Monthly Affairs
|
|
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
Bangladesh
May, 2026
কালানুক্রমিক ঘটনাবলি
০২ মে ২০২৬
♦ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম উঁচু পর্বতশৃঙ্গ মাকালু জয় করেন বাবর আলী।
০৩ মে ২০২৬
♦ ঢাকায় চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (DC) সম্মেলন শুরু।
♦ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নবনির্বাচিত ৪৯ জন সদস্য শপথ নেন।
♦ মন্ত্রিসভায় নতুন ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন।
♦ মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরের জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
০৬ মে ২০২৬
♦ বেসরকারি স্কুল ও কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য সংশোধিত বদলি নীতিমালা জারি।
০৭ মে ২০২৬
♦ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন আহ্বান করা হয়। যা ৭ জুন বিকাল ৩টায় শুরু হবে।
♦ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত-জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনসহ পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন।
♦ মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬'-এর খসড়া অনুমোদন।
♦ ঢাকার চার পয়েন্টে পরীক্ষামূলকভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর সহায়তায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ শুরু।
০৮ মে ২০২৬
♦ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে অটোমেটেড প্রসেস কন্ট্রোল সিস্টেম স্থাপন ও সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ শেষ হয়।
♦ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী পালিত হয়।
১০ মে ২০২৬
♦ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধন।
১১ মে ২০২৬
♦ বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজিটাল বা 'ই-ঋণ' দেওয়ার নীতিমালা জারি করে।
১৩ মে ২০২৬
♦ বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে ৩,৮৩,০৮০ ডোজ পোলিও টিকা দেয় চীনের শীর্ষস্থানীয় টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশন।
১৪ মে ২০২৬
♦ নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা হালনাগাদ ২০২৬-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করে।
১৬ মে ২০২৬
♦ চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন।
আলোচিত বাংলাদেশ
পদক-পুরস্কার
খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক 'বাংলাদেশ প্রবাসী নাগরিক কমিটি-ইনক' প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে 'আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক' চালু করে। প্রতিবছর দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদের এই পুরস্কারে সম্মানিত করা হবে। ২০২৬ সালে 'আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্মৃতি স্বর্ণপদক' লাভ করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, 'মায়ের ডাক'-এর সংগঠক সানজিদা ইসলাম তুলি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) সভাপতি তামিম ইকবাল, সাহিত্যিক মাহবুব হাসান, কবি আবদুল হাই শিকদার, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, শিল্পপতি আবুল কাশেম হায়দার, ব্যবসায়ী আবদুল হক এবং খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমা বেগম।
রবীন্দ্র পুরস্কার
রবীন্দ্র সাহিত্যের গবেষণা ও সমালোচনা এবং রবীন্দ্রসংগীতের আজীবন সাধনার স্বীকৃতির স্বরূপ ২০১০ সাল থেকে বাংলা একাডেমি প্রদান করে রবীন্দ্র পুরস্কার। প্রতি বছর দুজনকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারটির অর্থমূল্য এক লক্ষ টাকা। ২০২৬ সালের রবীন্দ্র পুরস্কার লাভ করেন সংগীতশিল্পী বুলবুল ইসলাম ও অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ।
দেশ পরিক্রমা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন
♦ শুরু: ১২ মার্চ ২০২৬
♦ সমাপ্তি: ৩০ এপ্রিল ২০২৬
♦ কার্যদিবস: ২৫
♦ বিল পাশ: ৯৪টি
♦ ২৬ এপ্রিল ২০২৬: The Members of Parliament (Remuneration and Allowances) (Amendment) Bill, 2026
♦ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল ২০২৬।
♦ ৩০ এপ্রিল ২০২৬: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) বিল ২০২৬।
মাউন্ট মাকালুর চূড়ায় প্রথম বাংলাদেশি
২ মে ২০২৬ প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের পঞ্চম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মাকালু জয় করেন বাবর আলী। এই শৃঙ্গের উচ্চতা ৮,৪৮৫ মিটার। এটি নিয়ে পঞ্চমবারের মতো ৮,০০০ মিটারের বেশি উঁচু শৃঙ্গ জয় করলেন তিনি। বাংলাদেশের আর কোনো পর্বতারোহীর এমন রেকর্ড নেই। এর আগে ২০২৪ সালে এক অভিযানেই মাউন্ট এভারেস্ট ও মাউন্ট লোৎসে জয় করেন বাবর, যা কোনো বাংলাদেশির জন্য প্রথম। এরপর ২০২৫ সালে তিনি অন্নপূর্ণা-১ এবং পরে অক্সিজেন ছাড়াই মাউন্ট মানাসলু জয় করেন। অক্সিজেন ছাড়া মানাসলু জয়ও বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ছিল। নেপালের মহালাঙ্গুর হিমাল রেঞ্জে অবস্থিত মাউন্ট মাকালু আরোহণের জন্য অন্যতম কঠিন শৃঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খাড়া ও পিরামিডের মতো আকৃতির কারণে এই চূড়াকে অনেকেই 'গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান' বলে ডাকেন।
বোয়িং ক্রয় চুক্তি
৩০ এপ্রিল ২০২৬ মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানের বহরে যুক্ত হবে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ। এসব উড়োজাহাজ ক্রয়ে খরচ পড়বে ৩.৭ বি.মা.ড.। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ শুরু হতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তর সম্পন্ন হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ বিশ্বের অল্প কয়েকটি এয়ারলাইন্সের কাতারে যুক্ত হবে, যারা ড্রিমলাইনার পরিবারের তিনটি সংস্করণ ৭৮৭-৮, ৭৮৭-৯ ও ৭৮৭-১০-একসঙ্গে পরিচালনা করবে। ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং ক্রয়ের 'নীতিগত' সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভৌগোলিক নির্দেশক ট্যাগ
দেশের ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলোকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করতে ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) ট্যাগ ব্যবহারের উদ্যোগ নেয় সরকার। এ লক্ষ্যে GI ট্যাগ তৈরি করা হয়। এ ট্যাগ ব্যবহার করে পণ্যের প্রচার, বাজারজাতকরণ এবং প্রদর্শনী কার্যক্রম জোরদার করতে হবে, যাতে দেশিয় পণ্যের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ে। তবে এ ট্যাগ বিকৃতি করলে পড়তে হবে শাস্তির মুখে। ২৮ এপ্রিল ২০২৬ প্রজ্ঞাপন জারি করে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৫ সংশোধন করা হয়। এতে ট্যাগের ডিজাইন এবং এর ব্যবহার সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন যুক্ত করা হয়।
ট্যাগ ব্যবহারের নিয়মাবলি
♦ নিবন্ধিত ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের লেবেলিং ও মোড়কে GI ট্যাগ হুবহু ব্যবহার করতে হবে এবং কোনো ধরনের পরিবর্তন, পরিমার্জন, সংযোজন বা বিয়োজন করা যাবে না।
♦ নিবন্ধিত স্বত্বাধিকারী নিশ্চিত করবে যে, GI ট্যাগ অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের দ্বারা বাংলাদেশে তার নিবন্ধিত GI পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে।
♦ ট্যাগযুক্ত বাজারজাতকৃত প্রত্যেক পণ্যের লেবেল বা মোড়কের পিছনের অংশের বাম দিকে স্পষ্টভাবে রঙিন কালিতে প্রদর্শন করতে হবে এবং অন্যান্য প্যাকেট বা মডেলের ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে রঙিন কালিতে প্রদর্শন করতে হবে।
♦ ট্যাগ বিকৃত, অবৈধ বা জনস্বার্থের পরিপন্থী কোনো কার্যে ব্যবহার করা যাবে না এবং অনুরূপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্যাগ স্বত্বাধিকার:
♦ ভৌগোলিক নির্দেশক (Geographical Indication-GI) ট্যাগ এর স্বত্বাধিকার শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর সংরক্ষণ করবে।
দেশের প্রথম গভীর কূপ খনন
সাধারণত ২,৬০০-৪,০০০ মিটার গভীর পর্যন্ত কূপ খনন করে গ্যাস উত্তোলন করা হয়। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ-২-সহ কিছু কূপে ৪,৯০০ মিটার পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। গ্যাস স্তরের নিচে রয়েছে কঠিন শিলা। এর নিচেও গ্যাস স্তর থাকতে পারে বলে বাপেক্সের একটি ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) জরিপে বলা হয়। ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে শুরু হয় দেশের ইতিহাসে প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন। আগের ৪,৯০০ মিটার পর্যন্ত কূপ খননের রেকর্ড ভেঙে এবার ৫,৬০০ মিটার গভীর থেকে উত্তোলন করা হবে প্রাকৃতিক গ্যাস। মাটির এত নিচে গিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানের ঘটনা দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম। এই গভীরতায় কূপ খননকে 'ডিপ ড্রিলিং' বলা হয়। খনন কাজ করছে চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান China Central Depository & Clearing Co. Ltd. (CCDC) খনন শেষে কূপটি থেকে প্রতিদিন উত্তোলন করা হবে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এই কূপের চারটি স্তর রয়েছে। সেগুলো হলো-
ভুবন ১, যা ৩,৭৩৬-৩,৭৬৫ মিটার গভীরে। বড়াইল ১. বড়াইল ২ এবং বড়াইল ৩। এগুলো যথাক্রমে ৪,১৪৩-৪,১৬৫ মিটার, ৪,৩৯৬-৪,৪২২ মিটার এবং ৫,৩১৫-৫,৩৪৪ মিটার পর্যন্ত গভীরে অবস্থিত।
ই-ঋণ নীতিমালা
১১ মে ২০২৬ বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজিটাল বা ই-ঋণ (e-loan) দেওয়ার নীতিমালা জারি করে। এর ফলে দেশের সব ব্যাংক এখন ছোট আকারের ডিজিটাল ঋণ দিতে পারবে। এই ঋণের প্রধান উদ্দেশ্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে আসা এবং ক্যাশলেস সোসাইটি বা নগদ টাকার লেনদেন কমিয়ে আনা। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের গ্রাহকেরা এ ধরনের ডিজিটাল ঋণ পান। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া পরীক্ষামূলকভাবে এই সেবা দিচ্ছে। এতে সফলতা আসায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিকভাবে সেবাটি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়। নীতিমালা অনুযায়ী-
একজন গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট সময়ে ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা 'ই-ঋণ' গ্রহণ করতে পারবে, যার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১২ মাস।
♦ ই-ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক বাজারভিত্তিক সুদহার নির্ধারণ করবে। তবে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা গৃহীত হলে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণটির সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৯%।
♦ যেকোনো সাধারণ গ্রাহক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই ঋণ নিতে পারবেন। তবে ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই ঋণ পাবেন না।
♦ ঋণ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকের ঋণের তথ্য যাচাই করে নিতে হবে। তবে এ জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে কোনো মাশুল নিতে পারবে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র
৩০ এপ্রিল ২০২৬ ময়মনসিংহ সদরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম আঞ্চলিক কেন্দ্র। অন্য আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো হলো- চট্টগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্জ, বরিশাল, ঝিনাইদহ, বগুড়া, রাজশাহী, কুমিল্লা, খুলনা ও রংপুর।
ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ
দেশের চিকিৎসা শিক্ষার প্রসারে ১৩ মে ২০২৬ ঠাকুরগাঁও জেলায় 'ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ' প্রতিষ্ঠার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর ফলে দেশে মোট সরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা ৪০টি, এমবিবিএস মেডিকেল কলেজ ৩৮টি, ইউনানি অ্যান্ড আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ১টি ও হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ১টি।
৫৮তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের ৫৮তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়। ৭ মে ২০২৬ ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইস্রাফীল। ১২ জুন ২০২৩ মন্ত্রিসভা 'ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩' এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করে। ২৯ অক্টোবর ২০২৩ জাতীয় সংসদে 'ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩' পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর ২০২৩ রাষ্ট্রপতি বিলটি স্বাক্ষর করলে আইনে পরিণত হয়।
নেভি মেডিকেল কলেজ
২৯ এপ্রিল ২০২৬ চট্টগ্রামের বানৌজা ঈসা খান সংলগ্ন বন্দরটিলা এলাকায় নবনির্মিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী মেডিকেল কলেজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চলতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন বেসামরিক ছাত্র-ছাত্রীর অংশগ্রহণে ৫ বছর মেয়াদি চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত এ আধুনিক মেডিকেল কলেজটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসা বিষয়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা আধুনিক অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণ সুবিধার মাধ্যমে পরিচালিত হবে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বাংলাদেশ
‘রূপপুর থেকে রূপান্তর’, এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে ২৮ এপ্রিল ২০২৬ বাংলাদেশে পারমাণবিক জ্বালানি শক্তি ব্যবহারের যাত্রা শুরু হয়। এদিন পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানি লোড (চুল্লিপাত্রে প্রবেশ করানো) শুরু হয়।
প্রথমবার ফুয়েল লোডিং কী?
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) সংজ্ঞা অনুযায়ী, একটি নবনির্মিত রিঅ্যাক্টরের কোরে প্রথমবারের মতো অ্যাসেম্বলি স্থাপন করাই প্রথম পারমাণবিক ফুয়েল লোডিং। ফুয়েল লোডিং একটি নতুন পর্যায়ের সূচনা। একটি রিঅ্যাক্টর নির্মাণ পর্যায় শেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস হয়ে ওঠে এই ধাপের মধ্য দিয়ে। একটি ভিভিইআর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কমিশনিং পরীক্ষাগুলো মূলত দুই ধাপে সম্পন্ন হয়- একটি পরিচালনার আগে প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা এবং অন্যটি সরাসরি পরিচালনা সংক্রান্ত (পারমাণবিক)পরীক্ষা। প্রথম ধাপে ফুয়েল লোড করার আগেই কেন্দ্রের প্রতিটি যন্ত্রপাতি ও সিস্টেম আলাদাভাবে পরীক্ষা করে দেখা হয়।
পারমাণবিক বিদ্যুতের ইতিকথা
পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় প্রায় অর্ধ-শতাব্দী আগে। বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র Experimental Breeder Reactor I (EBR-I)-এর অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের ইডাহো অঙ্গরাজ্যে। ২০ ডিসেম্বর ১৯৫১ চালু হয় কেন্দ্রটি। শুরুতে এ কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে চারটি বাল্ব জ্বালানো যেত। বিদ্যুৎ গ্রিডের সাথে সংযুক্ত বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হলো সোভিয়েত ইউনিয়নের (বর্তমান রাশিয়া) অবনিনস্ক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Obninsk Nuclear Power Plant), যেটি ২৬ জুন ১৯৫৪ কমিশন লাভ করে এবং ২৭ জুন ১৯৫৪ বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে বাণিজ্যিকভাবে গ্রিডে সরবরাহ করে। ১৮ ডিসেম্বর ১৯৫৭ যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় বিশ্বের প্রথম পূর্ণ স্কেল পাওয়ার স্টেশন Shippingport Atomic Power Station চালু হয় যা শুধু বিদ্যুৎ পারমাণবিক পাওয়ার স্টেশন গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।
♦ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে শীর্ষ দেশ যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় চীন ও তৃতীয় ফ্রান্স।
♦ বিশ্বে সর্বোচ্চ রিঅ্যাক্টর সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে (৯৪টি), দ্বিতীয় চীন (৬২টি) ও তৃতীয় ফ্রান্স (৫৭টি)।
♦ বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র- কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র (জাপান)।
♦ বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম পারমাণবিক চুল্লি শিকাগো পাইল-১ (CP-1) নকশা করেন ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি। ২ ডিসেম্বর ১৯৪২ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় রাজ্যের শিকাগোতে স্থাপন করা হয়।
৩১ দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
বর্তমানে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪৪০টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। সেগুলো থেকে উৎপন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ মোট উৎপন্ন বিদ্যুতের প্রায় ৯%। বিশ্বে এখন নতুন করে কিছু দেশ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশ, চীন তুরস্ক ও মিসর এই তালিকায় উল্লেখযোগ্য।
♦ রাশিয়া ♦ যুক্তরাজ্য ♦ যুক্তরাষ্ট্র ♦ কানাডা ♦ ফ্রান্স ♦ জাপান
♦ স্পেন ♦ ভারত ♦পাকিস্তান ♦ চীন ♦ ইরান ♦ সুইডেন
♦ হাঙ্গেরি ♦ ব্রাজিল ♦ বেলারুশ ♦ ইউক্রেন ♦ বুলগেরিয়া ♦ বেলজিয়াম
♦ আর্জেন্টিনা ♦ ফিনল্যান্ড ♦ আর্মেনিয়া ♦ স্লোভেনিয়া ♦ স্লোভাকিয়া ♦ মেক্সিকো
♦ রোমানিয়া ♦ সুইজারল্যান্ড ♦ নেদারল্যান্ডস ♦ দক্ষিণ কোরিয়া ♦ দক্ষিণ আফ্রিকা ♦ চেক রিপাবলিক
♦ আরব আমিরাত
পারমাণবিক দুর্ঘটনা
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ঘটে, তবে যখন ঘটে তখন এর প্রভাব হয় দীর্ঘমেয়াদি। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়লে তা মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষিত করে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার প্রভাব কয়েক দশক স্থায়ী হয়। ২৬ এপ্রিল ১৯৮৬ ইউক্রেনের চেরনোবিলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয় ঘটে। রিঅ্যাক্টরের নকশায় ত্রুটি এবং অপারেটরদের ভুল সিদ্ধান্ত এই দুর্ঘটনার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ বাতাসের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘমেয়াদে ওই এলাকায় থাইরয়েড ক্যানসারসহ নানা রোগের হার বেড়ে যায়। ১১ মার্চ ২০১১ জাপানে ভূমিকম্প ও সুনামিতে ফুকুশিমা দাইইচি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের শীতলীকরণ ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ইউরেনিয়াম
ইউরেনিয়াম একটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া ভারী ধাতব মৌল। এটি পৃথিবীর ভূত্বকে স্বল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। ইউরেনিয়াম দেখতে রূপালি-ধূসর রঙের। প্রকৃতিতে পাওয়া সব ধাতুর মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি ভারী। রাসায়নিক সারণিতে এর প্রতীক U এবং পারমাণবিক সংখ্যা ৯২। ১৭৮৯ সালে জার্মান রসায়নবিদ মার্টিন হাইনরিখ ক্ল্যাপরথ পিচব্লেন্ড ইউরেনিয়াম মৌল আবিষ্কার করেন। তিনি ইউরেনাস গ্রহের নামের সঙ্গে মিলিয়ে এর নাম রাখেন। ১৮৯৬ সালে ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী হেনরি বেকরেল আবিষ্কার করেন যে, ইউরেনিয়াম স্বতঃস্ফূর্তভাবে অদৃশ্য রশ্মি নির্গত করে। সেটাই ছিল প্রথম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার। ইউরেনিয়ামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর কিছু আইসোটোপের (পরমাণুর ভিন্ন রূপ) সহজে ভাঙার প্রবণতা। একে নিউক্লিয়ার ফিশন বলা হয়। ফিশনের সময় একটি পরমাণু ভেঙে দুটি ছোট পরমাণুতে বিভক্ত হয় এবং এতে বিপুল পরিমাণ শক্তি (তাপ এবং বিকিরণ) উৎপন্ন হয়। নিয়ন্ত্রিত উপায়ে এই শক্তি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। তুলনা দিয়ে বলা যায়, এক কেজি ইউরেনিয়াম-২৩৫ ফিশন থেকে প্রায় ২০ মিলিয়ন কিলোওয়াট-আওয়ার শক্তি পাওয়া সম্ভব, যা ৩৪ লাখ টনের বেশি কয়লার সমান। পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩-৫% ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরাই যথেষ্ঠ। কিন্তু পারমাণবিক অস্ত্রের জন্য এটি প্রায় ৯০% হওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের মোট ইউরেনিয়ামের ৯০%ই মাত্র ৫টি দেশে উৎপাদিত হয়- কাজাখস্তান, কানাডা, নামিবিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও উজবেকিস্তান। তবে অন্যান্য দেশেও এর মজুত পাওয়া গেছে।
প্রকারভেদ: প্রাকৃতিক ইউরেনিয়ামে (U) মূলত তিন ধরনের আইসোটোপ থাকে। পারমাণবিক সংখ্যা (এক্ষেত্রে ৯২) অপরিবর্তিত থাকলেও নিউক্লিয়াসে নিউট্রনের সংখ্যায় ভিন্নতা থাকলে এদেরকে পরস্পরের আইসোটোপ বলে। এর মধ্যে প্রকৃতিতে U-238 সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়। তবে এটি শক্তি উৎপাদনে কম কার্যকর। এটি ধীরে ধীরে তেজস্ক্রিয় ক্ষয় হয়ে লেড-২০৬-এ পরিণত হয় এবং প্লুটোনিয়াম-২৩৯ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। U-235 তুলনামূলকভাবে বিরল হলেও বিদ্যুৎ ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি দিয়ে সহজে ফিশন বিক্রিয়া ঘটানো যায়। U-234 খুবই অল্প পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি ফিশনের জন্যও কম উপযোগী। প্রকৃতিতে পাওয়া ইউরেনিয়ামের ৯৯.৩% ই হলো U-238। এটি সবচেয়ে ভারী এবং কম তেজস্ক্রিয়। অন্যদিকে U-235 রয়েছে মাত্র ০.৭% এবং U-234 রয়েছে ০.০০৫%।
ব্যবহার: পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইউরেনিয়াম ব্যবহার হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়ন্ত্রিত ফিশনের মাধ্যমে তাপ উৎপন্ন হয়, যা পানিকে বাষ্পে পরিণত করে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি CO₂ নির্গমন হয় না বলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় একে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হয়। তবে এতে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যার ব্যবস্থাপনা সহজ নয়। পারমাণবিক রিঅ্যাক্টরের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় তেজস্ক্রিয় আইসোটোপ। এসব আইসোটোপ ক্যানসারের চিকিৎসা (রেডিওথেরাপি), কৃষি ক্ষেত্রে নতুন জাত উদ্ভাবন, মেডিকেল ইমেজিংয়ে (পিইটি সিটি স্ক্যান) এবং জীবাশ্বের মতো প্রাগৈতিহাসিক বস্তুর বয়স নির্ণয়ে ব্যবহার করা হয়। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে এই মৌল ব্যবহার করা হয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের পর বর্জ্য হিসেবে অবশিষ্ট বা ডিপ্লিটেড ইউরেনিয়াম ট্যাঙ্কের বর্ম বা গোলাবারুদে ব্যবহৃত হয়, কারণ এটি খুব শক্ত।
পদ্মা ব্যারাজ মহাপরিকল্পনা
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য নদী ও জীবনের সুরক্ষা
নির্মাণের ইতিকথা
পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০-২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্পটি প্রণয়নের উদ্দেশ্যে মোট চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। ১৯৬১ সালে তৎকালীন East Pakistan Water and Power Development Authority (EPWPDA) বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB)-এর মাধ্যমে প্রথম সমীক্ষা শুরু হয়। ২০০২ সালে পানি সম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা (WARPO) কুষ্টিয়ার ঠাকুরবাড়ী অথবা রাজবাড়ীর পাংশায় ব্যারাজ নির্মাণের সুপারিশ করে। পরে ২০০৯ - ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। এরপর ২০১৬ সাল পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটির নকশা প্রণয়নে কাজ করে। ১৩ মে ২০২৬ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে মৌলভীবাজারে মনু নদীর ওপর প্রথমবার একটি ব্যারাজ নির্মাণ করা হয়, যেটি মনু ব্যারাজ নামে পরিচিত। পরে ১৯৯০ সালে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর ওপর তিস্তা ব্যারাজ এবং ঠাকুরগাঁওয়ের টাঙ্গন নদীর ওপর টাঙ্গন ব্যারাজ তৈরি করা হয়।
উদ্দেশ্য
সত্তরের দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের কারণে বাংলাদেশের পদ্মার প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। এতে পদ্মার সঙ্গে সংযুক্ত অনেক নদী শুকিয়ে যায়। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, মৎস্য, বনায়ন, নৌচলাচল, পানির প্রাপ্যতা এবং বাস্তুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্বাদু পানির প্রবাহ হ্রাসের কারণে ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন এবং এর জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনের আশেপাশের নদী এবং খালগুলোতে লবণাক্ততার উচ্চ ঘনত্বের কারণে গুরুতর হুমকির সম্মুখীন হয়। পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় নদী ব্যবস্থায় ব্যাপক পলি জমে নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে অধিকাংশ পানি সরাসরি বঙ্গোপসাগরে চলে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নদীগুলো পানিশূন্য হয়ে পড়াসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, পলি জমা, নৌপথ অচল হয়ে পড়া এবং সেচ ও মৎস্য উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে সুন্দরবনে ব্যাপক হারে 'টপ ডাইং' বা গাছের আগা শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। গঙ্গার (যেটি বাংলাদেশে পদ্মা) পানির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাঁধ নির্মাণই বাংলাদেশের জন্য একমাত্র পথ।
প্রকল্প এলাকা
বাংলাদেশের মোট এলাকার প্রায় ৩৭%, যা দেশের চারটি বিভাগের ২৬টি জেলার ১৬৩টি উপজেলায় বিস্তৃত। তবে প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দেশের ৪টি বিভাগের ১৯টি জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে। বিভাগওয়ারি জেলাগুলো হলো-
|
বিভাগ |
জেলা |
|
খুলনা |
কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা |
|
ঢাকা |
রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ |
|
রাজশাহী |
পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ |
|
বরিশাল |
পিরোজপুর |
♦ ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্যারাজে ৭৮টি স্পিলওয়ে গেট (প্রতিটির প্রস্থ ১৮ মিটার), ১৮টি আন্ডার সুইস গেট ও ২টি ফিশ পাস থাকবে।
♦ নৌযান চলাচলের জন্য ১৪ মিটার প্রশস্ত একটি নেভিগেশন লক এবং দুটি ২০ মিটার প্রশস্ত ফিশ পাস রাখা হবে।
♦ গঙ্গা-নির্ভর এলাকা প্রায় ৫১,৮৮,০০০ হেক্টর।
♦ ব্যারাজের ওপর দিয়ে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রেলওয়ে সেতু অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
♦ প্রকল্পের অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার ধরা হয় ১৭.০৫%।
♦ পদ্মা নদীর ওপর নির্ভরশীল দেশের প্রায় ৩৭% জমিতে পানির সমস্যা সমাধানে এই প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভূ-অর্থনৈতিক ও কৃষি গুরুত্ব
♦ ২৮.৮০ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে প্রয়োজনীয় সেচের পানি সরবরাহ করা যাবে। এতে ২৩.৯০ লাখ টন ধানের ও ২.৩৪ লাখ টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।
♦ শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২,৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করা হবে। যা হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, যা চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়াল নদী ব্যবস্থায় প্রবাহ ফিরিয়ে আনবে। এতে লবণাক্ততা হ্রাস পাবে, স্বাদুপানির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং সুন্দরবনের প্রতিবেশ রক্ষা পাবে।
♦ ৬২৩টি ছোট-বড় নদ-নদী পানির সহজপ্রাপ্যতা পাবে। এর আওতায় আসবে বিভিন্ন শাখা নদী, উপনদী, খাল, বিল, জলাধার এবং এতে পানি প্রবাহের নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।
♦ ২০৩৩ সালের পর দ্বিতীয় ধাপে ব্যারাজ ঘিরে তিনটি পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৭টি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
♦ আনুমানিক ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা
♦ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।
♦ বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ করে এই ব্যারাজ দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে সারা বছর পানির জোগান নিশ্চিত করবে।
♦ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলো থেকে পলি অপসারণ, পোল্ডারসমূহের নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সেচ সুবিধা বাড়বে।
♦ সংকটাপন্ন শুষ্ক মৌসুমে ব্যারাজ দিয়ে ন্যূনতম ৫৭০ ঘনমিটার প্রতি সেকেন্ড পানি ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা নিম্নপ্রবাহের নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করবে।
♦ বাঁধের ডেক/করিডোরকে বহুমুখী অবকাঠামোগত সংযোগের প্লাটফর্ম হিসেবে সড়ক সংযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপন ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
♦ কর্মসংস্থান হবে ৯,২৭,০০০ মানুষের।
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প (প্রথম পর্যায়)
♦ প্রকল্প মেয়াদ: জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩৩
♦ স্থান: পাংশা, রাজবাড়ী
♦ ব্যয় ও অর্থায়ন: ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকা (নিজস্ব অর্থায়ন)
♦ মূল অবকাঠামো: মূল বাঁধ ২.১ কিমি স্পিলওয়ে গেট ৭৮টি আন্ডার সুইস গেট ১৮টি, ফিশ পাস ২টি
♦ প্রধান সুবিধা: পানি সংরক্ষণ (২৯০০ মি. ঘনমিটার) সেচ সুবিধা (২৮.৮০ লাখ হেক্টর)
♦ বিদ্যুৎ উৎপাদন: (১১৩ মেগাওয়াট)
♦ লবণাক্ততা রোধ
পদ্মা: বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী
পদ্মা (Padma) বাংলাদেশের প্রধান নদী। হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গা নদী ভারতে 'গঙ্গা' নামে প্রবাহিত হয় এবং বাংলাদেশে 'পদ্মা' নামে পরিচিতি লাভ করে। গঙ্গার ইংরেজি উচ্চারণ 'গ্যানজেস' (Ganges) সংস্কৃত নাম 'গঙ্গা'-এর অপভ্রংশ, যা একজন গ্রিক ইতিহাসবেত্তা কর্তৃক প্রথম ব্যবহৃত হয়। এটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মানাকোসা ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নদীর সাথে মিশে যায়। পরবর্তীতে চাঁদপুরের কাছে মেঘনার সাথে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে, যা পলিমাটি দিয়ে উর্বরতা বৃদ্ধি ও অসংখ্য জনপদের জীবন-জীবিকার উৎস, তবে এটি ভাঙন ও স্রোতের কারণে 'কীর্তিনাশা' নামেও পরিচিত। বাংলাদেশে পদ্মা নদীর দৈর্ঘ্য ৩৫১ কিমি। প্রবাহিত জেলা-উপজেলা হলো-
|
জেলা |
উপজেলা |
|
রাজবাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মাদারীপুর ও ফরিদপুর। |
কালুখালী, গোয়ালন্দ, পাংশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, রাজবাড়ী সদর, শিবগঞ্জ, লালপুর, ঈশ্বরদী, পাবনা সদর, বেড়া, সুজানগর, গোদাগাড়ী, চারঘাট, পবা, বাঘা, বোয়ালিয়া, মতিহার, রাজপাড়া, কুমারখালী, কুষ্টিয়া সদর, দৌলতপুর, ভেড়ামারা, মিরপুর, চাঁদপুর, সদর, মতলব উত্তর, দোহার, নবাবগঞ্জ, চর ভদ্রাসন, ফরিদপুর সদর, সদরপুর, ভাঙ্গা, শিবচর, শিবালয়, হরিরামপুর, টঙ্গিবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ সদর, লৌহজং, শ্রীনগর, জাজিরা, নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ। |
বাঁধ কী
বাঁধ হলো নদীর পানির স্তর উত্তোলন বা নৌচলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় নাব্যতা রক্ষার জন্য অথবা সেচ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য নদীর উপর নির্মিত প্রতিবন্ধক। ইংরেজিতে এর তিনটি প্রতিশব্দ রয়েছে। যথা- Dam, Barrage আর Embankment। বাংলা একাডেমি ডিকশনারিতে প্রতিটিরই বাংলা করা হয়েছে বাঁধ।
♦ Dam হলো নদীর আড়াআড়ি, সাধারণত পাহাড়ি অঞ্চলে একটি বাধার সৃষ্টি করে এর পেছনের জলাধারে পানি জমা রাখা তথা পানির উচ্চতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা।
♦ Barrage হলো সেচের জন্য পানি সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নদীর উপর আড়াআড়িভাবে নির্মিত কৃত্রিম অবরোধ।
♦ Embankment হলো নদীর ধার বরাবর সমান্তরালে উঁচু বাঁধ তৈরি করে নদীর তীরের অধিবাসীদের বন্যা থেকে রক্ষা করা যায়।
উপজেলা ইতিহাস
১৯৫৯ সালে মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের পর উপজেলা পর্যায়ে থানা কাউন্সিল গঠিত হয়। স্বাধীনতার পর থানা কাউন্সিলের নাম পরিবর্তন করে থানা উন্নয়ন কমিটি গঠন করা হয়। ২৮ এপ্রিল ১৯৮২ প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে গঠন করা হয় প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও সংস্কার কমিটি। এ কমিটিকে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে একটি সুষ্ঠু ও কার্যকর শাসন পদ্ধতি সুপারিশ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২২ জুন ১৯৮২ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। কমিটির সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে বিশেষত থানা পর্যায়ে বিদ্যমান স্থানীয় সংস্থার পুনর্বিন্যাসের বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। থানা পর্যায়ে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ২৩ ডিসেম্বর ১৯৮২ স্থানীয় সরকার (থানা পরিষদ ও থানা প্রশাসন পুনর্বিন্যাস) অধ্যাদেশ জারি করা হয়। ৭ নভেম্বর ১৯৮২ মোট ৪৫টি থানাকে উপজেলা করার মাধ্যমে উপজেলা ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। ১৪ মার্চ ১৯৮৩ থানার পরিবর্তে উপজেলা নামকরণ করা হয়। ২৩ নভেম্বর ১৯৯১ উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করে থানা পরিষদ নামকরণ করা হয় যা ২৯ জানুয়ারি ১৯৯২ জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে কার্যকর করা হয়। ৩ ডিসেম্বর ১৯৯৮ জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে উপজেলা ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। ১ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৯ গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইন কার্যকর হয়। ২০ এপ্রিল ২০০০ দেশের সকল প্রশাসনিক থানাকে উপজেলা হিসেবে অভিহিত করার নির্দেশ জারি করা হয়।
♦ কক্সবাজারের ১০তম উপজেলা- মাতামুহুরী।
♦ বগুড়ার ১৩তম উপজেলা- মোকামতলা।
♦ লক্ষ্মীপুরের ষষ্ঠ উপজেলা- চন্দ্রগঞ্জ।
♦ ঠাকুরগাঁও জেলার মোট উপজেলা- ৭টি।
♦ মাতামুহুরী নদী থেকে প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলার নামকরণ করা হয়।
♦ ২৯ ডিসেম্বর ২০২২ ভূল্লী থানা উদ্বোধন করা হয়।
♦ ২২ জানুয়ারি ২০১৩ রুহিয়া থানা উদ্বোধন করা হয়।
♦ ২ জুন ২০১৪ চন্দ্রগঞ্জ থানা ঘোষণা করা হয়।
গঠনের শর্ত
২৪ অক্টোবর ২০০৪ জারি করা বিধি নীতিমালা অনুযায়ী নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠার জন্য উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হলো-
♦ পৌরসভা থাকলে ন্যূনতম ৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা না থাকলে ন্যূনতম ৮টি ইউনিয়ন হবে।
♦ নতুন উপজেলার জন্য জনসংখ্যা ন্যূনতম (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পৌরসভার জনসংখ্যাসহ দুই থেকে আড়াই লাখের মধ্যে হতে হবে।
♦ আয়তন ন্যূনতম ৩০০ বর্গ কিমি হতে হবে।
♦ পার্বত্য এলাকা, দ্বীপ এলাকা, সমুদ্র উপকূলীয় চর এলাকা, নিম্নাঞ্চল বা হাওর ও বনাঞ্চল এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অন্যান্য এলাকার জন্যে যুক্তিসঙ্গত সংখ্যায় ও পরিমাণে শিথিলযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
Ata Glance: Upazila
♦ মোট: ৫০০টি
♦ সর্বাধিক: কুমিল্লায়- ১৭টি
♦ সবচেয়ে কম: মেহেরপুর ও নড়াইল- ৩টি করে
♦ আয়তনে বৃহত্তম: শ্যামনগর (সাতক্ষীরা): ১৯৬৮.২৪ বর্গ কিমি
♦ আয়তনে ক্ষুদ্রতম: শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ), ৩৯.৫৫ বর্গ কিমি
♦ জনসংখ্যায় বৃহত্তম: সাভার (ঢাকা); জনসংখ্যা ১৯,২৭,৬৯১
♦ জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম: জুরাছড়ি (রাঙ্গামাটি); জনসংখ্যা ২৬,৯৩২
♦ সর্বউত্তরে: তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়)
♦ সর্বদক্ষিণে: টেকনাফ (কক্সবাজার)
♦ সর্বপূর্বে: থানচি (বান্দরবান)
♦ সর্বপশ্চিমে: শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
দেশের উপজেলা এখন ৫০০
৭ মে ২০২৬ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে পাঁচটি নতুন উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। নতুন এই পাঁচটি নিয়ে উপজেলার সংখ্যা ৫০০।
|
উপজেলা |
ইউনিয়ন |
|
মাতামুহুরী (কক্সবাজার) |
৭টি- বদরখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, সাহারবিল, ভেওলা, মানিকচর, পশ্চিম বড় ভেওলা, ঢেমুশিয়া ও কোনাখালী |
|
চন্দ্রগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) |
৯টি- বশিকপুর, দত্তপাড়া, উত্তর জয়পুর, চন্দ্রগঞ্জ, হাজিরপাড়া, চরশাহী, দিঘলী, মান্দারী ও কুশাখালী |
|
মোকামতলা (বগুড়া) |
৫টি- মোকামতলা, দেউলি, সৈয়দপুর, শিবগঞ্জ ও ময়দানহাট্টা |
|
ভূল্লী (ঠাকুরগাঁও) |
৫টি- বড়গাঁও, বালিয়া, আউলিয়াপুর, দেবীপুর ও শুখানপুকুরী |
|
রুহিয়া (ঠাকুরগাঁও) |
৬টি- রুহিয়া, আখানগর, রাজাগাঁও, রুহিয়া পশ্চিম, সেনুয়া ও ঢোলারহাট |
দেশের সিটি কর্পোরেশন এখন ১৩টি
৭ মে ২০২৬ প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২০তম বৈঠকে সিটি কর্পোরেশন গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এরপর ১৪ মে ২০২৬ বগুড়া সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বগুড়া নিয়ে দেশে সিটি কর্পোরেশনের সংখ্যা এখন ১৩টি। উল্লেখ্য, বগুড়া পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন হওয়ায় দেশে পৌরসভা এখন ৩২৯টি।


