েটস, কেএসসি এবং বেটস যৌথভাবে সাবওয়ের সমীক্ষা করেছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ৯০ কিলোমিটার সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক নকশা প্রণয়নে ২১৯ কোটি টাকার চুক্তি হয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৯, ২০৩৯ এবং ২০৪৯ সাল এ তিন ধাপে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ২২.৮৯ কিলোমিটার রুট-বি (গাবতলী-বসুন্ধরা), ৩৪.৯২ কিলোমিটার রুট-ও (টঙ্গী-ঝিলমিল), ২৫.২২ কিলোমিটার রুট-এস (কেরানীগঞ্জ-কাঁচপুর) এবং ৪৫.১১ কিলোমিটার রুট-টি (নারায়ণগঞ্জ উত্তরা সেক্টর-১৩) নির্মাণ করা হবে।

দেশের বৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্ৰ

৩১ মার্চ ২০২২ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে বায়ু শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের বৃহৎ বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয় কক্সবাজারের খুরুশকুল পিএমখালী চৌফলদন্ডী ইউনিয়নে। বেসরকারি উদ্যোগে ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি US-DK Green Energy (BD) Ltd নির্মাণ করবে। প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ করা হবে ১১,৬৬,১০,০০০ মার্কিন ডলার। এ প্রকল্পে ১২০ মিটার উচ্চতায় এনভিশনের ইএন ১৫৬ মডেলের ২২টি টারবাইন স্থাপন করা হবে। প্রতিটি টারবাইনের উৎপাদন ক্ষমতা ৩.০ মেগাওয়াট এবং রোটরের ব্যাস ১৫৬ মিটার। ২০২২ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পটির কমিশনিং করা হবে । বায়ুবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের প্রধান ও পূর্বশর্ত বায়ুবিদ্যুতের সম্ভাব্যতা যাচাই বা Wind Resource Assessment। এরই পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (SREDA) কর্তৃক ভোলার চরফ্যাশন, তজুমদ্দিন এবং কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় তিনটি মেট টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বিদ্যুৎ বিভাগ বায়ুবিদ্যুৎ বিষয়ে নিজস্ব কারিগরি সক্ষমতায় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ২০০৫ সালের দিকে ফেনীর সোনাগাজীতে মুহুরী নদীর বাঁধ এলাকায় দেশের প্রথম বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। এছাড়া কক্সবাজারের কুতুবদিয়া এবং চট্টগ্রামের স্বন্দ্বীপে আরও দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। কক্সবাজারে নতুন প্রকল্পটি চালু হলে দেশে মোট। বায়ুভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়াবে চারটি।

বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম

১৯৪০ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবস্থিত বাগানটি রাজা শসিতকান্ত আচার্যের কাছে ব্রিটিশরা বিক্রি করে দেয় যা, পরে ‘কুজ্জা রাজার বাগান’ নামে পরিচিত। ১৯৬৬ সালের দিকে বাগানটি পরিচর্যা ও দেখাশোনার দায়িত্ব পায় ঢাকার হর্টিকালচার সেন্টার। সে সময় বাগানে ছোট ছোট আমগাছ লাগানো হয়। প্রায় ৫ থেকে ৬ বছর থাকার পর তারা বাগান ছেড়ে দেয়। এরপর ঐতিহ্যবাহী বাগানটি রক্ষার উদ্যোগ নেয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। দেশে প্রথমবারের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে। আমের জন্য জাদুঘর। যার নাম দেওয়া হয় ‘বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম’ জেলার ৩০০ জাতের আমগাছ এ বাগানে ২০টি জোনে ভাগ করে সংরক্ষণ করা হবে। ২০২২ সালেই শেষ হবে লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়ামের নির্মাণকাজ। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে ম্যাংগোপিডিয়া নামে ১০০টি প্রচলিত ও জনপ্রিয় আমের একটি প্রকাশনা অ্যালবামও প্রকাশ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে প্রায় ৮০০ জাতের আম। এর মধ্যে আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জেই রয়েছে ৩৫০ জাতের আম।

পদ্মার পাড়ে শেখ রাসেল সেনানিবাস

২৯ মার্চ ২০২২ শরীয়তপুরের জাজিরায় শেখ রাসেল সেনানিবাস উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’-এর আলোকে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা করা হয় । মাওয়া ও জাজিরা দুই প্রান্ত মিলিয়ে ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড হিসেবে গড়ে তোলা হয় এ সেনানিবাস । পদ্মার তীরের ২৩৫ একর জমির ওপর ১৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেনানিবাসে তিনটি প্রধান ইউনিট রয়েছে । সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্য সকল প্রকার প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক সুবিধা তৈরি করা হয়েছে শেখ রাসেল সেনানিবাসে। এ সেনানিবাস নিয়ে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের তিনজনের নামে তিনটি সেনানিবাস নামকরণ করা হলো। অন্য দুটি (i) শেখ হাসিনা সেনানিবাস, লেবুখালী, পটুয়াখালী (৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮) এবং (ii) বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস, ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল (২৯ জানুয়ারি ২০১৫)।

বজ্রপাতের পূর্বাভাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণ বিজ্ঞানী বজ্রপাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগে থেকে বজ্রপাতের সম্ভাব্য এলাকা ও সময় চিহ্নিত করার মডেল উদ্ভাবন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক পাপ্পু পাল এবং গবেষণা সহকারী খান মো. গোলাম রব্বানী উদ্ভাবিত এ মডেলে ২৪ ঘণ্টা আগেই বজ্রপাতের ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যাবে। ২৩ মার্চ ২০২২ আন্তর্জাতিক আবহাওয়া দিবস উপলক্ষে আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সম্মেলন কক্ষে ‘আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড আর্লি অ্যাকশন : লাইটেনিং ডাইজেস্টার’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।

দারকিনা মাছের প্রজনন উদ্ভাবন

দেশীয় ও বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির মাছের প্রজনন ও চাষাবাদ কৌশল উদ্ভাবনের পর বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BFRI) বিজ্ঞানীরা এবার অধিক পুষ্টিসমৃদ্ধ দারকিনা মাছের কৃত্রিম প্রজনন কৌশল উদ্ভাবন করেন। ২০২২ সালের মার্চে BFRI’র ময়মনসিংহের স্বাদুপানি কেন্দ্রে এ সফলতা অর্জিত হয়। আবহমান বাংলার অতি পরিচিত দেশীয় প্রজাতির ছোট একটি মাছ দারকিনা (বৈজ্ঞানিক নাম esomus danricus)। এ মাছটিকে স্থানীয়ভাবে ডাইরকা, ডানখিনা, দারকিনা, ডানকানা, দারকি, দারকা, চুরুনি, দাইরকা ইত্যাদি নামে ডাকা হয়। মাছটি দক্ষিণ এশিয়া বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত (গাঙ্গেয় প্রদেশ এবং আসাম), মিয়ানমার, পাকিস্তান, নেপাল ও থাইল্যান্ডে পাওয়া যায় । বহুল পরিচিত ও সুস্বাদু এ মাছটি এখন বিলুপ্তির পথে। এ মাছের পুষ্টিগুণ অন্যান্য ছোট মাছের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতি ১০০ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য মাছে ৬৬০ মাইক্রোগ্রাম আরএই ভিটামিন-এ, ৮৯১ মি.গ্রাম ক্যালসিয়াম, ১২ মি.গ্রাম আয়রন এবং ৪ মি.গ্রাম জিংক পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিসের নতুন কারণ

২৩ মার্চ ২০২২ রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে আয়োজিত এক সম্মেলনে বলা হয়, ডায়াবেটিস হওয়ার নতুন একটি কারণ আবিষ্কার করেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। গবেষণার ফলাফল ইতোমধ্যে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত হয়। ডায়াবেটিসের প্রত্যক্ষ কারণ টক্সিন নিয়ন্ত্রিত নিম্ন গ্রেডের সিস্টেমিক প্রদাহ। যার ফলে গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন ইনসুলিনের উৎপাদন ও কার্যক্ষমতা কমে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। মানবদেহের অন্ত্রে থাকা মৃত ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীরের অংশ টক্সিন (এন্ডোটক্সিন) হিসেবে কাজ করে । এই টক্সিন সাধারণত মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। তবে উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার, ফ্রুকটোজ বা অ্যালকোহল টক্সিনকে রক্ত প্রবাহে সঞ্চালিত হতে সহায়তা করে। এর ফলে নিম্ন গ্রেডের সিস্টেমিক প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যা ডায়াবেটিস সৃষ্টির কারণ। মানবদেহের অন্ত্রে থাকা ইন্টেস্টিনাইল অ্যালকালাইন ফসফাটেস নামক এনজাইম এ টক্সিনকে ধ্বংস করে। শরীরে এ এনজাইমের ঘাটতি হলে অন্ত্রে অতিরিক্ত টক্সিন জমা হয়। তাই যাদের শরীরে এর পরিমাণ কম, তাদের এ এনজাইম খাওয়ানো সম্ভব হলে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সড়ক নির্মাণে সাশ্রয়ী কৌশল

সম্প্রতি বাংলাদেশের একদল প্রকৌশলী সড়ক নির্মাণে নতুন কৌশল উদ্ভাবন করেন। তারা সাশ্রয়ী ও টেকসই সড়ক নির্মাণে এপ্রিল ২০২১-জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত গবেষণা করেন। গবেষণা দলের নেতৃত্বে ছিলেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ফজলে রাব্বী । উদ্ভাবিত এ কৌশলের নাম ‘শেখ হাসিনা রোড টেকনোলজি’ করার প্রস্তাব করা হয় । তারা ‘একরিলিক পলিমার নামের একটি কেমিক্যাল মাটি ও বালির সঙ্গে সমন্বয় করে টেকসই, সাশ্রয়ী ও মজবুত সড়ক নির্মাণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন। প্রচলিত পদ্ধতিতে সড়ক বা সড়কবাঁধ নির্মাণের চেয়ে নতুন পদ্ধতিতে সময় কম লাগবে এবং নির্মাণ ব্যয়ও সাশ্রয়ী। এ পদ্ধতিতে সড়ক নির্মাণ কৌশলে ৬০-৭০% দেশি উপকরণ ব্যবহার সম্ভব। এতে ১৫-২০% খরচ কমবে। এ পদ্ধতিতে ইটের ব্যবহার নেই। ফলে ইট পোড়ানো ধোঁয়া ও পরিবেশ দূষণ রোধ করা যাবে। সংরক্ষিত হবে কৃষি জমি।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনশুমারি

২৯ অক্টোবর ২০১৯ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। ২-৮ জানুয়ারি ২০২১ দেশের ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারির কারণে ১০ মাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৫-৩১ অক্টোবর ২০২১ । অবশেষে ১৫-২১ জুন ২০২২ দেশব্যাপী ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা অনুষ্ঠিত হবে। দেশে এবারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জনশুমারি।

আদমশুমারি এখন জনশুমারি: একটি দেশে সাধারণত দশ বছর পরপর জনশুমারি হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম ‘আদমশুমারি ও গৃহগণনা’ অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম ‘আদমশুমারি ও গৃহগণনা’ অনুষ্ঠিত হয় । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘পরিসংখ্যান আইন, ২০১৩’ অনুযায়ী, আদমশুমারি ও গৃহগণনা-এর নাম পরিবর্তন করে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ করা হয়। ১০ বছরের ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হবে ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা।

স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হচ্ছে a2i

Aspire to Innovate (a2i) প্রকল্পটিকে স্থায়ী কাঠামো দিতে অথরিটি বাদ দিয়ে এজেন্সি যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৮ মার্চ ২০২২ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘এজেন্সি টু ইনোভেইট (এটুআই), আইন ২০২২’-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। a2i’র ১৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদ থাকবে, এর সভাপতি থাকবেন আইসিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী । এজেন্সির একজন প্রধান নির্বাহী থাকবেন। ওপেন মার্কেট থেকে তাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে। “Taking services to citizen’s doorsteps স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে Access to Information (a2i) প্রোগ্রামের যাত্রা শুরু হয়। ১ জুলাই ২০১৮ a2i’র প্রোগ্রাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে নেওয়া হয় । ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে a2i’র নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় Aspire to Innovate (a2i) ।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ইতিহাস

ব্রিটিশ শাসিত ভারতের তৎকালীন পূর্ববঙ্গ অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার ভাওয়াল পরগনার রাজা পূর্ববঙ্গের প্রথম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী হিসেবে পরিচিত। ঊনবিংশ শতাব্দীতেই তিনি সর্বপ্রথম বিলাত থেকে আমদানি করা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রাজবাড়ি আলোকিত করেন। এরপর ১৯০১ সালে ঢাকার নবাব আহসানউল্লাহর বাসভবনে একটি জেনারেটর স্থাপন করা হয়। ৭ ডিসেম্বর ১৯০১ মি. বোল্টন নামে জনৈক ব্রিটিশ নাগরিক আহসান মঞ্জিলে সুইচ টিপে প্রথম বিদ্যুৎ সরবরাহের সূচনা করেন। নবাব আহসানউল্লাহর অর্থানুকূল্যে অক্টাভিয়াস স্টিল নামক কোম্পানি তৎকালীন ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক ও আহসান মঞ্জিলসহ পর্যায়ক্রমে ঢাকার কয়েকটি অভিজাত ভবনকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার আওতায় এনেছিল। ১৯১৯ সালে ‘ডেভকো’ নামক ব্রিটিশ কোম্পানির মাধ্যমে ঢাকায় সীমিত আকারে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার প্রথম বাণিজ্যিক বিকাশ শুরু হয়। ১৯৩৩ সালে একই কোম্পানি ঢাকার পরীবাগে প্রায় ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ‘ধানমন্ডি পাওয়ার হাউজ’ নির্মাণ করে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ বিতরণ শুরু করে। দেশভাগের পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য ১৯৪৮ সালে গঠিত হয় ইলেক্ট্রিসিটি ডাইরেক্টরেট । ১৯৫৭ সালে সরকার দেশের সকল বেসরকারি পাওয়ার হাউজ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন অধিগ্রহণ করে। ১৯৫৯ সালে Water & Power Development Authority (WAPDA) গঠনের পর বিদ্যুৎখাতে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়। ১৯৬০ সালে ইলেক্ট্রিসিটি ডাইরেক্টরেট WAPDA’র সাথে একীভূত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ৩১ মে ১৯৭২ রাষ্ট্রপতির আদেশ বলে (পিও ৫৯) সাবেক WAPDA থেকে পৃথক হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণের সমন্বিত সংস্থা হিসেবে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB)।

উৎপাদন

জাতীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্য বিমোচন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিদ্যুৎ একটি দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার বিদ্যুৎখাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার প্রদান করেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পাশাপাশি কয়লা, তরল জ্বালানি, ডুয়েল-ফুয়েল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি। ও নিউক্লিয়ার এনার্জিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুখাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে অনুকূল অর্থবছরে বিদ্যুতের স্থাপিত পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ২০২০-২১ ক্ষমতা ২৫,২৩৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রিডভিত্তির উৎপাদন ক্ষমতা ২২,০৩১ মেগাওয়াট, ক্যাপটিভ ২,৮০০ মেগাওয়াট ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি (অফগ্রিড) ৪০৪ মেগাওয়াট। গ্রিডভিত্তিক উৎপাদনের মধ্যে সরকারি খাতে ১০,১৪৬ মেগাওয়াট, বেসরকারি খাতে ৯,৪৮১ মেগাওয়াট, যৌথ উদ্যোগে ১,২৪৪ মেগাওয়াট এবং বিদ্যুৎ আমদানি ১,১৬০ মেগাওয়াট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে দেশে গ্যাস টারবাইন, রেসিপ্রোকেটিং ইঞ্জিন, স্টিম টারবাইন, কসাইড সাইকেল পানিভিত্তিক ও সোলার ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে।

আমদানি

দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে প্রতিবেশী দেশ থেকে আন্তঃদেশীয় সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। ৫ অক্টোবর ২০১৩ শুরু হয় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি। বর্তমানে প্রতিদিন ভারতের বহরমপুর হতে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে ১,০০০ মেগাওয়াট এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পালটানা থেকে। কুমিল্লা হয়ে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়। সেই সাথে নেপাল ও ভুটানের সাথে যৌথ মালিকানায় হাইড্রো পাওয়ার প্রকল্প। স্থাপন এবং বিদ্যুৎ আমদানি করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

সঞ্চালন

দেশের বিদ্যুৎখাতে দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিদ্যুৎখাত সংস্কারের আওতায় কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর অধীনে ২১ নভেম্বর ১৯৯৬ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিঃ (PGCB) প্রতিষ্ঠিত হয়। PGCB নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে বিদ্যুৎ সঞ্চালন নেটওয়ার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং উক্ত সঞ্চালন সিস্টেম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ আন্তঃদেশীয় সঞ্চালন গ্রিড লাইন নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে থাকে।.PGCB সারাদেশে অবস্থিত বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ৪০০ কেভি, ২৩০ কেভি এবং ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইন ও উপকেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ প্রান্তে পৌছে দিয়ে থাকে।

৪ মেগাপ্রকল্প

বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার ৪টি মেগাপ্রকল্প হাতে নিয়েছে যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে প্রকল্পগুলো।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্ৰ

১৯৬১ সালে প্রথম দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৩০ নভেম্বর ২০১৭ পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম ও একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল পর্বের কাজের উদ্বোধন করা হয়। এর মাধ্যমে ৩২তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্ব পরমাণু ক্লাবে যুক্ত হয়। ১,০৬২ একর জমিতে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন ও নির্মাণ কাজ করছে রাশিয়ার ‘রোসাটম’। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট। ২০২৪ সালের মধ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ম ইউনিটের ১,২০০ মেগাওয়াট। ও ২০২৫ সালের মধ্যে ২য় ইউনিটের ১,২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত হবে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ১,১৩,০০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়।

 

পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

দেশে উৎপাদনে আসা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নির্মিত পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরি হয়েছে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ উদ্যোগে। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে ৬৬০ মেগাওয়াটের মোট ২টি ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,৩২০ মেগাওয়াট। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসে ১৫ মে ২০২০ আর দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদন শুরু করে ৮ ডিসেম্বর ২০২০। ২১ মার্চ ২০২২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ কেন্দ্রে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবেশবান্ধব সর্বাধুনিক প্রযুক্তি । পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম দেশ হিসেবে আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল টেকনোলজি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ উদ্যোগে বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার সাপমারি-কাটাখালী ও কৈগদাশকাঠী এলাকায়। ১,৮৩৪ একর জমিতে নির্মিত হচ্ছে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,৩২০ মেগাওয়াট সুন্দরবন থেকে ১৪ কিলোমিটার উত্তরে পশুর নদীর তীর ঘেঁষে বিদ্যুৎ প্রকল্পটি নির্মিত হচ্ছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬,০০০ কোটি টাকা।

মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্ৰ

কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রথম ইউনিট অর্থাৎ ৬০০ মেগাওয়াট এবং জুলাইয়ে দ্বিতীয় ইউনিট অর্থাৎ আরও ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫১,৮৫৫ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে প্রধান ঋণ প্রদানকারী জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা JICA।

বিতরণ

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (BREB), ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (DPDC), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (DESCO), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (WZPDCL) এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিঃ (NESCO)। সবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে বিতরণ কোম্পানিসমূহ বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

শতভাগ বিদ্যুৎ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষে সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়। ২০১৬ সালে শেখ হাসিনার উদ্যোগ, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ’ শীর্ষক কর্মসূচি শুরু হয়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা হয়। ২১ মার্চ ২০২২ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। দেশে বর্তমানে ৪ কোটি ২২ লাখ বিদ্যুৎসংযোগ রয়েছে, যার আওতায় শতভাগ জনগণ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। এক যুগ আগে বিদ্যুৎ গ্রাহকসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। এ মধ্যবর্তী সময়ে ২ কোটি ১৩ লাখের বেশি বিদ্যুৎসংযোগ বেড়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫২টিতে। দেশের যেসব স্থানে গ্রিডের বিদ্যুৎ সরাসরি পৌঁছানো যায়নি সেখানে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সংযোগ এবং সোলার মিনিগ্রেডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা

১৫২টি

বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা

২৫,৫৬৬ মে.ও.

সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন (১৬ এপ্রিল ২০২২)

১৪,৭৮২ মে.ও.

মোট সঞ্চালন লাইন

১৩,৪০২ সা.কি.মি.

গ্রিড সাব-স্টেশন ক্ষমতা

৫৫,৫৪৭ এমডিএ

বিদ্যুৎ আমদানি

১,১৬০ মে.ও.

বিদ্যুতায়িত বিতরণ লাইন

৬,২২,০০০ কি.মি.

বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী

১০০%

মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন (২০২০-২০২১ অর্থবছর)

৫৬০ কি.ও.ঘণ্টা

বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা

৪,২২,০০,০০০ / ৪,২২,০০,০০০

বিতরণ সিস্টেম লস (২০২০-২০২১ অর্থবছর)

৮.৪৮%

দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে। বিদ্যুতায়ন হয়েছে সব শহর, গ্রাম, চর, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা। স্বাধীনতার পর ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের জনগোষ্ঠীর ৪৭ শতাংশ বিদ্যুতের সুবিধা পায়। এরপর গত এক যুগে বাকি ৫৩ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎসংযোগের আওতায় এসেছে। এক যুগে এ অভাবনীয় সাফল্যের মাধ্যমে সব নাগরিককে বিদ্যুতের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করল সরকার।

Leave a Reply