Monthly Affairs
|
|
বাংলাদেশ বিষয়াবলি
Bangladesh
February, 2026
কালানুক্রমিক ঘটনাবলি
০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ অফিস, আদালত, হাসপাতাল, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা একই ধরনের অন্য প্রতিষ্ঠানের ১০০-মিটারের মধ্যে বিস্তৃত এলাকাকে 'নীরব এলাকা' ঘোষণা করে ডিএমপি।
♦ ৩৮তম জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু।
০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি।
♦ Protection and Conservation of Fish (Amendment) Ordinance, 2026 জারি।
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি পবিত্র শবে বরাত পালিত।
♦ লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হয়।
০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ বাংলাদেশের প্রথম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কমপ্রিহেনসিভ সেফটি সিস্টেম টেস্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি।
♦ Registration (2nd Amendment) Ordinance, 2026 জারি।
♦ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি।
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ ত্রয়োদশ-জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
♦ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত ২৯৭ সংসদ সদস্য এবং গণভোটের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (EC)।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন-অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি।
♦ নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি।
♦ কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি।
♦ বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি।
♦ নবগঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক এ এস মো. আবদুল হাছিব।
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ এ স্বাক্ষর করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙ্গে গেছে বলে গণ্য হবে বলে গেজেট প্রকাশ।
♦ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত।
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত।
♦ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন।
♦ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে।
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত।
♦ মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাডেমি প্রাঙ্গণে উদ্বোধন করা হয় দেশের সর্বোচ্চ পতাকা-স্তম্ভ 'চির উন্নত বিজয় নিশান'।
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলে নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন।
♦ দেশের ছয় সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দেয় সরকার।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ শেরপুর-৩ আসনে সাধারণ নির্বাচন ও বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন।
আলোচিত বাংলাদেশ
নব-নিযুক্ত
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপার্সন হিসেবে নিয়োগ পান সাবেক বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া কমিশনার নিয়োগ পান মো. নূর খান, নাবিলা ইদ্রিস, অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম ও ইলিরা দেওয়ান।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ পান ড. নাসিমুল গনি। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ড. নাসিমুল গনি দেশের ২৭তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (IGP) হিসেবে নিয়োগ পান মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি ১৫তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের সদস্য। আলী হোসেন ফকির কসোভো ও আইভরি কোস্টে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫ এপ্রিল ১৯৬৮ বাগেরহাট সদরে জন্মগ্রহণ করেন।
মেলা-উৎসবঅমর একুশে বইমেলা
♦ সময়কাল: ২৬ ফেব্রুয়ারি-১৫ মার্চ ২০২৬।
♦ স্থান: বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান
♦ প্রতিপাদ্য: বহুমাত্রিক বাংলাদেশ।
জাতীয় কবিতা উৎসব
♦ আয়োজন: ৩৮তম।
♦ সময়কাল: ১-২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
♦ স্থান: কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার, ঢাকা।
♦ প্রতিপাদ্য: সংস্কৃতি-বিরোধী আস্ফালন রুখে দিবে কবিতা।
♦ আয়োজক: জাতীয় কবিতা পরিষদ।
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা
♦ আয়োজন: ৪৯তম।
♦ সময়কাল: ২২ জানুয়ারি ২০২৬-৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
♦ স্থান: কলকাতা, ভারত ।
♦ ফোকাল থিম কান্ট্রি: আর্জেন্টিনা
প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ১,১৪,৬৩০টি।
♦ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৬৫,৫৬৭
♦ বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: ৬,১৩৪
♦ এবতেদায়ি মাদ্রাসা: ৪,৪২৫
♦ কিন্ডারগার্টেন (KG): ২৬,৪৬১
♦ এনজিও স্কুল: ৩,৩০৭
♦ এবতেদায়ি সংযুক্ত উচ্চ মাদ্রাসা: ২,৯০৯
♦ প্রাইমারি সেকশনস অব হাইস্কুল: ১,৮৯২
♦ শিশুকল্যাণ (SK): ২০৩
♦ অন্যান্য এনজিও স্কুল: ২,২৩৭
♦ অন্যান্য স্কুল: ১,৪৯৫।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ২১,২৩২টি
♦ নিম্নমাধ্যমিক: ২,৫৪৭ (বেসরকারি)
♦ মাধ্যমিক: ১৬,৫৭০ (সরকারি: ৬৩১ বেসরকারি ১৫,৯৩৯)
♦ স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ১,৫১৪ (সরকারি: ৬৩ বেসরকারি: ১,৪৫১)
♦ আপগ্রেডেড সরকারি প্রাথমিক: ৬০১।
কলেজ: ৪,৮৭৬টি
♦ স্কুল অ্যান্ড কলেজ: ১,৫১৪ (সরকারি: ৬৩, বেসরকারি: ১,৪৫১)
♦ উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ: ১,৪২২ (সরকারি: ৫৪, বেসরকারি: ১,৩৬৮)
♦ ডিগ্রি (পাস): ১,০৪৭ (সরকারি: ১৯২, বেসরকারি: ৮৫৫)
♦ ডিগ্রি (অনার্স): ৬৯৫ (সরকারি: ২৫৯, বেসরকারি: ৪৩৬)
♦ স্নাতকোত্তর: ১৯৮ (সরকারি: ১৩৭, বেসরকারি: ৬১)
মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ৯,২৬৯টি
♦ দাখিল: ৬,৫২১ (বেসরকারি)
♦ আলিম: ১,৩৯১ (বেসরকারি)
♦ ফাযিল (পাস): ৫ (বেসরকারি)
♦ ফাযিল (অনার্স): ১০৮১ (বেসরকারি)
♦ কামিল ২৭১ (সরকারি: ৩০ বেসরকারি: ২৬৮)
প্রফেশনাল: ৮৭০টি
♦ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়: ৫ (সরকারি)
♦ মেডিকেল কলেজ: ১০৯ (সরকারি: ৩৭, বেসরকারি: ৭২)
♦ আর্মড ফোর্সেস ও আর্মি মেডিকেল কলেজ: ৬
♦ ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল ইউনিট: ৩৫ (সরকারি: ৯, বেসরকারি: ২৬)
♦ নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কলেজ অ্যান্ড ইনিস্টিটিউট: ৪৭২ (সরকারি: ৭৬, বেসরকারি: ৩৯৬)
♦ হোমিওপ্যাথিক কলেজ: ৬৭ (সরকারি: ৩১, বেসরকারি: ৬৬)
♦ ইউনানি/আয়ুর্বেদিক কলেজ: (৩১ সরকারি: ২, বেসরকারি: ২৯)
♦ টেক্সটাইল টেকনোলজি কলেজ: ১১ (সরকারি: ৬, বেসরকারি: ৫) লেদার টেকনোলজি: ১ (সরকারি)
♦ ল কলেজ: ৭৬ (বেসরকারি
♦ আর্ট কলেজ: ৭ (বেসরকারি)
♦ কৃষি কলেজ: ৫ (বেসরকারি)
♦ লাইব্রেরি সায়েন্স: ৩১ (বেসরকারি)
♦ অন্যান্য: ১৪ (বেসরকারি)
অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ২০৯টি
♦ প্রাইমারি ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট: ৬৭ (সরকারি)
♦ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ: ১০৪ (সরকারি: ১৪, বেসরকারি: ৯০)
♦ টেকনিক্যাল টিচার ট্রেনিং কলেজ: ১ (সরকারি)
♦ ভোকেশনাল টিচার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট: ১ (সরকারি)
♦ ফিজিক্যাল এডুকেশন কলেজ: ৩০ (সরকারি: ৫, বেসরকারি: ২৫)
♦ উচ্চমাধ্যমিক টিচার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট: ৫ (সরকারি)
♦ মাদ্রাসা টিচার ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট: ১ (সরকারি)
বিশ্ববিদ্যালয়: ১৭৪টি
♦ সরকারি: ৫৭, বেসরকারি: ১১৫, আন্তর্জাতিক: ২।
ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল: ১৪৭টি
♦ এ লেভেল: ৮৪ ও লেভেল: ৫০. জুনিয়র স্কুল: ১৩।
পদক-পুরস্কার
বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫
১৯৬০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। পুরস্কারের মূল্যমান ৩ লক্ষ টাকা। প্রতি বছর অমর একুশে গ্রন্থমেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে পুরস্কার প্রাপ্তদের হাতে অর্থমূল্যের চেক, সম্মাননা পত্র ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। ২০২৫ সালের পুরস্কার বিজয়ী-
♦ কবিতা: মোহন রায়হান।
♦ কথাসাহিত্য: নাসিমা আনিস
♦ প্রবন্ধ/গদ্য: সৈয়দ আজিজুল হক।
♦ শিশুসাহিত্য: হাসান হাফিজ।
♦ অনুবাদ: আলী আহমদ।
♦ গবেষণা: মুস্তাফা মজিদ ও ইসরাইল খান ।
♦ বিজ্ঞান: ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী।
♦ মুক্তিযুদ্ধ: মঈদুল হাসান।
একুশে পদক ২০২৬
একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে ১৯৭৬ সালে একুশে পদক প্রবর্তন করেন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পুরস্কারের অর্থমূল্য ৪ লাখ টাকা সাথে প্রদান করা হয় একটি পদক, একটি সম্মাননা সনদ ও একটি রেপ্লিকা। ২০২৬ সালে ১০ জন ব্যক্তি/দল লাভ করেন একুশে পদক।
পুরস্কার বিজয়ী
♦ শিল্পকলা (অভিনয়): ফরিদা আক্তার ববিতা।
♦ শিল্পকলা (চারুকলা): প্রফেসর ড. মো: আব্দুস সাত্তার।
♦ স্থাপত্য (সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোনো ক্ষেত্র): মেরিনা তাবাসসুম।
♦ শিল্পকলা (সংগীত): আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর)।
♦ শিল্পকলা (সংগীত): ওয়ারফেইজ।
♦ শিল্পকলা (নৃত্য): অর্থি আহমেদ।
♦ শিল্পকলা (পালাগান): ইসলাম উদ্দিন পালাকার।
♦ সাংবাদিকতা: শফিক রেহমান।
♦ শিক্ষা: প্রফেসর ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার।
♦ ভাস্কর্য (সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোনো ক্ষেত্র): তেজস হালদার জস।
স্পিরিট অব সালাম পুরস্কার
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে 'স্পিরিট অব সালাম পুরস্কার' পান ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ডেটা অ্যান্ড সায়েন্সেস, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার। ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ বিজয়ীর নাম প্রকাশ করে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরিটিক্যাল ফিজিকস (ICTP)। বিজ্ঞানসংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অবদান রাখা ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে ২০১৩-১৪ সাল থেকে স্পিরিট অব সালাম অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হলেও এবারই প্রথম কোনো বাংলাদেশি এই অনন্য সম্মানে ভূষিত হলেন। অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদারকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হয় মূলত বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য। মোহাম্মদ আবদুস সালাম ছিলেন একজন পাকিস্তানি তাত্ত্বিক পদার্থবিদ। তিনি ১৯৭৯ সালে স্টিভেন ওয়েইনবার্গ ও শেলডন গ্ল্যাশোর সঙ্গে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার জনজীবনে বিশেষ অবদান রাখায় এ বছর 'মেডেল অব দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া' পদকে ভূষিত হয় নাট্যজন মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বালার্ক। প্রতি বছর ২৬ জানুয়ারি 'অস্ট্রেলিয়া ডে'তে ঘোষণা করা হয় দ্য অর্ডার অব অস্ট্রেলিয়া। ২০২৬ সালে ৯৪৯ জন অস্ট্রেলীয়কে দেওয়া হয় এই সম্মাননা।
আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসব
৩-৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে আমার ভাষার চলচ্চিত্র উৎসবে নতুন ও পুরোনো মিলিয়ে প্রদর্শিত হয় ২০টি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও ৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। ছয় দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপনী দিনে সর্বোচ্চ সম্মাননা 'হীরালাল সেন পদক' জিতে তরুণ নির্মাতা মনিরুল হকের 'দ্য ইউনিভার্সিটি অব চানখারপুল'।
৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস
বিশ্ব সংগীতাঙ্গনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ৬৮তম আসরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ী-
♦ সং অব দ্য ইয়ার: ওয়াইল্ডফ্লাওয়ার (বিলি আইলিশ)
♦ রেকর্ড অব দ্য ইয়ার: লুথার (কেনড্রিক লামার ও সিজা)
♦ অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার: ডেবি টিরার মাস ফোতোস (ব্যাড বানি)
♦ নিউ আর্টিস্ট: অলিভিয়া ডিন
♦ পপ সলো পারফরম্যান্স: মেসি (লোলা ইয়াং)
♦ পপ ভোকাল অ্যালবাম: মেইহেম (লেডি গাগা)
♦ রক সং: অ্যাজ এলাইভ অ্যাজ ইউ নিড মিটু বি (নাইন ইঞ্চ নেইলস)
♦ রক অ্যালবাম: নেভার এনাফ (টার্নসটাইল)
♦ আর অ্যান্ড বি সং: ফোন্ডেড (খেলানি)
♦ আর অ্যান্ড বি অ্যালবাম: মুট (লিয়ন থমাস)
♦ জ্যাজ ভোকাল অ্যালবাম: পোর্ট্রেট (সামারা জয়)
♦ কান্ট্রি সং: বিতিন লিস্ট (টাইলার চাইল্ডার্স) ফোক অ্যালবাম: ওয়াইল্ড অ্যান্ড ক্লিয়ার
♦ অ্যান্ড ক্ল (আই অ্যাম উইথ হার)
♦ কমেডি অ্যালবাম: ইয়োর ফ্রেন্ড (নাট বারগাটজে)
♦ মিউজিক ভিডিও: এনজাইটি (দোয়েচি)
♦ অডিও বুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং: মেডিটেশনস: দ্য রিয়েকশনস অব হিজ হলিনেস দ্য দালাই লামা।
বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসব
১২-২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত হয়। ৭৬তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব।
উল্লেখযোগ্য বিজয়ীরা-
♦ গোল্ডেন বিয়ার জয়ী সিনেমা: ইয়েলো লেটারস।
♦ গ্র্যান্ড জুরি প্রাইজ: স্যালভেশন।
♦ জুরি প্রাইজ: কুইন অ্যাট সি।
♦ সেরা পরিচালক: গ্র্যান্ট গি (এভরিবডি ডিগস বিল ইভানস) ।
♦ সেরা অভিনয়: সান্দ্রা হুলার (রোজ) ।
♦ সেরা চিত্রনাট্য: জেনেভিভ ডুলুড ডি সেলেস (নিনা রোজা)।
♦ সেরা তথ্যচিত্র: ইফ পিজনস টার্নড টু গোল্ড।
Big Screen Award 2026
নেদারল্যান্ডসের ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের ৫৫তম আসরে এবারই প্রথম তিন বিভাগে প্রতিযোগিতা করে বাংলাদেশের তিন সিনেমা। উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশনে সেরা নির্বাচিত হয় রেজওয়ান শাহরিয়ার সমিত পরিচালিত 'মাস্টার' সিনেমা। পুরস্কার হিসেবে 'মাস্টার' সিনেমার পরিচালক পাবেন ১৫ হাজার ইউরো। এছাড়া নেদারল্যান্ডসে সিনেমাটি পরিবেশনার জন্য পরিবেশককেও ১৫ হাজার ইউরো দেবে উৎসব কর্তৃপক্ষ।
বিজয়ীদের তালিকা-
♦ টাইগার অ্যাওয়ার্ড ভ্যারিয়েশনস অন আ থিম (দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস, কাতার)।
♦ স্পেশাল জুরি অ্যাওয়ার্ড লা বেলে অ্যানি (সুইডেন, নরওয়ে)।
♦ সাপোর্টিং রোল (জর্জিয়া, এস্তোনিয়া, তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড)।
♦ বিগ স্ক্রিন কম্পিটিশন মাস্টার (বাংলাদেশ) ।
♦ টাইগার শর্ট কম্পিটিশন দ্য সেকেন্ড স্কিন (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো)।
♦ দ্য অ্যাপল ডাজ নট ফল (চীন) ডিপ কোবাল্ট (কঙ্গো)।
♦ নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড আই মিউ অ্যাপল অ্যান ইঞ্চ হোয়েন মাই ফাদার ডায়েড (ফিলিপাইনস)।
♦ নেটপ্যাক স্পেশাল মেনশন দ্য সিউল গার্ডিয়ানস (দক্ষিণ কোরিয়া)।
♦ ইয়ুথ জুরি অ্যাওয়ার্ড আহ গার্ল (সিঙ্গাপুর)।
৭৯তম BAFTA
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাতে লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভ্যাল হলে অনুষ্ঠিত হয় ৭৯তম ব্রিটিশ একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন আর্টস (BAFTA)। এ আসরে সেরা সিনেমা, সেরা পরিচালক, চিত্রনাট্যসহ ৬টি বিভাগে পুরস্কার জিতে ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার। ১৪টি বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছিল এক চরমপন্থী দলের সাবেক কয়েকজন সদস্যের কর্মকাণ্ড নিয়ে তৈরি সিনেমাটি।
উল্লেখযোগ্য বিভাগে বিজয়ীরা-
♦ সিনেমা: ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার ।
♦ পরিচালক: পল থমাস অ্যান্ডারসন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)।
♦ অভিনেত্রী: জেসি বাকলি (হ্যামনেট)।
♦ অভিনেতা: রবার্ট আরামায়ো (আই সয়্যার)।
♦ পার্শ্ব অভিনেত্রী: উনমি মোসাকু (সিনারস)।
♦ পার্শ্ব অভিনেতা : শন পেন (ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার)।
♦ নবাগত অভিনেতা: রবার্ট আরামায়ো।
♦ মৌলিক চিত্রনাট্য: সিনার্স (রায়ান কুগলার)।
♦ ইংরেজি ভাষার বাইরের সিনেমা: সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু।
♦ তথ্যচিত্র: মিস্টার নোবডি অ্যাগেইনস্ট পুতিন।
♦ অ্যানিমেশন সিনেমা: জুটোপিয়া ২।
♦ ব্রিটিশ সিনেমা: হ্যামনেট।
♦ ব্রিটিশ শর্ট অ্যানিমেশন: টু ব্ল্যাক বয়েজ ইন প্যারাডাইস।
♦ ব্রিটিশ শর্টফিল্ম: দিস ইজ এন্ডোমেট্রিওসিস।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়-
|
পুরস্কারের ক্ষেত্র |
ব্যাক্তি |
চলচ্চিত্রের নাম |
|
আজীবন সম্মাননা |
তারেক মাসুদ (মরণোত্তর) |
|
|
আব্দুল লতিফ বাচ্চু (মরণোত্তর) |
||
|
চলচ্চিত্র |
কে.এম. হালিমুজ্জামান |
সাঁতাও |
|
স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র |
চৈত্রালী সমদ্দার |
মরিময় |
|
প্রামাণ্য চলচ্চিত্র |
এলিজা বিনতে এলাহী |
লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল |
|
চলচ্চিত্র পরিচালক |
কে.এম. হালিমুজ্জামান |
সাঁতাও |
|
অভিনেতা |
আফরান নিশো |
সুড়ঙ্গ |
|
অভিনেত্রী |
আইনুন নাহার |
সাঁতাও |
|
অভিনেতা (পার্শ্ব) |
মনির আহাম্মেদ |
সুড়ঙ্গ |
|
অভিনেত্রী (পার্শ্ব) |
নাজিয়া হক |
ওরা সাত জন |
|
অভিনেতা (খল) |
খন্দকার রশিদ আহমেদ |
অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন |
|
অভিনেতা (কৌতুক) |
শহীদুজ্জামান সেলিম |
সুড়ঙ্গ |
|
শিশু শিল্পী |
মো. লিয়ন |
আম কাঁঠালের ছুটি |
|
বিশেষ পুরস্কার (শিশু শিল্পী) |
আরিফ হাসান আনাইরা খান |
আম কাঁঠালের ছুটি |
|
সঙ্গীত পরিচালক |
ইমন চৌধুরী |
অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন |
|
গায়ক |
হাবিবুর রহমান |
লাল শাড়ি |
|
নৃত্য পরিচালক |
বালাম |
প্রিয়তমা |
|
গায়িকা |
অবন্তী দেব সিঁথি |
সুড়ঙ্গ |
|
গীতিকার |
মো. অলিউল্লাহ |
প্রিয়তমা |
|
সুরকার |
মুনির মাহমুদ প্রিন্স |
প্রিয়তমা |
|
কাহিনিকার |
ফারুক হোসেন |
প্রিয়তমা |
|
চিত্রনাট্যকার |
মো. নিয়ামুল হাসান |
রক্তজবা |
|
সংলাপ রচয়িতা |
রায়হান রাফী চৌধুরী |
সুড়ঙ্গ |
|
সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা |
দেশ পরিক্রমা
দেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষর করে। জাপানের রাজধানী টোকিওতে স্বাক্ষরিত চুক্তিটির নাম Bangladesh-Japan Economic Partnership Agreement (BJEPA)। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে EPA স্বাক্ষর করল বাংলাদেশ। দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও এটি। এর আওতায় তৈরি পোশাকসহ ৭,৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা ৭,৩ পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে ১,০৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত বা অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে জাপান। উল্লেখ্য, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ সরকার ও জাপান সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর-সম্পর্কিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
র্যাবের নতুন নাম SIF
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (RAB) নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (SIF) প্রস্তাব করা হয়। ২৬ মার্চ ২০০৪ বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে র্যাব গঠিত হয়। ২১ জুন ২০০৪ থেকে র্যাব পূর্ণাঙ্গভাবে অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করে। সূচনালগ্নে এই বাহিনীর নাম ছিল Rapid Action Team (RAT)।
১ম ও ২য় শ্রেণিতে ফিরল পরীক্ষা
১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয় প্রাথমিক শিক্ষার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সামষ্টিক মূল্যায়ন পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব শ্রেণিতে ধারাবাহিক মূল্যায়নও বহাল থাকবে। ২০২৩ সালে প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়গুলোতে ৫০% সামষ্টিক মূল্যায়ন ও ৫০% ধারাবাহিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা ছিল। অন্যদিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে শ্রেণিতে পুরোপুরি ধারাবাহিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়, সেসব বিষয়ে ৫০% ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও ৫০% সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে। একই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, সেসব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০% ও ৭০% সামষ্টিক মূল্যায়ন থাকবে।
BEZA'র অধীন বেসরকারি রপ্তানি অঞ্চল
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করা হয়। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ২০নং আইন) রহিত করা হয়। রহিত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল 'বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০'-এর আওতায় বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হিসেবে গণ্য হবে এবং এটির পরিচালনা ও তদারকি কার্যাবলি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (BEZA) উপর ন্যস্ত হবে। এছাড়া রহিত আইনের অধীন গঠিত গভর্নর বোর্ড ও নির্বাহী সেল বিলুপ্ত হবে এবং নির্বাহী সেলের কর্মকর্তা বা কর্মচারী, যদি থাকে, তারা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষে বদলি হবেন ও উহার কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে গণ্য হবেন।
দেশের প্রথম ফ্রি ট্রেড জোন
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশে বৈশ্বিক বাণিজ্য সংযোগ ৪ জোরদার ও শিল্পখাতে পণ্য সরবরাহের সময় কমাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় দেশের প্রথম Free Trade Zone (FIZ) স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (BEZA)। আনোয়ারায় প্রায় ৬০০-৬৫০ একর জমির ওপর এই জোন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ফ্রি ট্রেড জোন বলতে মূলত একটি অফশোর টেরিটরিকে বোঝায়। যেখানে পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ হবে না।
সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় নতুনভাবে প্রতিরক্ষা শিল্প পার্ক তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। মিরসরাইয়ে অবস্থিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৮৫০ একর জায়গায় বাংলাদেশ অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করবে। যুদ্ধক্ষেত্র বা অন্যান্য প্রয়োজনে হাইটেক অস্ত্র বা যুদ্ধবিমানের সংকট তৈরি হয় না। মূলত ঘাটতি দেখা দেয় গুলি ও ট্যাংকের এক্সেলের মতো যন্ত্রাংশের। সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশ সেনবাহিনী তাদের চাহিদা অনুযায়ী এ ধরনের অস্ত্র তৈরি করবে।
দেশে ড্রোন কারখানা
২৭ জানুয়ারি ২০২৬ আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারে মনুষ্যবিহীন আকাশযান (UAV) উৎপাদন, সংযোজন কারখানা স্থাপনসহ প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ও চায়না ইলেকট্রনিকস টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশন (CETC) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। এই উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর, সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্প দক্ষতা উন্নয়ন ও যৌথ কারিগরি সহযোগিতা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়াম অল্টিটিউড লো এনডুরেন্স ও ভার্টিক্যাল টেক-অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাটাগরির ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের সক্ষমতা অর্জন করবে।
একীভূত হচ্ছে পদ্মা-মেঘনা-যমুনা
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (BPC) ও এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর জনবল ও কর্মপরিধি যৌক্তিকীকরণ, সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস ও প্রয়োজনীয় অন্য সংস্কারের লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ BPC'র আটটি কোম্পানিকে পাঁচটিতে কমিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। তিনটি বিপণন কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা, যমুনাকে একীভূত করে দুটি কোম্পানি গঠন করা হবে। প্রসঙ্গত, বিপিসির নিয়ন্ত্রণে নিজস্ব সম্পূর্ণ মালিকানা ও অংশীদারত্বে আটটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
BRRI উদ্ভাবিত নতুন ধানের জাত
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনিস্টিটিউট (BRRI) উদ্ভাবিত ছয়টি নতুন উচ্চফলনশীল ধানের জাত দেশব্যাপী চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দুটি হাইব্রিড জাত, একটি ভিটামিন ই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কালো চালের জাত, একটি লবণাক্ততা সহনশীল, রোগ প্রতিরোধী জাত এবং হাওরাঞ্চলের জন্য উপযুক্ত ঠান্ডা সহনশীল একটি জাত। এই নতুন ছয়টি জাত যুক্ত হওয়ার ফলে এখন পর্যন্ত ব্রি উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা এখন ১২৭।
♦ ব্রি ধান-১১৫ দেশের প্রথম উচ্চফলনশীল কালো চালের জাত। যা এন্থার কালচার পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত। জাতটি ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ।
♦ ব্রি ধান-১১৬ হলো বোরো মৌসুমের একটি নাবি ও উচ্চফলনশীল জাত। এটি জনপ্রিয় ব্রি ধান-৯২-এর সমসাময়িক দীর্ঘ জীবনকালের জাত।
♦ ব্রি ধান-১১৭ বোরো মৌসুমের একটি স্বল্প লবণাক্ততা সহনশীল এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী জাত।
♦ হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য বিশেষভাবে উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১১৮। এটি প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডা সহনশীল হওয়ায় আগাম বপন করলেও ধান চিটা হয় না।
♦ নতুন অবমুক্ত দুটি হাইব্রিড জাত হলো ব্রি হাইব্রিড ধান-৯ ও ব্রি হাইব্রিড ধান-১০। ব্রি হাইব্রিড ধান-৯ ঢলে পড়া প্রতিরোধী এবং মাঝারি মাত্রার লবণাক্ততা সহনশীল।
গুম সংক্রান্ত সংরক্ষণী শর্ত প্রত্যাহার
রাষ্ট্র কর্তৃক নির্যাতন বা গুমের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তির বিরুদ্ধে কনভেনশনের অনুচ্ছেদ ১৪(১)-এর বিষয়ে বাংলাদেশের দেওয়া সংরক্ষণী শর্ত বিষয়ক ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতিসংঘে গৃহীত হয়। ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ ঘোষণাপত্র প্রত্যাহারের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ১০ ডিসেম্বর ১৯৮৪ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নির্যাতনবিরোধী Convention against Torture and Other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment গৃহীত হয়। ২৬ জুন ১৯৮৭ কনভেনশনটি কার্যকর হয়। ৫ অক্টোবর ১৯৯৮ বাংলাদেশ কনভেনশনটিতে অনুসমর্থন দেয়। বর্তমানে ১৭৫টি রাষ্ট্র এই কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে।
শিশুসংক্রান্ত কনভেনশনে যোগদান
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশকে ২৫ অক্টোবর ১৯৮০ স্বাক্ষর হওয়া Hague Convention on the Civil Aspects of International Child Abduction-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় দেড় কোটির মতো বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। অনেকেই অন্য দেশের নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সুস্পষ্ট আইন না থাকায় তাদের কোনো কারণে বিচ্ছেদ (সেপারেশন) হলে সন্তানের কাস্টোডি নিয়ে অসুবিধা তৈরি হয়। এই প্রস্তাব অনুমোদনের ফলে বিচ্ছেদের পর সন্তানের ভরণপোষণ বা সন্তানের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে জটিলতা দূর করা যাবে।
PBC'র সহসভাপতি
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের (PBC) ২০২৬ সালের জন্য পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ব্যুরো নির্বাচন হয়। সভায় মরক্কো সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়। আর বাংলাদেশসহ জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহসভাপতি নির্বাচিত হয়। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বাংলাদেশ এই কমিশনের সক্রিয় সদস্য। এর আগে ২০১২ ও ২০২২ সালে বাংলাদেশ এই কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে। আর ২০১৩ ও ২০২৩ সালে পালন করে সহসভাপতির দায়িত্ব।
দেশের প্রথম MVNO সিম চালু
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে প্রথমবারের মতো ভার্চুয়াল টেলিকম অপারেটর হিসেবে যাত্রা শুরু করে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (BTCL)-এর মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (MVNO) সিম। ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে BTCL'র রমনা, গুলিস্তান ও গুলশান বিক্রয়কেন্দ্রে এই প্যাকেজ পাওয়া যায়। ২৫ নভেম্বর ২০২৫ বিটিসিএলকে পরীক্ষামূলকভাবে MVNO নেটওয়ার্ক চালুর অনুমোদন দেওয়া হয়। MVNO বিটিসিএলের এমন একটি মোবাইল সেবা যা নিজস্ব টাওয়ার ছাড়াই অন্য অপারেটরের (বর্তমানে টেলিটক) নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত হয়। একে ভার্চুয়াল অপারেটর বলা হয়।
ঢাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক
২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অবসরপ্রাপ্ত চার অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন। ইমেরিটাস অধ্যাপকরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ.এফ.এম. ইউসুফ হায়দার, বিজ্ঞান অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. তাজমেরী এস ইসলাম এবং ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান। উল্লেখ্য, ইমেরিটাস অধ্যাপক উচ্চশিক্ষায়তনিক ক্ষেত্রে অধ্যাপনা পেশায় একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন পদ বা পদবি। চাকুরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের সাথে তার পার্থক্য হল অবসরগ্রহণের পরেও তিনি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষায়তনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ART চুক্তি
৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে 'এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড (ART)' স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে চূড়ান্তভাবে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কের হার ১% কমিয়ে ১৯% করা হয়। চুক্তিটি ২৩ নভেম্বর ২০১৩ স্বাক্ষরিত ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম অ্যাগ্রিমেন্টের (TICFA) ওপর ভিত্তি করে করা হয় এবং এর আলোকে বাস্তবায়িত হবে। এর আগে ২ এপ্রিল ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের জন্য ৩৭% পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ৩১ জুলাই ২০২৬ শুল্কহার কমিয়ে ২০% নির্ধারণ করা হয়, যা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। এখন বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক ১৯% করায় সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের উপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হলো ৩৪%।
যুক্তরাষ্ট্রকে যা দেবে
বাংলাদেশের ট্যারিফ লাইনে মোট পণ্যের সংখ্যা ৭,৪৫৮টি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় দেশটির ৭,১৩২টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে বাংলাদেশ। ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৪১টি পণ্য বাংলাদেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই ৪,৯২২টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা কার্যকর করে বাংলাদেশ। বাকিগুলোর মধ্যে ১,৫৩৮টি পণ্যের শুল্কহার পাঁচ বছরের মধ্যে শূন্য করা হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কোনো ধরনের কোটা আরোপ করা যাবে না। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে যেসব অশুল্ক বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য যাতে প্রতিযোগিতায় পড়ে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ যা পাবে
বাংলাদেশের ওপর পাল্টা শুল্ক ১৯% করা হলেও দেশটি থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম অন্ত দিয়ে তৈরি নির্দিষ্ট পরিমাণ পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক শূন্য করা হয়।
উৎস বিধির ক্ষেত্রে বিদেশি বা দেশীয় মূল্য সংযোজনের নির্দিষ্ট হার বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে জটিল মানদণ্ড পূরণের চাপ তুলনামূলক কম হবে, যা রপ্তানিকারকদের জন্য বাস্তব সুবিধা তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশের করণীয়
♦ চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে বলে অভিপ্রায় ব্যক্ত করে।
♦ যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) কেনার দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। আগামী ১৫ বছরে জ্বালানি আমদানির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয় প্রায় ১৫ বিলিয়ন।
♦ প্রতিবছর (পাঁচ বছরের জন্য) অন্তত ৭ লাখ মেট্রিক টন গম, এক বছরে সর্বোচ্চ ২৬ 'লাখ মেট্রিক টন সয়াবিন ও সয়াজাত পণ্য ও তুলা কিনবে।
♦ চুক্তির ৪.৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি 'নন-মার্কেট দেশ' (যুক্তরাষ্ট্রের সংজ্ঞায় চীন ও রাশিয়া)-এর সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য বা অগ্রাধিকারমূলক অর্থনৈতিক চুক্তি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি বাতিল করে আবার শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
♦ চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিতে যা রাজস্ব আদায় হয় তার ৩৮% ছাড় দিতে হবে বাংলাদেশকে।
বাণিজ্যচুক্তির শুল্কসুবিধার চিত্র
|
সুবিধার ধরন |
২০২৫ সালে আমদানি-রপ্তানি |
শুল্কসুবিধার আওতাধীন পণ্য |
পণ্যের মূল্য |
সম্ভাব্য শুল্কছাড় কত |
|
যুক্তরাষ্ট্রের ৬,৭১০ পণ্যে শুল্কছাড় |
২৬৩ কোটি ডলারের ২,৩৩৬ পণ্য |
যুক্তরাষ্ট্রের ২,০১৬টি পণ্য আমদানি |
৬৫ কোটি ডলার |
বাংলাদেশের রাজস্ব ছাড়, ৪১৯ কোটি টাকা |
|
তৈরি পোশাক বাংলাদেশের ১,৬৩৮ পণ্যে পাল্টা শুল্কছাড় |
১২৩ কোটি ডলারের ৬১৯ পণ্য |
বাংলাদেশের রপ্তানি ১৪টি পণ্য |
৬.৭০ লাখ ডলার |
যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব ছাড় দেড় কোটি টাকা, পাল্টা শুল্ক বাতিলের পর ছাড় শূন্য |
বাংলাদেশের শুল্কছাড়ের (সিডি, এসডি ও আরডি) হার ১ থেকে ৮৩০%। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কছাড় ১৯%, যা দেশটির আদালতে বাতিল।
দেশের ৫৭তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি
ঢাকার সাত সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠন করে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এরপর ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এটি বাংলাদেশের ৫৭তম সরকারি ও ৫ম স্বায়ত্তশাসিত সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রথম উপাচার্য
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ 'ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির' প্রথম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ এস মো. আবদুল হাছিব তিনি বুয়েটের স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন অনুষদের ডিনের দায়িত্বে ছিলেন। উপাচার্যের মেয়াদ হবে চার বছর। অবশ্য প্রয়োজন মনে করলে রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
৭ কলেজ
|
নাম |
প্রতিষ্ঠা |
অবস্থান |
|
ঢাকা কলেজ |
২০ নভেম্বর ১৮৪১ |
নিউ মার্কেট |
|
ইডেন মহিলা কলেজ |
১৮৭৩ সাল |
আজিমপুর |
|
সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ |
১১ নভেম্বর ১৯৪৯ |
লক্ষ্মীবাজার |
|
কবি নজরুল সরকারি কলেজ |
১৮৭৪ |
লক্ষ্মীবাজার |
|
বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ |
১৯৪৮ |
বকশীবাজার |
|
মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ |
২০ জুন ১৯৬২ |
মিরপুর |
|
সরকারি তিতুমীর কলেজ |
৭ মে ১৯৬৮ |
মহাখালী |
নবগঠিত মন্ত্রিসভা
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেন। মন্ত্রিসভার শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
|
নাম |
মন্ত্রণালয়/বিভাগ |
|
তারেক রহমান (ঢাকা-১৭) |
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ |
|
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং |
|
|
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ |
|
|
মন্ত্রী |
|
|
১. মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঠাকুরগাঁও-১) |
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় |
|
২. আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১১) |
অর্থ · পরিকল্পনা |
|
৩. সালাহউদ্দিন আহমদ (কক্সবাজার-১) |
স্বরাষ্ট্র |
|
৪. ইকবাল হাসান মাহমুদ (সিরাজগঞ্জ-২) |
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ |
|
৫. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম (ভোলা-৩) |
মুক্তিযুদ্ধ |
|
৬. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন (দিনাজপুর-৬) |
মহিলা ও শিশু সমাজকল্যাণ |
|
৭. ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট, ঢাকা) |
পররাষ্ট্র |
|
৮. আবদুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩) |
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন |
|
৯. কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (কুমিল্লা-৩) |
ধর্ম |
|
১০. মিজানুর রহমান মিনু (রাজশাহী-২) |
ভূমি |
|
১১. নিতাই রায় চৌধুরী (মাগুরা-২) |
সংস্কৃতি |
|
১২. খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর (সিলেট-১) |
শিল্প · বস্ত্র ও পাট · বাণিজ্য |
|
১৩. আরিফুল হক চৌধুরী (সিলেট-৪) |
শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান |
|
১৪. জহির উদ্দিন স্বপন (বরিশাল-১) |
তথ্য ও সম্প্রচার |
|
১৫. মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট, কুমিল্লা) |
খাদ্য · মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ · কৃষি |
|
১৬. আফরোজা খানম (রিতা) (মানিকগঞ্জ-৩) |
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন |
|
১৭. মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি (লক্ষ্মীপুর-৩) |
পানি সম্পদ |
|
১৮. আসাদুল হাবিব দুলু (লালমনিরহাট-৩) |
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ |
|
১৯. মো. আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১) |
আইন, বিচার ও সংসদ |
|
২০. জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮) |
গৃহায়ন ও গণপূর্ত |
|
২১. দীপেন দেওয়ান (রাঙ্গামাটি) |
পার্বত্য চট্টগ্রাম |
|
২২. আ ন ম এহসানুল হক মিলন (চাঁদপুর-১) |
শিক্ষা · প্রাথমিক ও গণশিক্ষা |
|
২৩. সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (নরসিংদী-৪) |
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ |
|
২৪. ফকির মাহবুব আনাম (টাঙ্গাইল-১) |
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি · বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি |
|
২৫. শেখ রবিউল আলম (ঢাকা-১০) |
সড়ক পরিবহন ও সেতু · রেলপথ · নৌপরিবহন |
|
প্রতিমন্ত্রী |
|
|
১. এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (জামালপুর-১) |
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন |
|
২. অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (যশোর-৩) |
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ |
|
৩. মো. শরীফুল আলম (কিশোরগঞ্জ-৬) |
বস্ত্র ও পাট |
|
৪. শামা ওবায়েদ ইসলাম (ফরিদপুর-২) |
পররাষ্ট্র |
|
৫. সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (টাঙ্গাইল-৫) |
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ |
|
৬. ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (নেত্রকোনা-১) |
ভূমি |
|
৭. ফরহাদ হোসেন আজাদ (পঞ্চগড়-২) |
পানি সম্পদ |
|
৮. মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট, ঢাকা) |
যুব ও ক্রীড়া |
|
৯. মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫) |
পার্বত্য চট্টগ্রাম |
|
১০. হাবিবুর রশিদ (ঢাকা-৯) |
রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক |
|
১১. মো. রাজিব আহসান (বরিশাল-৪) |
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু |
|
১২. মো. আব্দুল বারী (জয়পুরহাট-২) |
জনপ্রশাসন |
|
১৩. মীর শাহে আলম (বগুড়া-২) |
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় |
|
১৪. মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬) |
পরিকল্পনা |
|
১৫. ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬) |
মুক্তিযুদ্ধ |
|
১৬. ফারজানা শারমীন (নাটোর-১) |
সমাজকল্যাণ |
|
১৭. শেখ ফরিদুল ইসলাম (বাগেরহাট-৩) |
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন |
|
১৮. মো. নুরুল হক (পটুয়াখালী-৩) |
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান |
|
১৯. ইয়াসের খান চৌধুরী (ময়মনসিংহ-৯) |
তথ্য ও সম্প্রচার |
|
২০. এম ইকবাল হোসেইন (ময়মনসিংহ-৩) |
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ |
|
২১. এম এ মুহিত (সিরাজগঞ্জ-৬) |
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ |
|
২২. আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (পিরোজপুর-২) |
গৃহায়ন ও গণপূর্ত |
|
২৩. ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩) |
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা |
|
২৪. আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (রাজবাড়ী-১) |
সংস্কৃতি |
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
♦ মন্ত্রীর পদমর্যাদায়: মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ (রাজনৈতিক), নজরুল ইসলাম খান (রাজনৈতিক, কৃষি মন্ত্রণালয়), রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ (রাজনৈতিক, শিল্প মন্ত্রণালয়), মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ (জনপ্রশাসন), রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর (অর্থ)।
♦ প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায়: হুমায়ুন কবির, ব্রিগে. জে. (অব.) শামসুল ইসলাম (প্রতিরক্ষা), ডা. জাহেদ উর রহমান, মাহদী আমিন (শিক্ষা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান), রেহান আসিফ আসাদ (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি)।
শপথ অনুষ্ঠান
দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
তিন সরকারের শপথ
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সরকারকে শপথ পড়ান। সর্বশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে শপথ পড়ান। এর আগে ১১ জানুয়ারি ২০২৪ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের শপথ পাঠ করান। একই বছরে ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। ওই সরকারেরও শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রাষ্ট্র ক্ষমতায় বিএনপি ৫ বার
বিএনপি মোট ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাঁচবার-দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ, অষ্টম ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন।
|
তম |
নির্বাচনের তারিখ |
আসন |
ভোটের হার |
|
দ্বিতীয় |
১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৯ |
২০৭ |
৪১.২০% |
|
পঞ্চম |
২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯১ |
১৪০ |
৩০.৮০% |
|
ষষ্ঠ |
১৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৬ |
২৭৮ |
- |
|
সপ্তম |
১২ জুন, ১৯৯৬ |
১১৬ |
৩৩.৬০% |
|
অষ্টম |
১ অক্টোবর, ২০০১ |
১৯৩ |
৪০.৯৭% |
|
নবম |
২৯ ডিসেম্বর, ২০০৮ |
৩০ |
৩২.৫০% |
|
একাদশ |
৩০ ডিসেম্বর, ২০১৮ |
৬ |
১৩.৫১% |
|
ত্রয়োদশ |
১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ |
২০৯ |
৪৯.৯৭% |
টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী ৩ জন
টেকনোক্র্যাট কোটায় দুজন পূর্ণ মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ পান। পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও ড. খলিলুর রহমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। উল্লেখ্য, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মন্ত্রিসভার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হতে মনোনীত হতে পারবেন।
মন্ত্রিসভা কথন
নতুন মন্ত্রিসভায় তারেক রহমান ব্যতীত ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান। নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ৪১ জনই প্রথমবার দায়িত্ব পান। মন্ত্রিসভার ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে ৯ জন অতীতে মন্ত্রী ছিলেন। ৯ জন জীবনে প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই মন্ত্রী হন। বাকি সাতজন অতীতে সংসদ সদস্য হন, কিন্তু মন্ত্রী ছিলেন না। ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সবাই প্রথমবারের মতো এ দায়িত্ব পান। এর মধ্যে ২১ জন প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই প্রতিমন্ত্রী হন। একজন টেকনোক্র্যাট, বাকি দুজন অতীতে সংসদ সদস্য ছিলেন। প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, নুরুল হক ও ববি হাজ্জাজ রয়েছেন। যদিও ববি হাজ্জাজ নিজের দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেন।
মন্ত্রিসভায় মামা-ভাগ্নে
মন্ত্রিসভায় সিরাজগঞ্জ-২ ও সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও এম এ মুহিত নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তারা সম্পর্কে মামা ও ভাগ্নে। এর মধ্যে ইকবাল হাসান মাহমুদের ভাগ্নে এম এ মুহিত।
মন্ত্রিসভায় ৩ নারী
সদ্য গঠিত নতুন মন্ত্রিসভায় ৩ জন নারী রয়েছেন। এরা হলেন মন্ত্রী হিসেবে আফরোজা খানম (রিতা) এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ফারজানা শারমীন।
তারেক রহমান কততম প্রধানমন্ত্রী
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারেক রহমান দেশের ১৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনিসহ বাংলাদেশে এ-পর্যন্ত ১১ জন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেছেন। সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি হিসেবে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে, খালেদা জিয়া টানা ২ বারসহ মোট ৩ বার এবং শেখ হাসিনা টানা ৪ বারসহ মোট ৫ বার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমান দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে গণভোট
১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে চতুর্থ গণভোট এবং জাতীয় নির্বাচনের সাথে অনুষ্ঠিত প্রথম গণভোট। এ গণভোটে হ্যাঁ ভোট পড়ে শতকরা ৬৮.০৬% এবং না ভোট ৩১.৯৪%। গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, হ্যাঁ ভোট জয়যুক্ত হওয়ায় জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে সংবিধান সংস্কার করতে একটি গণপরিষদ গঠিত হবে যারা ১৮০, কর্ম দিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।
গণভোটে 'হ্যাঁ' বিজয়ী
♦ প্রদত্ত ভোট: ৭,৭৬,৯৫,০২৩
♦ বৈধ ভোট: ৭,০২,৭২,৩৮৬
♦ বাতিল ভোট: ৭৪,২২,৬৩৭
♦ 'হ্যাঁ' ভোট: ৪,৮২,০০,৬৬০
♦ 'না' ভোট: ২,২০,৭১,৭২৬
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ছাত্র-জনতার সফল গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রকাশিত জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশ্যে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের। সম্মতি আছে কি না এই প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফল নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করে।
টাইমলাইন
২০২৪
♦ ৫ আগস্ট: গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন।
♦ ৮ আগস্ট: মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন।
♦ ২৩ সেপ্টেম্বর: ১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচনের অঙ্গীকার করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
♦ ৩ অক্টোবর: ৫টি সংস্কার কমিশন গঠন। পরে তা দাঁড়ায় ১১টিতে।
২০২৫
♦ ১২ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন।
♦ ৫ আগস্ট: জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে।
♦ ১৭ অক্টোবর: জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর করেন ২২টি দল ও ২টি জোটের নেতারা। ২২টি দলের ১৮টি নিবন্ধিত। দুই জোটের যে চারজন নেতা স্বাক্ষর করেন, তাদের তিনজনের দল নিবন্ধনহীন। পরে একটি দল স্বাক্ষর করে।
♦ ২৫ নভেম্বর: গণভোট অধ্যাদেশ জারি। জুলাই জাতীয় সনদের ৪৮টি সাংবিধান সংস্কার প্রস্তাবে গণভোটের সুযোগ তৈরি করা হয়।
♦ ১১ ডিসেম্বর: প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন তফসিল ঘোষণা করেন।
২০২৬
♦ ২২ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রচার শুরু।
♦ ১২ ফেব্রুয়ারি: জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত।
ছায়া মন্ত্রিসভা
ছায়া মন্ত্রিসভা (Shadow Cabinet বা Shadow Ministry) হলো সংসদের বৃহত্তম বিরোধী দলের নেতৃত্বে একটি সমান্তরাল মন্ত্রিসভা। এখানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বিপরীতে একজন করে 'ছায়া মন্ত্রী' থাকেন। এই মন্ত্রীরা মূলত বিরোধীদলের আইনপ্রণেতা। তারা ক্ষমতায় না থাকলেও সংশ্লিষ্ট খাতের নীতি, বাজেট, আইন ও কর্মসূচি নিয়ে বিকল্প ভাবনা তুলে ধরেন।
ছায়া মন্ত্রিসভার কাজ
♦ প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত, ব্যয়, নীতি ও আইন প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে সমালোচনা ও প্রশ্ন তোলেন।
♦ শুধু বিরোধিতা নয়, একই ইস্যুতে নিজেদের নীতিগত সমাধান তুলে ধরেন।
♦ সংসদীয় বিতর্কে নেতৃত্ব: বাজেট, আইন, আন্তর্জাতিক চুক্তি, সব বড় আলোচনায় ছায়া মন্ত্রীরা খাতভিত্তিক বক্তব্য দেন।
♦ পরবর্তীতে নির্বাচনে জয়ী হলে এই ছায়া মন্ত্রীরাই প্রায়শই মন্ত্রীর দায়িত্ব পান, ফলে তাদের প্রশাসনিক প্রস্তুতি আগে থেকেই থাকে।
♦ সংবাদ সম্মেলন, নীতিগত প্রস্তাব-প্রচারণার মাধ্যমে সরকারের বিকল্প রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করে।
যেসব দেশে ছায়া মন্ত্রিসভা
ছায়া মন্ত্রিসভা মূলত গ্রেট ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চাকারী দেশগুলোয় বেশি প্রচলিত। ছায়া মন্ত্রিসভার সবচেয়ে কার্যকর, প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রভাবশালী রূপ দেখা যায় যুক্তরাজ্যে। এখানে বিরোধী দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় His Majesty's most loyal opposition অর্থাৎ রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত কিন্তু সরকারের বিরোধী। কানাডাতে ছায়া মন্ত্রিসভাকে কখনও 'অপজিশন ক্রিটিক' বলা হয়। সেখানে প্রতিটি খাতের জন্য সমালোচক নির্ধারিত থাকে। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, জ্যামাইকা, মালয়েশিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ আরও কয়েকটি ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশে বিভিন্ন মাত্রায় ছায়া মন্ত্রিসভার চর্চা রয়েছে।
প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ
বাংলাদেশে বর্তমানে ছায়া বা সাংবিধানিক কাঠামো নেই। ঐতিহাসিকভাবে এখানে এর খুব একটা চর্চাও হয়নি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের কথা বলে। বাংলাদেশে প্রথমবার ছায়া মন্ত্রিসভা গঠিত হলে, সেটি দেশের গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিএনপি'র নির্বাচনি ইশতেহার
♦ ঘোষণা: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
♦ স্লোগান: সবার আগে বাংলাদেশ
♦ দফা: ৫১টি
♦ বিভাগ: ৫টি
♦ প্রধান অঙ্গীকার: ৯টি
৫টি ভাগ
ইশতেহারকে ৫টি ভাগে পৃথক করা হয়। এগুলো হলো- রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার; বৈষম্যহীন আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও টেকসই রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা অর্জন; ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার; অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং ধর্ম, সমাজ, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও সংহতি।
৯টি অঙ্গীকার
♦ ফ্যামিলি কার্ড: মাসে ২,০০০-২,৫০০ টাকার আর্থিক বা খাদ্য সহায়তা
♦ কৃষক কার্ড: ভর্তুকি, সহজ ঋণ, কৃষি বিমা, ফসলের ন্যায্যমূল্য
♦ স্বাস্থ্যব্যবস্থা: এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ
♦ আনন্দময় কর্মমুখী শিক্ষা: শিক্ষানীতি প্রণয়ন, প্রযুক্তি সহায়তা
♦ কর্মসংস্থান: কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা
♦ ক্রীড়া: জীবিকার মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা, জেলা-উপজেলায় প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ
♦ পরিবেশ ও জলবায়ু: ২০ হাজার কিলোমিটার নদী- খাল খনন, ১৫ কোটি বৃক্ষরোপণ
♦ ধর্ম: সব ধর্মীয় নেতার জন্য সম্মানী ও কল্যাণ ব্যবস্থা চালু
♦ প্রযুক্তি: আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম, ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশে ১৯৭২-১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং ১৯৭৫-১৯৯১ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার-পদ্ধতি চালু ছিল। ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসে জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশে মন্ত্রিপরিষদ-শাসিত সরকার-পদ্ধতি পুনরায় চালু হয়।
এক নজরে প্রধানমন্ত্রী
|
নাম |
মেয়াদ |
জেলা |
|
১. তাজউদ্দিন আহমদ |
১৭ এপ্রিল ১৯৭১-১২ জানুয়ারি ১৯৭২ |
গাজীপুর |
|
২. শেখ মুজিবুর রহমান |
১২ জানুয়ারি ১৯৭২-২৬ জানুয়ারি ১৯৭৫ |
গোপালগঞ্জ |
|
৩. এম মনসুর আলী |
২৬ জানুয়ারি ১৯৭৫-১৫ আগস্ট ১৯৭৫ |
সিরাজগঞ্জ |
|
৪. শাহ আজিজুর রহমান |
১৫ এপ্রিল ১৯৭৯-২৪ মার্চ ১৯৮২ |
কুষ্টিয়া |
|
৫. আতাউর রহমান খান |
৩০ মার্চ ১৯৮৪-১ জানুয়ারি ১৯৮৫ |
ঢাকা |
|
৬. মিজানুর রহমান চৌধুরী |
৯ জুলাই ১৯৮৬-২৭ মার্চ ১৯৮৮ |
চাঁদপুর |
|
৭. মওদুদ আহমদ |
২৭ মার্চ ১৯৮৮-১২ আগস্ট ১৯৮৯ |
নোয়াখালী |
|
৮. কাজী জাফর আহমদ |
১২ আগস্ট ১৯৮৯-৬ ডিসেম্বর ১৯৯০ |
কুমিল্লা |
|
৯. বেগম খালেদা জিয়া |
২০ মার্চ ১৯৯১-১৯ মার্চ ১৯৯৬ |
ফেনী |
|
১৯ মার্চ-৩০ মার্চ ১৯৯৬ |
||
|
১০. শেখ হাসিনা |
২৩ জুন ১৯৯৬-১৫ জুলাই ২০০১ |
গোপালগঞ্জ |
|
১১. বেগম খালেদা জিয়া |
১০ অক্টোবর ২০০১-২৯ অক্টোবর ২০০৬ |
ফেনী |
|
১২. শেখ হাসিনা |
৬ জানুয়ারি ২০০৯-১২ জানুয়ারি ২০১৪ |
গোপালগঞ্জ |
|
১২ জানুয়ারি ২০১৪-৭ জানুয়ারি ২০১৯ |
||
|
৭ জানুয়ারি ২০১৯-১১ জানুয়ারি ২০২৪ |
||
|
১১ জানুয়ারি-৫ আগস্ট ২০২৪ |
||
|
১৩. তারেক রহমান |
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-বর্তমান |
বগুড়া |
AT A GLANCE: প্রধানমন্ত্রী
♦ ইংরেজি নাম: Prime Minister
♦ কার্যালয়: তেজগাঁও, ঢাকা বাংলাদেশের সরকার প্রধান ও মন্ত্রিপরিষদের প্রধান: প্রধানমন্ত্রী
♦ বাংলাদেশ সরকারের প্রধান নির্বাহী: প্রধানমন্ত্রী
♦ ন্যূনতম বয়স: ২৫ বছর
♦ নিয়োগ ও শপথবাক্য পাঠ করান: রাষ্ট্রপতি
♦ প্রথম প্রধানমন্ত্রী: তাজউদ্দীন আহমদ
♦ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান
♦ প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী: বেগম খালেদা জিয়া
♦ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: তারেক রহমান
♦ এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ১১ জন ব্যক্তি
♦ সর্বাধিক ৫ বার প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা
♦ বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী: আতাউর রহমান খান (দায়িত্ব গ্রহণকালে বয়স ৭৬ বছর ৯ মাস ২৯ দিন)
♦ সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী: বেগম খালেদা জিয়া (৪৪ বছর ৭ মাস ৫ দিন)
♦ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হন: ৩ বার
♦ মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
তারেক রহমান নতুন প্রধানমন্ত্রী
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশের ১৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। এর ফলে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে ফিরেছে পুরুষ নেতৃত্ব। তিনি দেশের নবম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী এবং ব্যক্তি হিসেবে ১১তম। উল্লেখ্য, তিনি বিশ্বের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যার পিতা রাষ্ট্রপতি আর মাতা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
তারেক রহমান ২০ নভেম্বর ১৯৬৫ (নির্বাচনি হলফনামায় ২০ নভেম্বর ১৯৬৮) ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম পিনু। তার পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (কমল) ও মাতা বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া (পুতুল)। তার একমাত্র ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো। তার স্ত্রীর নাম ডা. জোবাইদা রহমান ও একমাত্র সন্তান ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তারেক রহমান পেশায় একজন রাজনীতিবিদ।
শিক্ষা জীবন
ঢাকার বি এফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ১৯৮৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করেন। তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী থাকাকালীন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ইতি ঘটিয়ে বস্ত্রশিল্প ও নৌ-যোগাযোগ খাতে ব্যবসা শুরু করেন।
আটক ও কারাবরণ
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ২ জুলাই ১৯৭১ থেকে যুদ্ধের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি মায়ের সাথে সেনানিবাসে বন্দী ছিলেন। এছাড়া স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের সময় একাধিকবার গৃহবন্দী ছিলেন। ১১ জানুয়ারি ২০০৭ নিয়মতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অপসারণ করে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। ৭মার্চ ২০০৭ তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১/১১ এর সময় জিজ্ঞাসাবাদের নামে তার উপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়। প্রায় আঠারো মাস কারান্তরীণ থাকার পর ৩ সেপ্টেম্বর ২০০৮ সবগুলো মামলায় জামিন লাভ করেন। ১১ সেপ্টেম্বর ২০০৮ তারেক রহমান উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে আরও কিছু মামলাসহ মোট ৭৭টি মামলা দায়ের করা হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি সকল মামলা থেকে খালাস পান।
রাজনৈতিক জীবন
♦ ১৯৮৮: বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
♦ ১৯৯১ : ৫ম সংসদ নির্বাচনে দলের হয়ে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন।
♦ ১৯৯৩: বগুড়া জেলা বিএনপির সদস্য হন।
♦ ১৪ এপ্রিল ২০০০: সামাজিক উন্নয়ন ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেওয়া যায় সে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন 'জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন'।
♦ ২০০১: ৮ম সংসদ নির্বাচনে দেশব্যাপী প্রচারে ভূমিকা রাখেন।
♦ ২২ জুন ২০০২: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।
♦ ৮ ডিসেম্বর ২০০৯: দলের পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মনোনীত হন।
♦ ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮: খালেদা জিয়ার কারাবরণের পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন।
♦ ১৩ জুন ২০২৫: যুক্তরাজ্য সফররত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
♦ ৯ জানুয়ারি ২০২৬: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যানের পদে অভিষিক্ত হন।
We have a plan
৬,৩১৪ দিনের নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন তারেক রহমান। এদিন লাখো নেতাকর্মী 'জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে' এলাকায় তাকে ঐতিহাসিক সংবর্ধনা দেন। সংবর্ধনায় তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বক্তব্যের শুরুর দিকে তিনি বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামী কিংবদন্তি নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক সেই উক্তি উচ্চারণ করে বলেন- 'তিনি বলেছিলেন, I Have a Dream আর আজ আমি আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলছি, I have a plan।' পরে অবশ্য We have a plan বলেন। We have a plan for the people and for the country.
জাতীয় সংসদপ্রথম অধিবেশন
♦ শুরু: ৭ এপ্রিল ১৯৭৩
♦ শেষ: ১৯ এপ্রিল ১৯৭৩
♦ সংসদ নেতা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
♦ উপনেতা: সৈয়দ নজরুল ইসলাম
♦ স্পিকার: মোহাম্মদ উল্লাহ্
♦ ডেপুটি স্পিকার: মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ
♦ চিফ হুইপ: শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন
♦ অধিবেশন বসে: পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা।
FACT FILE
♦ নির্মাণে সিদ্ধান্ত: ১৩ জুন ১৯৫৯
♦ স্থান: শেরেবাংলা নগর, ঢাকা
♦ নির্মাণ শুরু: ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছরে
♦ প্রধান স্থপতি: প্রফেসর লুই আই কান
♦ ডিজাইনার: হেনরি এন. উইলকটস
♦ স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার: হ্যারি এম পামবাম
♦ মোট আয়তন: ২১৫ একর
♦ সংসদ ভবনের আয়তন: ৩.৪৪ একর
♦ ভবন উদ্বোধন: ২৮ জানুয়ারি ১৯৮২
♦ ভবনের প্রধান অঙ্গ: ৩টি; · সংসদ ভবন · দক্ষিণ প্লাজা · প্রেসিডেন্সিয়াল স্কয়ার
সংসদের আসন ব্যবস্থা
♦ সংসদ সদস্য: ৩৫৪টি
♦ অতিথি: ৫৬টি
♦ কর্মকর্তা: ৪১টি
♦ সাংবাদিক: ৮০টি
♦ দর্শক: ৪৩০টি
♦ ভবনের উচ্চতা: ১৫৫ ফুট ৮ ইঞ্চি
♦ সংসদ কক্ষের উচ্চতা: ১১৭ ফুট
মুক্তিযুদ্ধে নারী
মহান মুক্তিযুদ্ধে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে আন্তরিকতা, সাহসিকতা, শ্রম, বিচক্ষণতা, মেধা-মননশীলতা দিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এ জন্য নারীদের দেশ মাতৃকার জন্য ইজ্জত-সম্ভ্রমও বিসর্জন দিতে হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নারীদের অবদান নিয়ে আমাদের এই আয়োজন-
তারামন বিবি (১৯৫৭-১ ডিসেম্বর ২০১৮)
♦ জন্মস্থান: কুড়িগ্রাম জেলার চর রাজিবপুর উপজেলার শংকর মাধবপুর গ্রামে।
♦ ডাক নাম: তারাবানু।
♦ গেজেটে নাম: মোছাম্মৎ তারামন বেগম।
♦ যে সেক্টরে যুদ্ধ: তিনি কুড়িগ্রাম জেলার শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
♦ উপাধী: ১৯৭৩ সালে তাকে 'বীর প্রতীক' উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
♦ সম্মাননা গ্রহণ: ১৯ ডিসেম্বর ১৯৯৫ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তারামন বিবির হাতে 'বীর প্রতীক' সম্মাননা তুলে দেন।
ডা. ক্যাপ্টেন সিতারা বেগম (জন্ম: ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬)
♦ জন্মস্থান: তার জন্ম কলকাতায়। পৈতৃক নিবাস কিশোরগঞ্জ।
♦ পরিচয়: বৈবাহিক সূত্রে তিনি সিতারা রহমান নামে পরিচিত।
♦ ১৯৭০ সালে সেনাবাহিনীর মেডিকেল কোরে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেন।
♦ তিনি ২নং সেক্টরের অধীনে মেলাঘরে অবস্থিত বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল-এর কমান্ডিং অফিসার ছিলেন।
♦ তার ভাই আবু তাহের মোহাম্মদ হায়দার ২নং সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন ও তার ছোট ভাই এটিএম সাফদার ছিলেন রণাঙ্গণের যোদ্ধা।
♦ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের কারণে ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে 'বীরপ্রতীক' খেতাবে ভূষিত করে।
সেলিনা পারভীন (৩১ মার্চ ১৯৩১-১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১)
♦ জন্মস্থান: লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ছোট কল্যাণনগর গ্রামে।
♦ ডাক নাম: মনোয়ারা বেগম। ১৯৫৪ সালে তিনি এফিডেভিট করে সেলিনা পারভীন নাম গ্রহণ করেন।
♦ কর্ম: ১৯৬৯ সালে তার প্রচেষ্টায় প্রকাশিত হয় 'শিলালিপি' পত্রিকা।
♦ তিনি পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
♦ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ অপহৃত হন এবং তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়। ১৪ ডিসেম্বর ১৯৭১ রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে তার মৃতদেহ পাওয়া যায়।
♦ তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহিদ একমাত্র নারী সাংবাদিক।
কাঁকন বিবি (১৯১৫-২১ মার্চ ২০১৮)
♦ জন্মস্থান: সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ঝিরাগাঁও গ্রামে। তিনি খাসিয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন।
♦ আসল নাম: কাঁকাত হেনইঞ্চিতা। তিনি মুক্তিবেটি নামে পরিচিত।
♦ প্রথমে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ৫নং সেক্টরে গুপ্তচরের কাজ করলেও পরবর্তী সময়ে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন।
মেহেরুন্নেসা (২০ আগস্ট ১৯৪২-২৭ মার্চ ১৯৭১)
♦ জন্মস্থান: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের খিদিরপুর।
♦ তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রথম নারী কবি।
♦ ১৯৬৯-এর আইয়ুব খান বিরোধী উত্তাল গণআন্দোলনে 'রানু আপা' ছদ্মনামে রাজনৈতিক প্রবন্ধ লেখেন।
♦ ১৯৫৪ সালে খেলাঘরের পাতায় তার প্রথম কবিতা 'চাষী' প্রকাশিত হয়।
বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি
১৯৭২ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতিত নারীদের 'বীরাঙ্গনা' স্বীকৃতি দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়। সেই বীরাঙ্গনারা এখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। ১৩ অক্টোবর ২০১৪ জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী এবং রাজাকারদের হাতে নির্যাতিত নারীদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ২৯ জানুয়ারি ২০১৫ জাতীয় সংসদে ঐ প্রস্তাব পাস হয়। পরবর্তীতে তাদের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ জারিকৃত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪১ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পর '৭১-এ নির্যাতিত বীরাঙ্গনারা। প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। বর্তমানে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৫০৪ জন।


