বাংলাদেশ বিষয়াবলি

কালানুক্রমিক ঘটনাবলি

০১.০৫.২০২২

♦  মহান মে দিবস পালিত।

০৩.০৫.২০২২

♦  পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত।

০৫.০৫.২০২২

♦  অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত শ্রীলংকাকে ২০ কোটি টাকার ওষুধ সামগ্রী দেয় বাংলাদেশ।

০৬.০৫.২০২২

♦  বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ঐতিহাসিক ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্ট’ অনুষ্ঠিত।

০৮.০৫,২০২২

♦  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬১তম জন্মবার্ষিকী বা রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত।

১০.০৫.২০২২

♦  জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫,৮২৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প অনুমোদন।

১৩.০৫.২০২২

♦  ‘পতন’ উপন্যাসের লেখক সৈয়দ শামসুল হক।

১৪.০৫.২০২২

♦  আজ ড. আনিসুজ্জামানের ২য় এবং কথাশিল্পী শওকত ওসমানের ২৪ তম মৃত্যুবার্ষিকী।

১৫.০৫.২০২২

♦  গম বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য। দেশে প্রায় ৩ কোটি টন চাল ও ৭৫ লাখ টন গমের চাহিদা রয়েছে। দেশে ১১ লাখ টন গম উৎপাদিত হয়। 

♦  বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে এ পর্যন্ত ১৮টি উন্নত জাতের আম উদ্ভাবিত হয়েছে।

♦  কৈলাশটিলা গ্যাস ক্ষেত্রটি সিলেটে অবস্থিত।

♦  জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন আইন করা হয় ২০০৪ সালে।

♦  ২০২২ সালের ১৫ থেকে ২১ জুনে ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহ গণনা পরিচালিত হবে।

♦  বর্তমানে দেশে মোট প্রজনন হার ২.৩ শতাংশ।

১৬.০৫.২০২২

♦  প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের-২০২১ সালের বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় শুমারি তথ্য অনুসারে শিক্ষার্থী ঝড়ে পড়ার হার কমেছে ৩ শতাংশ।

♦  বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের হিসেব অনুযায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে পাম ও সয়াবিন তেল আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২২৮ কোটি ডলার বা প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

১৭.০৫.২০২২

♦  বোরো মৌসুমে উৎপাদিত হয় মোট চালের প্রায় ৫৫%।

♦  টিসিবির পূর্ণরূপ → ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ।

♦  মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ১৭ মে।

♦  বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসেবে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের মতো।

♦  বাংলাদেশে বছরে গমের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। এই চাহিদার ৬৪-৬৭ লাখ টনই আমদানি করতে হয়।

১৮.০৫.২০২২

♦  শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত।

♦  রাজশাহীর বাঘায় ‘বাঘাশাহী’ নামে নতুন জাতের আম পাওয়া গেছে। বাঘা উপজেলায় পাওয়া যাওয়ায় এর নাম দেয়া হয়েছে ‘বাঘাশাহী।

১৯.০৫.২০২২

♦  বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে গড়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গঠিত কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।

♦  একাদশ জাতীয় সংসদের ১৮তম অধিবেশনে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে আগামী ৯ জুন, ২০২২।

♦  বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি (জিআই) সনদ পেয়েছে।

♦  বাংলাদেশের প্রথম ও ইতিহাসের ৯১তম খেলোয়াড় হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ৫ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন মুশফিকুর রহিম।

২১.০৫.২০২২

♦  ভেনামি চিংড়ির জাত।

♦  দারিদ্র্যের হার বেশি কুড়িগ্রাম জেলায় (৭০.৮%) এবং রংপুর বিভাগে (৪৭.২%)।

♦  সংখ্যায় বৃহত্তম উপজাতি গোষ্ঠী চাকমা (২য়- মারমা, ৩য়- সাঁওতাল)।

♦  বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম আমের রাজধানী চাঁপাই নবাবগঞ্জে অবস্থিত।

♦  সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে ভোলা জেলায়।

২২.০৫.২০২২

♦  ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।

♦  জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি পাঁচ দিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন।

২৩.০৫.২০২২

♦  প্রতি হাজার মানুষের জন্য চিকিৎসক, নার্স ও মিডওয়াইফ থাকা দরকার চারজনের বেশি। দক্ষিণ এশিয়ায় মালদ্বীপে সর্বোচ্চ ৬.৭১ এবং বাংলাদেশে মাত্র ১.১৬। বাংলাদেশের নিচে শুধু রয়েছে আফগানিস্তান ০.৭০। [সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিসংখ্যান ২০২২]

♦  কর্ণফুলী নদীর অবস্থান চট্টগ্রামে, এর উৎসস্থল মিজোরামের লুসাই পাহাড়।

♦ বাংলায় নারীদের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘বেগম’এর সম্পাদক ও প্রকাশক নূরজাহান বেগমের মৃত্যুবার্ষিকী ২৩ মে। উল্লেখ্য, তাঁর বাবা  ছিলেন বেগম এর প্রতিষ্ঠাতা ও সওগাত পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন।

♦  রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে তাকে অ্যানেমিয়া বলে এবং বেড়ে গেলে তাকে পলিসাইথেমিয়া বলে।

২৪.০৫.২০২২

♦  ব্যাংককে শুরু হওয়া জাতিসংঘের এসকাপের ৭৮তম অধিবেশনে আঞ্চলিক সংকট মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

♦  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান ২০২২ এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭৪ বছর ৩ মাস। তবে মানুষের স্বাস্থ্যকর আয়ু ৬৪ বছর ৩ মাস।

♦  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১০০ বছরে পিএইচডি করেছেন ১৮১২ জন, এমফিল করেছেন ১৬৭০ জন।

২৫.০৫.২০২২

♦  পদ্মা বহুমুখী সেতু চালু হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ জুন, ২০২২।

♦  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩ তম জন্মবার্ষিকী আজ ১১ই জৈষ্ঠ্য এবং একই সাথে এ বছর পূর্ণ হল তার কালজয়ী কবিতা ‘বিদ্রোহ’ রচনার শতবর্ষ।

♦  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক (UNHCR) হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি সাক্ষাৎ করেন।

২৬.০৫.২০২২

♦  আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা হতে যাচ্ছে ৯ জুন।

♦  গতকাল বাংলাদেশ থেকে ঘানার কাছে ‘সিভিএফ’(ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম) এর সভাপতির দায়িত্ব হস্তান্তর করেন শেখ হাসিনা।

♦  ইভিএম এর পূর্ণরূপ- ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন।

♦  ভূমধ্যসাগর দিয়ে অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের অবস্থান এখন তৃতীয়।

♦ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো, একুশে ফেব্রুয়ারি’–এর রচয়িতা ভাষাসংগ্রামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং কবি আব্দুল গাফ্‌ফর চৌধুরী।

♦  জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৩ তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপিত।

♦  ২০০০ সালে বাংলাদেশের গড় দারিদ্র্য ছিল ৪৮.৯%; দেড়যুগ পর সেটা বর্তমানে দাঁড়ায় ২০.৫% এ।

♦  বাইক্কা বিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত।

২৮.০৫.২০২২

♦  বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী-শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২৮ মে। ১৯৭৬ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

♦  নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস আজ ২৮ মে।

♦  উপন্যাস রেত সমাধি, যার অনুবাদ ‘টুম্ব অব স্যান্ড’ বইয়ের জন্য প্রথমবারের মতো ইন্টারন্যাশনাল বুকার পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় লেখক গীতাঞ্জলি শ্রী।

২৯.০৫.২০২২

♦  বরেণ্য সাংবাদিক আব্দুল গাফ্‌ফার চৌধুরী মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী করবস্থানে সমাহিত।

♦  মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-২০২১ এ সেরা অভিনেতা: ফজলুর রহমান বাবু (খাঁচার ভেতর অচিন পাখি)।

♦  সেরা অভিনেত্রী : আজমেরী হক বাঁধন (রেহানা মরিয়ম নুর)।

♦  নারীর প্রতীকী প্রতিবাদ হলো “হিম্মতি মাঈ”।

৩০.০৫.২০২২

♦  সুখী পরিবার গড়তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কল সেন্টার ‘১৬৭৬৭’।

♦  দুই বছর পর চালু হলো ভারত-বাংলাদেশ ট্রেন সার্ভিস।

♦ ঢাকা থেকে কলকাতা যায় মৈত্রী এক্সপ্রেস, খুলনা থেকে যায় বন্ধন এক্সপ্রেস। উল্লেখ্য, ১ জুন ঢাকা থেকে আরেকটি ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেস যাবে কলকাতায়।

♦  দেশে রাষ্ট্রীয় চিনিকলের সংখ্যা ১৫টি। এর মধ্যে চালু আছে বর্তমানে ৯টি।

 

আলোচিত বাংলাদেশ

পারস্য উপসাগরে ‘শান্তির শহর বাংলাদেশ’

বাংলাদেশের নামে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দেশের নানা স্থানের নামকরণ করা হয়। এবার বাংলাদেশ নামে একটি দ্বীপ গড়ে তোলা হচ্ছে। পারস্য উপসাগরে এটি নির্মাণ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। বাংলাদেশ নামের এ দ্বীপকে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ সিটি অব পিস’ বা শান্তির শহর বাংলাদেশ। মূলত দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের চিন্তাপ্রসূত প্রকল্প এটি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশ্ব মানচিত্রের আদলে ‘দ্য ওয়ার্ল্ড আইল্যান্ডস’ নামের এ দ্বীপপুঞ্জ নির্মাণ শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২০০৩ সালে নির্মাণ শুরু হয় ছোট ছোট কৃত্রিম দ্বীপের। ১০০ মিটার গড় দূরত্বের দ্বীপগুলোর আয়তন ১.৪ থেকে ৪.২ হেক্টর পর্যন্ত। ডিম্বাকৃতির দ্বীপপুঞ্জের দৈর্ঘ্য ৯ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৬ কিলোমিটার। এ দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা এবং ওশেনিয়া মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এমন সাতটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। দ্বীপগুলোর নামকরণ করা হয় বিভিন্ন দেশ ও সেসব দেশের ল্যান্ডমার্ক বা অঞ্চলের নামানুসারে।

‘WSIS’ চ্যাম্পিয়ন

২০২২ সালে ‘WSIS চ্যাম্পিয়ন’-এর স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশের ডিজিটাল ভূমি কর ব্যবস্থা। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমি (উন্নয়ন) কর ব্যবস্থা World Summit on the Information Society (WSIS) পুরস্কার প্রতিযোগিতায় ‘তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ : জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে কল্যাণে ই-সরকার’ শীর্ষক ৭ নম্বর শ্রেণিতে নির্বাচিত পাঁচটি ‘চ্যাম্পিয়ন’ উদ্যোগের একটি হিসেবে মনোনীত হয়। সেই প্রতিযোগিতায় ১৮টি ক্যাটাগরির প্রতিটিতে ৪ কিংবা ৫টি করে প্রকল্প/উদ্যোগকে ‘চ্যাম্পিয়ন’ ঘোষণা করা হয়। এই ১৮টি ক্যাটাগরির ‘চ্যাম্পিয়ন’ প্রকল্প/উদ্যোগগুলোর মধ্যে থেকে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ১টি সেরা প্রকল্প/উদ্যোগকে WSIS পুরস্কার ২০২২-এর চূড়ান্ত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর

২৭ এপ্রিল ২০২২ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা “বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ভ্রাম্যমাণ রেল জাদুঘর উদ্বোধন করেন। জাদুঘরটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন সংগ্রাম, স্বাধীনতা যুদ্ধ আর ইতিহাসের সমন্বয়ে নির্মিত হয়। সাধারণ দর্শনার্থীরা টাচ স্ক্রিনে আঙ্গুল স্পর্শ করতেই ভেসে আসবে বঙ্গবন্ধুর ছবি, ভাষণ, তার জীবনের নানা দিক-নির্দেশনা। একটি মিটারগেজ ও একটি ব্রডগেজ রেল কোচের ভেতরে প্রস্তুত করা হয় দেশের প্রথম ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের দেওয়াল জুড়ে রয়েছে ১২টি LED মনিটর, যার প্রতিটিতে ভিডিও ও স্থিরচিত্রের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর জীবনালেখ্য তুলে ধরা হয়েছে।

দেশে টাইডাল মাডফ্ল্যাট

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের টাইডাল মাডফ্ল্যাট (জেগে ওঠা ভূখণ্ড, যা জোয়ারে তলিয়ে যায়) ভূমির পরিমাণ ৯০০ বর্গ কি.মি. বেশি হয়েছে। বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) ২০১৭ ১৮ সালের ল্যান্ডস্যাট-৮ ও সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মাডফ্ল্যাটের মানচিত্র তৈরি করে। টাইডাল মাডফ্ল্যাট মানচিত্রটি উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ম্যানগ্রোভ বনায়ন ও সমুদ্র থেকে ভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা এবং ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।

মাটির নিচে প্রাচীন নিদর্শন

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুরে মাটি খুঁড়তেই মিলছে মূর্তি, টেরাকোটা, মাটির তৈরির আংটা, কড়ি ইত্যাদি। এসব নিদর্শন ১,০০০-১,২০০ বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। ১২ মার্চ ২০২২ থেকে শুরু করে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত চলে এই খননকাজ। এই অঞ্চলে বহুদিন আগে থেকেই মানুষের বসতি ছিল বলে ধারণা করা হয়। মহাকাব্য রামায়ণে কপিলেশ্বর মুনি ও বিশাল জলাভূমির বনের উল্লেখ রয়েছে। বিশিষ্ট ঐতিহাসিক সতীশচন্দ্র মিত্র তার ‘যশোহর খুলনার ইতিহাস’ গ্রন্থে কপিলমুনিতে বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও স্থানের উল্লেখ করেন। এই এলাকায় একাধিক ঢিবি থাকার কথাও বলেন। পুকুর খননের সময় এই অঞ্চলে বুদ্ধ প্রতিমা পাওয়া গিয়েছিল। কপিলমুনি বাজারের মন্দিরে থাকা বিষ্ণুমূর্তিটিও ১,২০০-১,৪০০ বছর আগের বলে ধারণা করা হয়। খননের সঙ্গে যুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি রেজাকপুরের নিদর্শনটিকে ‘কপিলমুনি ঢিবি’ নামে অভিহিত করেছেন।

ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য এখন ১০টি

২৪ এপ্রিল ২০২২ শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT) মৎস্য অধিদপ্তরকে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির GI সনদপত্র প্রদান করে। উল্লেখ্য, বাগদা চিংড়িকে ২৯ ও ৩১ শ্রেণিতে GI ১১ নম্বরে নিবন্ধিত করা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের সনদপ্রাপ্ত GI পণ্যের সংখ্যা এখন ১১টি।

GI নং

নাম

নিবন্ধিত

সনদ প্রদান

আবেদনকারী ও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান

জামদানি শাড়ী

১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

১৭ নভেম্বর ২০১৬

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (BSCIC)

বাংলাদেশ ইলিশ

১৩ নভেম্বর ২০১৬

১৭ আগস্ট ২০১৬

মৎস্য অধিদপ্তর (DoF)

চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম

২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

১৭ আগস্ট ২০১৭

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)

বিজয়পুরের সাদা মাটি

৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

২৭ জানুয়ারি ২০১৯

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নেত্রকোনা

দিনাজপুর কাটারীভোগ

৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

১৭ জুন ২০২১

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)

বাংলাদেশ কালিজিরা

৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৭

১৭ জুন ২০২১

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)

রংপুরের শতরঞ্জি

১১ জুলাই ২০১৯

১৭ জুন ২০২১

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (BSCIC)

রাজশাহী সিল্ক

২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

১৭ জুন ২০২১

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড (BSDB)

ঢাকাই মসলিন

২ জানুয়ারি ২০১৮

১৭ জুন ২০২১

বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড (BHB)

১০

রাজশাহীর ফজলি আম

৯ মার্চ ২০১৭

 

ফল গবেষণা কেন্দ্র

১১

বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি

৪ জুলাই ২০১৯

২৪ এপ্রিল ২০২২

মৎস্য অধিদপ্তর (DoF)

এ তারিখে আবেদন করে কিন্তু এখন পর্যন্ত সনদ প্রদান করা হয়নি।

গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্ট

 মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গড়তে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে আয়োজন করা হয় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ।’ সেই একই আদলে স্বাধীনতার ৫০তম বর্ষপূর্তি উদযাপনে ‘লেট দ্য মিউজিক স্পিক’ প্রতিপাদ্যে ৬ মে ২০২২ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় ‘গোল্ডেন জুবিলি বাংলাদেশ কনসার্ট’। সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়। কনসার্ট থেকে অর্জিত অর্থ সাইবার নিরাপত্তায় UNDP’র তহবিলে দেওয়া হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করে বিশ্ববিখ্যাত জার্মান ব্যান্ড দল ‘স্করপিয়নস’ এবং বাংলাদেশের ‘চিরকুট’।

১ আগস্ট ১৯৭১ নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা প্রতি বিশ্ববাসীর সমর্থন অর্জন ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে অনুষ্ঠিত হয় ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত সেতারশিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্কর এবং তার বন্ধু জর্জ হ্যারিসনের উদ্যোগে আয়োজিত কনসার্টে উপস্থিত ছিলেন ৪০ হাজার দর্শক-শ্রোতা। সেই কনসার্ট হতে প্রাপ্ত অর্থ ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশের শরণার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়।

সাহস আর সাফল্যের অন্য নাম পদ্মা সেতু

প্রমত্ত পদ্মার ওপর নির্মিত হবে একটি সেতু, এতে ঢাকার সাঙ্গে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের যোগাযোগে উন্মোচিত হবে নতুন সম্ভাবনা এ স্বপ্ন বহুদিনের। যা এখন বাস্তবে পরিণত। ২৫ জুন ২০২২ দেশের দীর্ঘতম সেতুটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

কালপঞ্জিতে পদ্মা সেতু

♦  ১৯৯৯ নিজস্ব অর্থায়নে সরকার পদ্মা সেতু তৈরির প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই করে।

♦  ২০০১ → ৪ জুলাই: তৎকালীন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক মাওয়া ঘাটে পদ্মা সেতু নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ৪ ডিসেম্বর : বিস্তারিত সমীক্ষা পরিচালনার জন্য সরকারের সাথে JICA’র চুক্তি স্বাক্ষর।

♦  ২০০৩ → পদ্মা সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে বিস্তারিত সমীক্ষার কাজ শুরু।

♦  ২০০৭ → আগস্ট : একনেকে ১০,১৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের অনুমোদন।

♦  ২০০৯ → ২ ফেব্রুয়ারি : পদ্মা সেতুর নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু করে AECOM।

♦  ২০১১ → ২৮ এপ্রিল : বিশ্বব্যাংকের সাথে বাংলাদেশ সরকারের ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর।

♦  ২০১২ → ২৯ জুন : শর্ত না মানায় ঋণচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেয় বিশ্বব্যাংক • ৪ জুলাই : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে বলেন, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে হবে • ৯ জুলাই : মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত।

♦ ২০১৩ → ৩১ জানুয়ারি : বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের অনুরোধ ফিরিয়ে নেয়।

♦ ২০১৪ → ২ জুন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দরপ্রস্তাব অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ১২,১৩৩ কোটি ৪০ লাখ টাকায় পদ্মা সেতুর মূল কাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত • ১৭ জুন : বাংলাদেশের সাথে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড • ৭ ডিসেম্বর : পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্প শুরু।

♦ ২০১৫ → ১ মার্চ : সেতুর পাইলিং কাজ শুরু করে চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড • ১২ ডিসেম্বর : মূল সেতুর    নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

♦ ২০১৭ → ৩০ সেপ্টেম্বর : পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির ওপর প্রথম স্প্যান বসানো হয়।

♦ ২০১৮ → ২৫ সেপ্টেম্বর : জাজিরা প্রান্তের ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটির মাঝের স্প্যানে রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো শুরু।

♦ ২০১৯ → ১৯ মার্চ : সড়ক স্ল্যাব স্থাপন শুরু।

♦ ২০২০ → ১০ ডিসেম্বর : মাওয়া প্রান্তের ১২ ও ১৩ নম্বর খুঁটির ওপর ৪১তম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে বাস্তবে রূপ নেয় পদ্মা সেতুর পুরো অবকাঠামো।

♦ ২০২১ → ১০ আগস্ট : ‘পদ্মা সেতু উত্তর’ থানার গেজেট প্রকাশ

২৩ আগস্ট পদ্মা সেতুর ওপর সর্বশেষ রোড স্ল্যাব বসানো হয়।

২৪ আগস্ট : ‘পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার গেজেট প্রকাশ।

১০ নভেম্বর : পদ্মা সেতুর ৪০ নম্বর খুঁটির কাছে কার্পেটিং বা পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু।

২৫ নভেম্বর : ল্যাম্প পোস্ট স্থাপন শুরু।

♦ ২০২২ → ২৯ মার্চ : সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে শরীয়তপুরের জাজিরায় শেখ রাসেল সেনানিবাস উদ্বোধন।

১৮ এপ্রিল : পদ্মা সেতুর ৩৬তম স্প্যানে শেষ ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়।

২৯ এপ্রিল : মূল সেতুর কার্পেটিংয়ের কাজ সম্পন্ন।

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প

১৪ অক্টোবর ২০১৬ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরেই পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পে। অর্থায়নে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল ২০১৮ চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে চীনা এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২২ মে ২০১৮ প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়। ১৪ অক্টোবর ২০১৮ ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। এই রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ১৭২ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২৩ কিলোমিটার হবে পুরোপুরি এলিভেটেড (উড়াল)। ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ প্রকল্পের আওতায় মোট ২০টি রেলস্টেশন নির্মিত হবে। এর মধ্যে পুনর্নির্মিত হবে ৬টি ও নতুন হবে ১৪টি। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ পদ্মা, বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, আড়িয়াল খাঁ, মধুমতি, নবগঙ্গা, ভৈরব ও চিত্রা নদী পেরিয়ে যাবে।

প্রকল্প এলাকা

মতিঝিল, সূত্রাপুর, ডেমরা, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা); ফতুল্লা (নারায়ণগঞ্জ); সিরাজদিখান, শ্রীনগর, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ); জাজিরা (শরীয়তপুর); শিবচর (মাদারীপুর); ভাঙ্গা, নগরকান্দা (ফরিদপুর); মুকসুদপুর, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ); লোহাগড়া, নড়াইল সদর (নড়াইল); বাঘারপারা, যশোর সদর (যশোর)।

যুক্ত করবে ২১ জেলা

পদ্মা সেতু রাজধানী ঢাকার সাথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলাকে যুক্ত করবে। এগুলো হলো- খুলনা বিভাগের ১০টি জেলা- খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা; বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলা- বরিশাল, পিরোজপুর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা ও ঝালকাঠি; ঢাকা বিভাগের ৫টি জেলা- ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী।

পদ্মা সেতু সুবিধাসমূহ

পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলা রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য অঞ্চলের সাথে যুক্ত হবে। একই সাথে শিল্পায়নসহ মোংলা ও পায়রা বন্দরের কার্যক্রমে গতি বাড়বে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অপটিক্যাল ফাইবার লাইন পরিবহন সুবিধা পাবে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধিসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পদ্মা সেতু এশিয়ান হাইওয়ে এ এইচ-১ এবং ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় এ সেতু চালু হলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থাসহ দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিবছরে সার্বিক প্রভাব

দেশের GDP’র হার বাড়বে ১.২৩%।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমের GDP বাড়বে ২.৩%।

দারিদ্র্য বিমোচনের হার বাড়বে ০.৮৪%।

ব্যয়

২০ আগস্ট ২০০৭ অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ১০,১৬১ কোটি ৭৫ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয় ধরে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। ১১ জানুয়ারি ২০১১ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় সংশোধন করে ধরা হয় ২০,৫০৭ কোটি ২০,১৬,০০০ টাকা। ২০১৬ সালে বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২৮, ৭৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ২০১৮ সালে সেতুর মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩০,১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা।

রেকর্ডময় পদ্মা সেতু

♦ বিশ্বের গভীরতম পাইলের সেতু পদ্মা সেতু। পদ্মা সেতুর খুঁটির নিচে সর্বোচ্চ ১২২ মিটার গভীরে স্টিলের পাইল বসানো হয়। এসব পাইল তিন মিটার ব্যাসার্ধের। বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে পাইলিং প্রয়োজন হয়নি এবং এমন মোটা পাইলও বসানো হয়নি।

♦ পদ্মা সেতুতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের সক্ষমতা হলো ১০,০০০ টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি।

♦ নদীশাসনে চীনের ঠিকাদার সিনোহাইড্রো কর্পোরেশনের সাথে ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি হয়। এর আগে নদীশাসনে এককভাবে এত বড় দরপত্র আর হয়নি।

♦ কোনো নির্মাণ কাজে বিশ্বে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হয় ভার্টিক্যাল আরসিসি বোর্ড পাইলে গ্রাউটিং ইনজেক্ট স্কিন ফিকশন, যা সেতুর দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে এবং নদীর তলদেশে বহিঃভাবে শক্তি বৃদ্ধি করে। অপরটি স্টিল টিউবুলার ড্রিভেন পাইলে গ্রাউটিং ইনজেক্ট করে পাইলের তলদেশের স্কিন ফিকশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

♦ পদ্মা সেতু বিশ্বের দীর্ঘতম ট্রাস সেতু। এতদিন ট্রাস-প্রযুক্তিতে নির্মিত দীর্ঘতম সেতু ছিল ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের গোদাবরী সেতু। এ সেতুর স্প্যান সংখ্যা ২৭। ট্রাস সেতু মূলত ভার বহন করবে বেশি, কিন্তু নির্মাণ উপকরণের ব্যবহার হবে কম। নির্মাণে নেই খুব একটা জটিলতা, নকশাও হবে দৃষ্টিনন্দন। এসব কারণে বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয় ট্রাস সেতু।

হারিয়ে যাচ্ছে মাওয়া নৌরুট

সড়কপথে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটটি ১৯৮৬ সালে চালু হয়। সফল ফেরিঘাট হিসেবেও স্থান পায় মাওয়া। তাই মাওয়াকে নদী বন্দর ঘোষণা করা হয়। প্রথমে কাওড়াকান্দির নাম ছিল চরজানাজাত ফেরিঘাট। পরবর্তীতে কাওড়াকান্দি নামকরণ হয়। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর পর ২৭ নভেম্বর ২০১৪ মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়া থেকে সড়ক পথের আড়াই কিলোমিটার দূরে শিমুলিয়ায় নৌঘাট স্থাপন করা হয়। একসময় অপরপ্রান্তের ঘাট স্থাপন করা হয় মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি। বর্তমানে নৌরুটটি শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নামেই পরিচিত। পদ্মাসেতু চালু হলে হারিয়ে যাবে এ নৌরুট।

সেতুর নাম: পদ্মা বহুমুখী সেতু

♦ ধরন: দ্বিতল (ওপরে সড়ক এবং নিচে রেলপথ)।

♦ প্রত্যক্ষভাবে জড়িত জেলা: ৩টি– মাওয়া, মুন্সীগঞ্জ, শিবচর, মাদারীপুর ও জাজিরা, শরীয়তপুর।

♦ সংযোগস্থল : মাওয়া, মুন্সীগঞ্জ ও জাজিরা, শরীয়তপুর।

♦ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন : ৪ জুলাই ২০০১।

♦ নির্মাণকাজ উদ্বোধন : ১২ ডিসেম্বর ২০১৫।

♦ দৈর্ঘ্য: ৬.১৫ কিমি (২০,১৭৭,১৭ ফুট)।

♦ গ্রস্থ ১৮.১০ মি (৫৯.৩৮ ফুট)।

♦ সংযোগ সেতু (ভায়াডাক্ট) : ৩.১৪৮ কিমি।

♦ সংযোগ সড়কসহ সেতুর মোট দৈর্ঘ্য : ৯.৩০ কিমি। অ্যাপ্রোচ রোড ১২.১১৭ কিমি। নদী শাসন ১৪ কিমি। নদীর পানি থেকে পদ্মা সেতুর উচ্চতা ১৮ মিটার (প্রায়)।

♦ লেন : ৪টি। সেতুর আয়ুষ্কাল ১০০ বছর।

♦ ভূমিকম্পের সহনীয় মাত্রা : রিখটার স্কেলে ৯।

♦ স্প্যান : ৪১টি পিলার বা পিয়ার ৪২টি।

♦ পাইল : ২৯৪টি।

♦ নির্মাণের উপাদান : কংক্রিট ও স্টিল।

♦ প্রথম স্প্যান বসানো হয়: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭ (৩৭ ও ৩৮ নম্বর পিলারে) ৪১তম বা শেষ স্প্যান বসানো হয়। ১০ ডিসেম্বর ২০২০ (১২ ও ১৩ নম্বর পিলারে) রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হয়: ২,৯১৭টি।

♦ ল্যাম্পপোস্ট: ৪১৫টি।

♦ নির্মাণকারী : চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, চীন।

♦ নদী শাসক : সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন, চীন।

♦ নির্মাণ পরামর্শক : কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন (KEC), দক্ষিণ কোরিয়া।

♦ টোল আদায়কারী ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে: কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে কর্পোরেশন ও চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড।

 পদ্মা সেতুর টোল হার

যানবাহন

টোল (টাকা)

মোটরসাইকেল

১০০

কার/জিপ

৭৫০

পিকআপ

১,২০০

মাইক্রোবাস

১,৩০০

ছোট বাস

১,৪০০

মাঝারি বাস

২,০০০

বড় বাস

২,৪০০

ছোট ট্রাক (৫ টন পর্যন্ত)

১,৬০০

মাঝারি ট্রাক (৫-৮ টন)

২,১০০

মাঝারি ট্রাক (৮-১১ টন)

২,৮০০

ট্রাক (৩ এক্সেল পর্যন্ত)

৫,৫০০

 

বাজেট ইতিবৃত্ত

বাংলাদেশে প্রথম বাজেট

৩০ জুন ১৯৭২ স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ দেশের ইতিহাসে প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন। একই সঙ্গে তিনি ১৯৭১-৭২ ও ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের প্রথম বাজেটের পরিমান ছিল মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকা। বাংলাদেশের বাজেট, উপস্থাপনে একটি ক্ষেত্রে এখনও অনন্য তাজউদ্দীন আহমদ। কারণ তিনি ছিলেন দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিবিদ বাকিরা হয় অবসরপ্রাপ্ত আমলা অথবা অর্থনীতিবিদ বা ব্যবসায়ী। স্বাধীনতা পরবর্তী মোট ১৩ জন অর্থমন্ত্রী বা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা বা রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন আর ১৩তম ব্যক্তি হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল বাজেট পেশ করেন।

মুজিব কিল্লা

১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৩ লাখ মানুষ ও কয়েক লাখ প্রাণী মারা যায়। এরপর ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে জানমাল রক্ষায় স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে দেশের উপকূলীয় এলাকায় মাটির কিল্লা নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীসময়ে জনগণের কাছে এগুলো ‘মুজিব কিল্লা’ নামে পরিচিতি পায়। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবসহ নানাবিধ কারণে বেদখল হয়ে যায় এসব কিল্লা। ২০১৮ সালে বর্তমান সরকার সেগুলো সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়। বিদ্যমান ১৭২টি মুজিব কিল্লা সংস্কার ও উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন করে নির্মাণ করা হবে ৩৭৮টি কিল্লা। ফলে মোট মুজিব কিল্লার সংখ্যা দাঁড়াবে ৫৫০টি। দেশের ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৬টি জেলার ৬৪টি উপজেলা এবং বন্যা ও নদী ভাঙনপ্রবণ ২২টি জেলার ৮৪টি উপজেলায় এগুলো নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেয়। মুজিব কিল্লা মূলত, বিশালাকায় একেকটি মাটির ঢিবি। সমতল ভূমি থেকে অন্তত ১১ ফুট উঁচু হয় একেকটি কিল্লা। এর ভিত্তি গড়া হয় মাটি ও বালু ফেলে। কিল্লার চারপাশ সিমেন্টের ব্লক দিয়ে বাঁধানো হয়। একতলা বিশিষ্ট ভবনে রয়েছে আশ্রয় নেওয়া মানুষ ও গবাদিপশুর জন্য থাকার পৃথক ব্যবস্থা। স্বাভাবিক সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি খেলার মাঠ ও হাট-বাজার, গ্রাম ও ইউনিয়ন কমিউনিটির মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বৈঠকখানা হিসেবে ব্যবহার করা হবে এ কিল্লা। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও দুর্যোগের সময় অস্থায়ী সেবাকেন্দ্র হিসেবেও এগুলো ব্যবহার করা হবে। ১৮৬টি মুজিব কিল্লা ‘এ’ ক্যাটাগরির। এর মধ্যে বিদ্যমান ৫৫টি বিল্লা পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার হবে। নতুন করে নির্মাণ করা হবে ১৩১টি। ‘বি’ ক্যাটাগরির মুজিব কিল্লা হবে ১৭১টি। এর মধ্যে বিদ্যমান ৬৩টি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হবে। নতুন করে নির্মাণ হবে ১০৮টি। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে রয়েছে ১৯৩টি মুজিব কিল্লা। এর মধ্যে ৫৪টি বিদ্যমান মুজিব কিল্লা পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার হবে, ১৩৯টি নির্মাণ হবে নতুন করে।

 

Leave a Reply