Monthly Affairs
|
|
বাংলাদেশ
Bangladesh
August, 2026
কালানুক্রমিক ঘটনাবলি
০৩ আগস্ট ২০২৬
♦ ঢাকার জলসিঁড়ি আবাসিক এলাকায় আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন।
♦ মন্ত্রিসভার বৈঠকে 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬'-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন।
০৪ আগস্ট ২০২৬
♦ সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
♦ চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক কালুরঘাটস্থ স্বাধীনতা কমপ্লেক্সকে 'জিয়া স্মৃতি কমপ্লেক্স' নামকরণ করে প্রজ্ঞাপন জারি।
০৬ আগস্ট ২০২৬
♦ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৮৫তম প্রয়াণবার্ষিকী।
♦ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
০৯ আগস্ট ২০২৬
♦ আর্থিক খাতে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং আমানতকারী ও অন্যান্য পাওনাদারের স্বার্থ সংরক্ষণের লক্ষ্যে চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
১০ আগস্ট ২০২৬
♦ দেশে প্রথমবারের মতো তিনটি গ্রামকে 'SDG ভিলেজ' হিসেবে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
♦ 'ভিসা নীতিমালা ২০২৬' এবং 'জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬'-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।
♦ পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে 'অভিযাত্রী কমিউটার' নামে ট্রেন চালু।
১১ আগস্ট ২০২৬
♦ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত (BLRI) বার্ড ফ্লু ও গোট পক্সের টিকা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরকে হস্তান্তর।
♦ বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালু করতে বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার।
১৫ আগস্ট ২০২৬
♦ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো-সায়েন্সেস ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধন।
♦ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত।
১৬ আগস্ট ২০২৬
♦ বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২৮তম টেস্ট ম্যাচে জয় লাভ করে।
♦ খুলনার প্রবেশদ্বার জিরো পয়েন্টকে 'নজরুল চত্বর' ঘোষণা।
১৭ আগস্ট ২০২৬
♦ 'স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬'-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
♦ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান।
♦ বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
♦ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের নতুন সময় ১ এপ্রিল-৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়।
১৮ আগস্ট ২০২৬
♦ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করে।
১৯ আগস্ট ২০২৬
♦ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৯,৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
২০ আগস্ট ২০২৬
♦ দেশে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি শুরু হয়।
♦ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
২১ আগস্ট ২০২৬
♦ চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
♦ বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস-এর ওয়েবসাইটে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হয়।
২৩ আগস্ট ২০২৬
♦ বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পান।
২৪ আগস্ট ২০২৬
♦ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
♦ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় 'আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২৯' জারি করে।
২৭ আগস্ট ২০২৬
♦ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু।
♦ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী।
আলোচিত বাংলাদেশ
নব-নিযুক্ত
দুদকের চেয়ারম্যান
১৭ আগস্ট ২০২৬ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।
দুদকের চেয়ারম্যান আপিল বিভাগের বিচারপতির সমান এবং কমিশনাররা হাইকোর্টের বিচারপতির সমান বেতন-ভাতা ও পদমর্যাদা পাবেন। ২৭ আগস্ট ২০০৫ এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে স্থায়ী হন।
দুদকের ৭ সাবেক চেয়ারম্যান
|
নাম |
সময়কাল |
|
বিচারপতি সুলতান হোসেন খান |
২২ নভেম্বর ২০০৪-১০ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ |
|
লে. জে. (অব) হাসান মশহুদ চৌধুরী |
২২ ফেব্রুয়ারি ২০০৭-২ এপ্রিল ২০০৯ |
|
গোলাম রহমান |
২৪ জুন ২০০৯-২৩ জুন ২০১৩ |
|
এম বদিউজ্জামান |
২৬ জুন ২০১৩-১৩ মার্চ ২০১৬ |
|
ড. ইকবাল মাহমুদ |
১৪ মার্চ ২০১৬-৯ মার্চ ২০২১ |
|
মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ |
১০ মার্চ ২০২১-২৯ অক্টোবর ২০২৪ |
|
ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন |
১০ ডিসেম্বর ২০২৪-৩ মার্চ ২০২৬ |
সম্মেলন-বৈঠক
BRICS শীর্ষ সম্মেলন
♦ আয়োজন: ১৮তম।
♦ সময়কাল: ১২-১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
♦ স্থান: ভারত।
আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলন (ভার্চুয়ালি)
♦ আয়োজন: ২৬তম।
♦ সময়কাল: ২৬-৩১ জুলাই ২০২৬
♦ স্থান: রিও ডি জেনিরো, ব্রাজিল
পুরস্কার-সম্মাননা
আন্তর্জাতিক আরবি কথাসাহিত্য পুরস্কার
Arabic Booker Prize নামে পরিচিত আন্তর্জাতিক আরবি কথাসাহিত্য পুরস্কার। ২০২৬ সালের International Prize for Arabic Fiction লাভ করেন আলজেরিয়ার ঔপন্যাসিক সাঈদ খতিবি। তার Swimming Against the Tide উপন্যাসের জন্য তিনি এই পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৮ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিজয়ী ৫০,০০০ মার্কিন ডলার পান এবং সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকা ছয়জন লেখক প্রত্যেকে ১০,০০০ মার্কিন ডলার পান।
রিপোর্ট-সমীক্ষা
♦ বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ: ২০২৫-২৬
♦ মোট ৩৫,৫৮৯.৪ মি.মা.ড.
♦ শীর্ষ ১০ দেশ থেকে রেমিটেন্স (মি.মা.ড)
|
দেশ |
রেমিটেন্স |
|
১. সৌদি আরব |
৫,৮৪৯.১ |
|
২. যুক্তরাজ্য |
৫,০৭২.০ |
|
৩. স. আরব আমিরাত |
৪,৫৮৩.৯ |
|
৪. মালয়েশিয়া |
৩,৪০৩.৭ |
|
৫. যুক্তরাষ্ট্র |
৩,০১৩.১ |
|
৬. ইতালি |
২,০৫১.৫ |
|
৭. ওমান |
২,০৪৮.১ |
|
৮. কুয়েত |
১,৭৬৩.৭ |
|
৯. কাতার |
১,৫৫৮.৫ |
|
১০. সিঙ্গাপুর |
১,৪৯৩.৯ |
বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ আমদানি পণ্য ২০২৫-২৬ (কোটি টন)
|
পণ্য |
পরিমাণ |
ব্যবহার |
|
১. কয়লা |
২.০৭ |
বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি |
|
২. ক্লিংকার |
১.৯২. |
সিমেন্টের কাঁচামাল |
|
৩. চূর্ণ পাথর |
১.৬৮ |
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড |
|
৪. স্ল্যাগ |
০.৮৩ |
সিমেন্টের কাঁচামাল |
|
৫. গম |
০.৭৪ |
ভোগ্যপণ্য |
|
৬. চুনাপাথর |
০.৬০ |
সিমেন্টের কাঁচামাল |
|
৭. স্ক্র্যাপ |
০.৫৭ |
রড তৈরির কাঁচামাল- |
|
৮. বড় পাথর |
০.৫৫ |
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে |
|
৯. এলএনজি |
০.৫১ |
জ্বালানি পণ্য |
|
১০. ছাই |
০.৫০ |
সিমেন্টের কাঁচামাল |
চীন থেকে শীর্ষ ১১ দেশের আমদানির চিত্র
|
দেশ |
হিস্যা |
|
১. কম্বোডিয়া |
৪৬.৮% |
|
২. মিয়ানমার |
৩৩.৫% |
|
৩. পেরু |
৩৩.৫% |
|
৪. বাংলাদেশ |
৩০.৬% |
|
৫. অস্ট্রেলিয়া |
২৫.৫% |
|
৬. ব্রাজিল |
২৪.৯% |
|
৭. চিলি |
২৪.৯% |
|
৮. রাশিয়া |
২৪.৮% |
|
৯. শ্রীলংকা |
২৩.৩% |
|
১০. জাপান |
২২.৫% |
|
১১. ভারত |
১৮.২% |
দেশ পরিক্রমা
আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট
৩ আগস্ট, ২০২৬ রাজধানীর জলসিঁড়ি এলাকায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান 'আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউট (AIII) নামের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সেনা প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
একই সঙ্গে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে প্রতিষ্ঠিতব্য আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটগুলোর ভিত্তি-প্রস্তর উন্মোচন করা হয়। ক্যামব্রিজ কারিকুলামভিত্তিক ইংরেজি মাধ্যমের আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতি এবং মূল্যবোধ-ভিত্তিক শিক্ষার সমন্বয়ে AIII প্রতিষ্ঠা করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা, আদর্শ, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বিকাশের এক উৎকৃষ্ট কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সেখানকার শিক্ষার্থীরা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে জ্ঞান, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ আদর্শ সুনাগরিক হিসেবে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে।
চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান অকার্যকর
৯ আগস্ট ২০২৬ ব্যাংক বহির্ভূত চার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর্থিক খাতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার পর এবার অকার্যকর ঘোষণা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড।
ফ্যামিলি কার্ডের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
১৬ আগস্ট ২০২৬ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অক্টোবরের শেষ নাগাদ পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে এর কার্যক্রম শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে ৪ বছরের মধ্যে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে প্রকৃত দরিদ্রদেরই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। উল্লেখ্য, ১০ মার্চ ২০২৬ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
দেশের সর্ববৃহৎ রিফাইনারি
২০২১ সালে সরকার সিআরইউভিত্তিক ফ্র্যাকশনেশন প্লান্ট ও বেসরকারি রিফাইনারিগুলোকে কনডেনসেট (লাইট ক্রুড) আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এ প্রেক্ষাপটে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি দেশের সর্ববৃহৎ রিফাইনারি নির্মাণ করছে। ২০২৭ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানটির নতুন রিফাইনারি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সুপার পেট্রোকেমিক্যালের বর্তমান রিফাইনারির বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা ৫ লাখ টন। সম্প্রসারিত রিফাইনারির সক্ষমতা ১৭ লাখ টন। সব মিলিয়ে রিফাইনারি ও স্টোরেজ সক্ষমতা দাঁড়াবে ২২ লাখ টনে। দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ERL) ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
রিফাইনারি কী: রিফাইনারি (Refinery) বা পরিশোধনাগার হলো একটি বিশেষ শিল্প কারখানা, যেখানে খনিজ বা অপরিশোধিত কাঁচামালকে রাসায়নিক ও ভৌত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন ব্যবহারযোগ্য উপাদানে রূপান্তর করা হয়। যেমন: পেট্রোল/অকটেন, ডিজেল, কেরোসিন, এলপিজি (LPG) ইত্যাদি।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন
২১ আগস্ট ২০২৬ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়। বর্তমানে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ ২৭ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী এর মধ্যে ৪ জন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী।
|
নাম |
মন্ত্রণালয়/বিভাগ |
|
মন্ত্রী |
|
|
ড. আবদুল মঈন খান |
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় |
|
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত |
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় |
|
সাচিং প্রু |
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
|
আন্দালিভ রহমান |
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় |
|
আফরোজা খানম |
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় |
|
প্রতিমন্ত্রী |
|
|
হুমায়ুন কবির (টেকনোক্র্যাট) |
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় |
|
মোহাম্মদ শামীম কায়সার |
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় |
|
উপদেষ্টা |
|
|
জহির উদ্দিন স্বপন |
রাজনৈতিক উপদেষ্টা |
ব্যক্তিপর্যায়ে বাংলা কিউআর
১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি সরাসরি আরেক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) ওয়ালেটে টাকা পাঠাতে পারবেন। এ জন্য ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপে বাংলা কিউআর তৈরি এবং গ্যালারি থেকে কিউআরের ছবি আপলোডের সুবিধা চালু করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি গ্রাহক নিজ নিজ ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপে একটি 'পার্সোনাল বাংলা কিউআর' পাবেন। প্রাপক মোবাইলের স্ক্রিনে কিউআর দেখাবেন। প্রেরক নিজের অ্যাপ দিয়ে সেটি স্ক্যান করে অর্থ পাঠাতে পারবেন।
র্যাবের নতুন নাম
১৭ আগস্ট ২০২৬ মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। এই আইনের মাধ্যমে বিদ্যমান র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ইউনিট র্যাব। বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে পরিচালিত এই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২৬ মার্চ ২০০৪ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল তাদের কার্যক্রম শুরু করে। ১০ ডিসেম্বর ২০২১ র্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন অর্থবছর
১৭ আগস্ট ২০২৬ মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের নতুন সময় ১ এপ্রিল-৩১ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। এতদিন বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই-৩০ জুন হিসাব করা হতো। তবে আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সকল কার্যক্রম শুরু হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজনের সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এছাড়া অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।
যেভাবে অর্থবছরের সূচনা
সাধারণ বছর আর অর্থবছর (Fiscal Year) এক নয়। দেশের হিসাব-নিকাশ, রাষ্ট্রীয় আয়-ব্যয় পরিকল্পনা অর্থবছর ধরেই হয়। বছরের শুরু ও শেষ পূর্বনির্ধারিত, কারও পরিবর্তন করার ক্ষমতা নেই, কিন্তু অর্থবছর পরিবর্তন করা যায়। ব্রিটেনে চার বছর বাজেট এপ্রিল-মে, এমনকি জুন মাসে উপস্থাপিত হলেও ১৮৬৫ সাল থেকে স্থায়ীভাবে ১ এপ্রিল থেকে অর্থবছর শুরুর বিধান কার্যকর হয়। বাংলাদেশে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল থেকে পাওয়া অর্থবছরই (জুলাই-জুন) অনুসরণ করা হচ্ছে। কিছু দেশের অর্থবছর-
♦ ১ জুলাই-৩০ জুন অস্ট্রেলিয়া, ভুটান, পাকিস্তান ও মিসর
♦ ১ এপ্রিল-৩১ মার্চ জাপান, ভারত, হংকং, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও মিয়ানমার।
♦ ১ জানুয়ারি-৩১ ডিসেম্বর তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, রাশিয়া, কাতার, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজিল, সৌদি আরব, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, শ্রীলংকা ও ফ্রান্স
♦ ১ অক্টোবর-৩০ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও থাইল্যান্ড।
গোলাপি রঙে মহিলা বাস
১৮ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (BRTC) মহিলাদের জন্য ঢাকা, বগুড়া ও চট্টগ্রামে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু করে। বাসগুলোর রঙ গোলাপি এবং গায়ে লেখা রয়েছে 'মহিলা বাস সার্ভিস'। বাসের চালক ও চালকের সহকারী- দুজনই থাকবেন মহিলা। রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলছে ১০টি বাস। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় চলছে আরও ৪টি বাস। উল্লেখ্য, মহিলা যাত্রীদের জন্য ১০০টি পিংক কালারের ইলেকট্রিক বাস ক্রয়ের উদ্যোগ নেয় সরকার। আগামী তিন মাসের মধ্যে ৫০টি এবং পর্যায়ক্রমে ১০০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
টাইমলাইনে মহিলা বাসসেবা
♦ ১৯৯৮: BRTC'র মহিলা বাস সার্ভিস পরীক্ষামূলকভাবে চালু
♦ ২৫ অক্টোবর ২০০১: ঢাকা ও চারপাশে সম্প্রসারণ
♦ ২০০৯: বন্ধ হয়ে যাওয়া সেবাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়
♦ ২ জুন ২০১৮: পরিবহন সংস্থা র্যাংগস 'দোলনচাঁপা' নামে নারী বাস সেবা শুরু করে
♦ ২৩ অক্টোবর ২০২২: দোলনচাঁপার সেবা বন্ধ
♦ ১৮ আগস্ট ২০২৬: BRTC'র 'পিংক বাস সার্ভিস' চালু।
ঢাকার বৃত্তাকার নৌপথ
ঢাকার চারপাশে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদী মিলিয়ে প্রায় ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ বৃত্তাকার নৌপথ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রাথমিকভাবে গাবতলী-সদরঘাট নৌপথে বেসরকারি উদ্যোগে যাত্রীবাহী নৌযান চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়। দীর্ঘ মেয়াদে-গাবতলী থেকে আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, সদরঘাট ও বছিলা একটি পূর্ণাঙ্গ বৃত্তাকার পথ বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে ২৮ আগস্ট ২০১০ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (BIWTC) বাদামতলী-গাবতলী পথে এবং ২২ নভেম্বর ২০১৪ নারায়ণগঞ্জ-টঙ্গী পথে ওয়াটার বাস চালু করে। তিন দফায় মোট ১২টি ওয়াটার বাস নামানো হয়। কিন্তু আর্থিকভাবে লোকসানের প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে নারায়ণগঞ্জ-টঙ্গী এবং ২০২০ সালের মার্চে বাদামতলী-গাবতলী পথে ওয়াটার বাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
সামুদ্রিক কনভেনশন অনুসমর্থন
সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা (Maritime Liability) কনভেনশনে যোগ দেয় বাংলাদেশ। ৫ জুলাই ২০২৬-লন্ডনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (IMO) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংস্থাটির মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের দলিল হস্তান্তর করা হয়। বাংলাদেশ যে ৩টি কনভেনশনে যোগ দেয় সেগুলো হলো- আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির দায়বদ্ধতা বিষয়ক ১৯৯২ প্রোটোকল (CLC protocol), বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ২০০১ (Bunker Convention) এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন ২০০৭ (Wreck Removal Convention)
Pax Silica-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ
Pax Silica মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কৌশলগত উদ্যোগ, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) পরিকাঠামো, উন্নত সেমিকন্ডাক্টর এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের জন্য সুরক্ষিত ও স্থিতিস্থাপক সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ গঠন করা হয়। আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, চিলি, কোস্টারিকা, এল সালভাদোর, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, ভারত, ইসরায়েল, জাপান, কাজাখস্তান, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পানামা, ফিলিপাইন, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইডেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয়-ইউনিয়ন এই ২৪টি দেশ ও সংস্থা Pax Silica-এর সদস্য। ২ আগস্ট ২০২৬ যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর বাংলাদেশকে Pax Silica Alliance-এ যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। Pax অর্থ শান্তি ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি এবং Silica অর্থ সিলিকন তৈরির মূল উপাদান, যা কম্পিউটার চিপ এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পের ভিত্তি।
WAICO'র পর্যবেক্ষক
১৬ জুলাই ২০২৬ চীনের নেতৃত্বে বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা (WAICO) গঠন করা হয়। WAICO'র লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা এবং বিভিন্ন দেশে এমন এআই নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে প্রযুক্তিটি মানুষের জন্য নিরাপদ ও উপকারী হয়। বর্তমানে এর সদস্য দেশ ৩০টি। ১ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশ চীনের নেতৃত্বাধীন নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা WAICO-এর পর্যবেক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
নদীর বালুতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা
♦ জরিপ পরিচালিত হয় ৮টি নদীতে, ৫,৪৮১ বর্গ কি.মি. এলাকায়
♦ নমুনা সংগ্রহ: ৬,৬০০টির বেশি
♦ ৮০০টির বেশি নমুনার বিশ্লেষণ
♦ সংগৃহীত বালুর প্রায় ৯৪% স্যান্ড ফ্রাকশন
♦ বছরে নতুন বালু যুক্ত হয় ১ থেকে ১.৫ বিলিয়ন টন
♦ প্রধান নদীগুলোতে ৩০০ বিলিয়ন টনের বেশি বালু রয়েছে
♦ লাইট মিনারেল অংশে কোয়ার্টজের পরিমাণ প্রায় ৮৮.৭ শতাংশ
নদীর বালুতে ভারী খনিজ
♦ শীতলক্ষ্যা ও ফেনী-মুহুরী: ৬-১০%
♦ তিস্তা: ৭-১২%
♦ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র: ৮-১২%
♦ মেঘনা: ৭-১১%
♦ পদ্মা: ৮-১৩%
♦ ব্রহ্মপুত্র যমুনা: ১০-১৫%
নবগঠিত সংস্থা: ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ
পটভূমি
৯ জুলাই ২০২৬ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর খসড়ার নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ১৫ জুলাই ২০২৬ জাতীয় সংসদে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬' পাশ হয়। ১৬ জুলাই ২০২৬ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ২০ আগস্ট ২০২৬ আইনটি কার্যকর করে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ (Invest Bangladesh Authority) প্রতিষ্ঠা করা হয়। আইনটি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন, ২০১০, বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব আইন, ২০১৫, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০১৬, এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ বিলুপ্ত হয় এবং একই সাথে আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করা হয়।
কেন নতুন কর্তৃপক্ষ
দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন দ্রুত ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে আকৃষ্ট, শিল্প স্থাপনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে অবকাঠামো নির্মাণ, বিনিয়োগকারীদেরকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের মাধ্যমে বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়।
♦ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় পরিচালিত কর্তৃপক্ষ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হবে
♦ ১ জন চেয়ারম্যান ও ৭ জন সদস্যের সমন্বয়ে কর্তৃপক্ষ গঠিত হবে
♦ চেয়ারম্যান কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হবেন
♦ প্রধান কার্যালয় ঢাকায় থাকবে এবং সরকারের অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনবোধে যেকোনো স্থানে শাখা কার্যালয় বা লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা যাবে।
♦ ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।
গভর্নিং বোর্ড
গভর্নিং বোর্ড গঠিত হবে- প্রধানমন্ত্রী বা তৎকর্তৃক মনোনীত একজন ব্যক্তি (সভাপতি)
♦ অর্থমন্ত্রী
♦ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী
♦ পররাষ্ট্রমন্ত্রী
♦ ভূমিমন্ত্রী
♦ শিল্পমন্ত্রী
♦ বাণিজ্যমন্ত্রী
♦ প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব
♦ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী
♦ অর্থসচিব
♦ স্বরাষ্ট্রসচিব
♦ গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক
♦ সরকার কর্তৃক মনোনীত অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ সচিব
♦ বেসরকারি খাতের ৪ জন প্রতিনিধি (তন্মধ্যে ২ জন হবে নারী)
♦ চেয়ারম্যান (যিনি সদস্য-সচিবও হবেন)।
♦ বোর্ড প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তিকে উহার সদস্য হিসাবে কো-অপ্ট করিতে পারবে।
দায়িত্ব ও কার্যাবলি
♦ দেশি ও বিদেশি পুঁজি বিনিয়োগ বিকাশের জন্য আর্থিক ও অ-আর্থিক সুযোগ, সুবিধা ও প্রণোদনার প্রস্তাব অনুমোদন।
♦ শিল্পাঞ্চলের পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের অঙ্গীকারসমূহ বাস্তবায়নে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রযোজ্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন, চুক্তি ও বিধি বিধান পরিপালনে দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রম উৎসাহিত্যকরণ।
♦ দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার মাধ্যমে দক্ষ কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চলের অভ্যন্তরে ও বহির্ভূত-স্থানে পশ্চাৎ সংযোগ শিল্প স্থাপন।
♦ শিল্পাঞ্চলের উন্নয়ন ও পরিচালনায় সরকারি ও বেসরকারি যৌথ অংশীদারত্বকে উৎসাহিতকরণ।
♦ পিপিপি প্রকল্পভিত্তিক বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, প্রণোদনা, সরকারি আর্থিক অংশগ্রহণ বা সহায়ক সুবিধাদি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত প্রদান বা সুপারিশ করা।
বিলুপ্ত প্রতিষ্ঠান
|
নাম |
ইংরেজি |
গঠিত |
|
পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ |
Public-Private Partnership Authority (PPPA) |
আগস্ট ২০১০ |
|
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ |
Bangladesh Economic Zones Authority (BEZA) |
৯ নভেম্বর ২০১০ |
|
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ |
Bangladesh Investment Development Authority (BIDA) |
১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ |
দেশের সর্বশেষ ইউনিয়ন
|
ইউনিয়ন |
স্থান |
আয়তন (বর্গকিমি) |
জনসংখ্যা |
|
বরিশল |
আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) |
১১.৮৭ |
১৭,৬৮৪ |
|
বেতগাড়ী |
শিবগঞ্জ (বগুড়া) |
১৪.৯৭ |
১৮,৯২৪ |
|
স্বর্ণগ্রাম |
মোকামতলা (বগুড়া) |
১৮.৫২ |
১৮,৯৩৪ |
|
জগন্নাথপুর |
মোকামতলা (বগুড়া) |
১৩.১০ |
১৬,২৬৭ |
|
রহবল |
মোকামতলা (বগুড়া) |
১২.৬৮ |
১৭,৭৫৯ |
দৃষ্টিপাত: ইউনিয়ন
♦ মোট: ৪,৫৮৫টি
আয়তনে
♦ বৃহত্তম: সাজেক (বাঘাইছড়ি, রাঙ্গামাটি); আয়তন ১,৭৭১.৫৫ বর্গ কিমি।
♦ ক্ষুদ্রতম: নাঙ্গলমোড়া (হাটহাজারী, চট্টগ্রাম), ১.৮৭ বর্গ কিমি।
জনসংখ্যায়
♦ বৃহত্তম: ধামসোনা (সাভার, ঢাকা); জনসংখ্যা ৪,৫৬,৯৮২।
♦ ক্ষুদ্রতম: সুতালড়ী (হরিরামপুর, মানিকগঞ্জ); জনসংখ্যা ১,৫৮২।
♦ সর্বউত্তরে: বাংলাবান্ধা (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়)।
♦ সর্বদক্ষিণে: সেন্টমার্টিন (টেকনাফ, কক্সবাজার) ।
♦ সর্বপূর্বে: তিন্দু (থানচি, বান্দরবান)।
♦ সর্বপশ্চিমে: মনাকষা (শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
♦ সর্বাধিক- বিভাগ: চট্টগ্রাম, ৯৫৯
♦ জেলা: কুমিল্লা, ১৯৩
♦ উপজেলা: রায়পুরা (নরসিংদী), ২৪।
♦ কম উপজেলা: রামগড় (খাগড়াছড়ি), ২।
♦ সবচেয়ে কম- বিভাগ: সিলেট, ৩৩৯।
♦ জেলা: মেহেরপুর, ২০।
♦ উপজেলা: রামগড় (খাগড়াছড়ি), ২।
দেশের SDG ভিলেজ
SDG
২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৫ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট '২০৩০ এজেন্ডা' গৃহীত হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মূলমন্ত্র হবে 'কাউকে পশ্চাতে রেখে নয় (No one will be left behind)' নীতি অনুসরণ। SDG'র ১৭টি অভীষ্ট এবং এর ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নে বিশ্বের প্রায় সকল দেশ একমত হয়। SDG'র অভীষ্টসমূহ-
১. দারিদ্র্য বিমোচন; ২. ক্ষুধামুক্তি; ৩. সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ; ৪. মানসম্মত শিক্ষা; ৫. জেন্ডার সমতা; ৬. বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন; ৭. সাশ্রয়ী ও টেকসই জ্বালানি; ৮. সবার জন্য ভালো কাজ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি; ৯. শিল্প, উদ্ভাবন ও উন্নত অবকাঠামো; ১০. বৈষম্য হ্রাসকরণ; ১১. টেকসই শহর; ১২. সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার; ১৩. জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধ; ১৪. সমুদ্র সুরক্ষা; ১৫. ভূমির সুরক্ষা; ১৬. শান্তি ও ন্যায়বিচার; ১৭. লক্ষ্য অর্জনের জন্য অংশীদারত্ব।
১০-১২ আগস্ট ২০২৬ রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো নির্ধারণবিষয়ক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো তিনটি গ্রামে SDG ভিলেজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ উপলক্ষ্যে SDG ও SDG ভিলেজ নিয়ে আয়োজন-
বিশ্বে SDG ভিলেজ
১২ জুলাই ২০১৯ চীনে SDG ভিলেজ উন্নয়ন প্রকল্প প্রথমবারের মতো চালু হয়। ২০১৯-২০২১ সাল পর্যন্ত, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO), জিএফ সিকিউরিটিজ কোম্পানি লিমিটেড এবং চায়না এগ্রিকালচার সায়েন্স অ্যান্ড এডুকেশন ফাউন্ডেশন (কেইসফ) যৌথভাবে চীনের ১৬টি দারিদ্র্য পীড়িত গ্রামে SDG ভিলেজ তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করে। ২০২১ সালে ইন্দোনেশিয়া SDG ভিলেজ ধারণার বাস্তবায়ন শুরু করে। এর সফল মডেল উগান্ডাসহ বিশ্বে আরও কিছু দেশ SDG ভিলেজ ধারণার প্রকল্প গ্রহণ করে।
SDG ভিলেজ
Sustainable Development Goals (SDGs) জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি বৈশ্বিক লক্ষ্যের সমন্বিত কাঠামো। এসব লক্ষ্যকে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে একটি গ্রামকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার ধারণাই SDG ভিলেজ। এ ধরনের গ্রামে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মসংস্থান, পরিবেশ, নারীর ক্ষমতায়ন ও ডিজিটাল সেবার মতো বিভিন্ন খাতকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
SDG উদ্যোগের সুফল
SDG উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা কমবে এবং গ্রামগুলোর জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে। বিদ্যুৎ ও অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও নেওয়া হবে। মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও বাড়বে।
দেশের ৩ গ্রাম
১০ আগস্ট ২০২৬ দেশের তিনটি গ্রামে SDG ভিলেজ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তিনটি গ্রামের ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানি ও জলবায়ু ঝুঁকির ধরন আলাদা। ফলে প্রতিটি গ্রামের জন্য স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা বিবেচনায় পৃথক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়।
তিনটি গ্রামের বৈশিষ্ট্য
♦ নাফানগর: নাফানগর গ্রামটিতে প্রায় ৪,৪০০ মানুষের বসবাস। দারিদ্র্যের হার প্রায় ৬০% এবং শিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব প্রায় ৭০%। শুষ্ক মৌসুমে পানীয় জলের তীব্র সংকটও রয়েছে। নাফানগরের সম্ভাবনার জায়গায় কাঁকড়া চাষকে One Village One Product (OVOP) হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
♦ পানখালী: পানখালী গ্রামটিতে সুন্দরবন-সংলগ্ন অনগ্রসর উপকূলীয় এলাকা। শুষ্ক মৌসুমে পানীয় জলের ও সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭০% শিক্ষিত যুবক বেকার এবং মৌসুমি বেকারত্বও রয়েছে।
♦ মিতিঙ্গাছড়ি: পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ এই এলাকায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের বসবাস রয়েছে মিতিঙ্গাছড়িতে বাঁশ-বেতভিত্তিক কুটিরশিল্প ও বনজ সম্পদভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
৩ গ্রাম, উপজেলা ও জেলা
|
গ্রাম |
উপজেলা |
জেলা |
|
নাফানগর |
বোচাগঞ্জ |
দিনাজপুর |
|
পানখালী |
দাকোপ |
খুলনা |
|
মিতিঙ্গাছড়ি |
কপ্তাই |
রাঙ্গামাটি |
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাজপথ থেকে বঙ্গভবন
♦ জন্ম: ২৬ জানুয়ারি ১৯৪৮
♦ জন্মস্থান: ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়
♦ পিতা: মির্জা রুহুল আমিন (সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য)
♦ মাতা: মির্জা ফাতেমা আমিন
♦ স্ত্রী: রাহাত আরা বেগম
♦ সন্তান: মির্জা শামারুহ এবং মির্জা সাফারুহ
♦ সংসদ সদস্য: অষ্টম সংসদ (ঠাকুরগাঁও-১), নবম সংসদ (বগুড়া-৬, কিন্তু শপথ গ্রহণ করেননি) ও ত্রয়োদশ সংসদ (ঠাকুরগাঁও-১)
♦ মন্ত্রীত্ব: কৃষি প্রতিমন্ত্রী (১০ অক্টোবর ২০০১-২৩ নভেম্বর ২০০৫), বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী (১৮ নভেম্বর ২০০৫-২৭ অক্টোবর ২০০৬) ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী (১৭ ফেব্রুয়ারি-২০ আগস্ট ২০২৬)
♦ বিএনপির অষ্টম মহাসচিব: ২০ মার্চ ২০১১-১৩ আগস্ট ২০২৬
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য
- দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি
- ব্যক্তি হিসেবে ২০তম রাষ্ট্রপতি
- অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বাদ দিলে দেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি
-স্বাধীন বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ২০ জন ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হওয়ার পর ৮ অক্টোবর ১৯৯১ প্রথম রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য ভোট হয়। তখন বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২টি ভোট পান। ২০ আগস্ট ২০২৬ দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের জন্য ভোট হয়।
বঙ্গভবন
বঙ্গভবন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন। ১ সেপ্টেম্বর ১৯০৫ পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ সৃষ্টি হলে লেফটেন্যান্ট গভর্নরের কার্যালয় ও বাসভবনের প্রয়োজনে বঙ্গভবনের যাত্রা। তখন এর নাম ছিল 'গভর্নমেন্ট হাউজ'। ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হলে নতুন প্রাদেশিক শাসনকর্তা তথা গভর্নর-এর দপ্তর ও বাসস্থান নির্বাচিত হয় এটি। এ সময় নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হয় 'গভর্নর হাউজ'। ২৩ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ এবং মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্যগণ গভর্নর হাউজে মন্ত্রিপরিষদের সভা করেন। ঐ সভায় গভর্নর হাউজকে 'বঙ্গভবন' নামে অভিহিত করা হয়। বঙ্গভবনের মূলভবনে রয়েছে দরবার হল। এখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
সামাজিক সুরক্ষায় মাসিক সম্মানী
মুক্তিযোদ্ধা
|
ক্যাটাগরি |
পূর্বে |
বর্তমান |
|
বীরশ্রেষ্ঠ |
৩৫,০০০ |
৪০,০০০ |
|
বীর উত্তম |
২৫,০০০ |
৩০,০০০ |
|
বীর বিক্রম |
২০,০০০ |
২৫,০০০ |
|
বীর প্রতীক |
২০,০০০ |
২৫,০০০ |
|
সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা |
২০,০০০ |
অপরিবর্তিত |
জুলাই যোদ্ধা (আহত)
|
ক্যাটাগরি |
বর্তমান |
|
এ |
২০,০০০ |
|
বি |
১৫,০০০ |
|
সি |
১০,০০০ |
|
জুলাই শহিদ |
২০,০০০ |
অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা
|
নাম |
পূর্বে |
বর্তমান |
|
প্রতিবন্ধী |
৯০০ |
১০০০ |
|
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী |
৮৫০ |
১,০০০ |
|
নারী ও শিশুকল্যাণ |
৮০০ |
৮৫০ |
|
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা |
৬৫০ |
৭০০ |
|
বয়স্ক ভাতা |
৬৫০ |
৭০০ |
২১ আগস্ট ২০২৬ দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০ আগস্ট ২০২৬ তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এর মধ্যে ভোট দেয় ৩৪৩ জন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বীর বিক্রম ৮৮ টি ভোট পান।
জাতিসংঘের নেতৃত্বে বাংলাদেশ
১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ জাতিসংঘে ১৩৬তম সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। এরপর থেকে বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন অঙ্গ সংস্থায় নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হয়। ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ পরিষদের (UNGA) অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নানা দায়িত্ব পালনের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আমাদের এ আয়োজন-
UNGA'র সভাপতি
|
অধিবেশন |
সভাপতি |
নির্বাচিত |
দায়িত্ব |
|
৪১তম |
হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী |
জুন ১৯৮৬ |
১৬.০৯.১৯৮৬-১৫.০৯.১৯৮৭ |
|
৮১তম |
ড. খলিলুর রহমান |
২ জুন ২০২৬ |
৮.০৯.২০২৬-৭.০৯.২০২৭ |
UNGA'র সহ-সভাপতি
|
অধিবেশন |
সভাপতি |
দায়িত্ব |
|
৫৯তম |
১০ জুন ২০০৪ |
১৪.০৯.২০০৪-১২.০৯.২০০৫ |
|
৬৭তম |
৮ জুন ২০১২ |
১৮.০৯.২০১২-১৭.০৯.২০১৩ |
|
৭১তম |
১৩ জুন ২০১৬ |
১৩.০৯.২০১৬-১১.০৯.২০১৭ |
|
৭৬তম |
৭ জুন ২০২১ |
১৪.০৯.২০২১-১৩.০৯.২০২২ |
UNSC'র সদস্য
|
তম |
নির্বাচিত |
দায়িত্ব |
|
প্রথম |
১০ নভেম্বর ১৯৭৮ |
১ জানুয়ারি ১৯৭৯-৩১ ডিসেম্বর ১৯৮০ |
|
দ্বিতীয় |
১৪ অক্টোবর ১৯৯৯ |
১ জানুয়ারি ২০০০-৩১ ডিসেম্বর ২০০১ |
জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল
|
নাম |
নির্বাচিত |
দায়িত্ব |
|
আনোয়ার-উল করিম চৌধুরী |
১১ মার্চ ২০০২ |
LDC, LLDC এবং SIDS-এর প্রতিনিধি |
|
আমিরা হক |
২৫ এপ্রিল ২০১২ |
Department of Field Support (DFS) |
|
রাবাব ফাতিমা |
৯ জুন ২০২২ |
LDC, LLDC এবং SIDS-এর প্রতিনিধি |
ECOSOC'র সদস্য
♦ ১৯৭৬-৭৮ ♦ ১৯৮১-৮৩ ♦ ১৯৮৫-৮৭ ♦ ১৯৯২-৯৪ ♦ ২০০৪-০৬ ♦ ২০১০-১২ ♦ ২০১৪-১৬ ♦ ২০২০-২২ ♦ ২০২৫-২৭।
UNHRC'র সদস্য
♦ ২০০৬-২০০৯ ♦ ২০১০-২০১২ ♦ ২০১৫-২০১৭ ♦ ২০১৯-২০২১ ♦ ২০২৩-২০২৫
UNSC'র সভাপতি
|
মাস |
সাল |
প্রতিনিধি |
|
অক্টোবর |
১৯৭৯ |
খাজা মোহাম্মদ কায়সার |
|
মার্চ |
২০০০ |
আনোয়ারুল করিম চৌধুরী |
|
জুন |
২০০১ |
অন্যান্য সংস্থার সভাপতি
|
নাম |
নির্বাচিত |
|
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ (PBC) |
২০১২ সালে |
|
নির্বাহী বোর্ড, UNICEF |
১৪ জানুয়ারি ২০২০ |
|
নির্বাহী বোর্ড, ইউএন উইমেন |
১১ জানুয়ারি ২০২২ |
|
জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ (PBC) |
১ ফেব্রুয়ারি ২০২২ |
|
কর্মসূচি (WFP) |
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ |
|
নির্বাহী বোর্ড, UNESCO |
৭ অক্টোবর ২০২৫ |
জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক ও সদস্য
|
বিষয় |
অধিবেশন |
লাভ |
|
পর্যবেক্ষক |
২৭তম |
১৭ অক্টোবর, ১৯৭২ |
|
সদস্য |
২৯তম |
১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ |
CEDAW'র সদস্য
|
নাম |
মেয়াদকাল |
|
সালমা খান |
১৯৯৩-২০০০ ও ২০০৩-২০০৬ |
|
ফেরদৌস আরা |
২০০৭-২০১০ |
|
ইসমাত জাহান |
২০১১-২০১৪ ও ২০১৫-২০১৮ |
সালমা খান ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে CEDAW-এর চেয়ারপার্সন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শান্তি মিশনে বাংলাদেশ
১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক শান্তি মিশনে (United Nations Iran-Iraq Military Observer Group- UNIIMOG) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৫জন সদস্যের অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের পথচলা। ১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনের (United Nations Transition Assistance Group-UNTAG) মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী জাতিসংঘ শান্তি মিশন পরিবারের সদস্য হয়। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী শান্তিরক্ষী মিশনে যোগ দেয়। ১৫ মে ২০১০ হাইতিতে যোগদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ নারী পুলিশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পদচারণা শুরু হয়। ২০০১ সালে জাতিসংঘ শান্তি মিশনে বাংলাদেশ শীর্ষে উঠে আসে। এরপর ২০১১, ২০১৪, ২০১৫, ২০২১, ২০২২ এবং ২০২৩ সালে বাংলাদেশ সৈন্য প্রেরণে শীর্ষস্থানে ছিল।
বিবিধ
♦ ESCAP-এর পঞ্চম নির্বাহী সচিব শাহ এ এম এস কিবরিয়া (১৯৮১-১৯৯১)।
♦ ৫৬তম বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন (১৯-২৮ মে ২০০৩)।
♦ আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশনের (UNAMA) প্রধান রাবাব ফাতিমা, নিয়োগ ১৫ জুলাই ২০২৬।
বাংলাদেশ-কোরিয়া বাণিজ্যে নবসোপান
২৪ নভেম্বর ২০২৯ স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে বের হয়ে আসবে বাংলাদেশ। তখন LDC হিসেবে বাংলাদেশি পণ্য বিশ্ববাজারে যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পায়, তা আর থাকবে না। তাই বিভিন্ন দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির জগতে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। এর ধারাবাহিকতায় ভুটানের সাথে PTA, জাপানের সাথে EPA ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে CEPA স্বাক্ষর করে।
CEPA: দক্ষিণ কোরিয়া
৪ আগস্ট ২০২৬ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। CEPA কার্যকর হলে ৮,৪২৮টি বাংলাদেশি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ ও হোম টেক্সটাইল। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সেবা খাতের ১১১টি উপখাতেও প্রবেশাধিকার পাবে বাংলাদেশ। এর বিপরীতে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ৯৫টি সেবা খাত উন্মুক্ত করবে। ২৭-৩১ জুলাই ২০২৬ সিউলে অনুষ্ঠিত পঞ্চম দফার আলোচনায় এ বিষয়ে সমঝোতা হয়। উল্লেখ্য, ২২-২৭ আগস্ট ২০২৫ দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে CEPA করার প্রথম আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে Asia-Pacific Trade Agreement (APTA) এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (WTO) সুবিধার আওতায়, ৪,০০০-এর বেশি বাংলাদেশি পণ্য দক্ষিণ কোরিয়ায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। এর বিনিময়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার ১,০৫৪টি পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করে।
EPA: জাপান
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাংলাদেশ জাপানের সাথে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) স্বাক্ষর করে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি করে বাংলাদেশ। এটি দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিও। এর আওতায় তৈরি পোশাকসহ ৭,৩৭৯টি বাংলাদেশি পণ্য জাপানের বাজারে শতভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশের বাজারে পর্যায়ক্রমে ১,০৩৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে জাপান।
PTA: ভুটান
৬ ডিসেম্বর ২০২০ ভুটানের সাথে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ। বিশ্বের কোনো দেশের সাথে এটাই বাংলাদেশের প্রথম PTA স্বাক্ষর। এ চুক্তির মাধ্যমে ১০০টি বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান করতে সম্মত হয়। অন্যদিকে ভুটানের ৩৪টি পণ্য বাংলাদেশে একই সুবিধা পাবে। দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য এলাকার (SAFTA) আওতায় বাংলাদেশ ও ভুটান কিছু বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করে আসছে। PTA'র ফলে এর পরিধি আরও বাড়বে।
PTA
PTA'র এ'র পূর্ণরূপ Preferential Trade Agreement। অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দেশগুলো নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে একে অপরকে শুল্ক ছাড় বা বিশেষ সুবিধা দিয়ে থাকে। এটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) একটি প্রাথমিক ধাপ, যেখানে সব পণ্যের শুল্ক না কমিয়ে কেবল বাছাই করা পণ্যের শুল্ক কমানো হয়। চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোর ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে সহজে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে।
FTA
FTA'র পূর্ণরূপ Free Trade Agreement। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে এমন একটি সমঝোতা, যার মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর শুল্ক, কর বা অন্যান্য বাধা কমিয়ে বা একেবারে তুলে দিয়ে পণ্য ও সেবা সহজে আদান-প্রদান করে।
EPA
EPA'র পূর্ণরূপ Economic Partnership Agreement। অর্থনৈতিক অংশীদার চুক্তি (EPA) দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি বিশেষ চুক্তি। এটি সাধারণ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (FTA) চেয়েও ব্যাপক। এতে পণ্যের শুল্ক কমানোর পাশাপাশি সেবা বাণিজ্য, মেধাসম্পদ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের বিষয়গুলো যুক্ত থাকে।
CEPA
CEPA'র পূর্ণরূপ Comprehensive Economic Partnership Agreement। সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে বাণিজ্য সহজ করার একটি চুক্তি। এটি শুধু শুল্ক কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এতে পণ্য বাণিজ্য, সেবা খাতের বিকাশ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলো যুক্ত থাকে। চুক্তি কার্যকর হলে নির্দিষ্ট পণ্য শুল্ক ছাড়াই প্রবেশ করতে পারে। বিদেশি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের সরাসরি বিনিয়োগের (FDI) পথ উন্মুক্ত হয়। স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে বাণিজ্য সক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
যানজট নিরসনে মনোরেল
২০ জানুয়ারি ২০২৬ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনোরেলের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করে, তার অন্যতম ছিল মনোরেল প্রকল্প। এর অংশ হিসেবে পাঁচ রুটে মনোরেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মনোরেল কী
মনোরেল (Monorail) হলো এমন একটি রেলভিত্তিক গণপরিবহন ব্যবস্থা, যা প্রচলিত রেললাইনের মতো দু'টি সমান্তরাল লাইনের ওপর নয়, বরং একটিমাত্র কংক্রিট বা ইস্পাত নির্মিত বিমের ওপর চলাচল করে। Mono শব্দের অর্থ এক এবং Rail অর্থ রেলপথ বা রেলপথে থাকা লোহার পাত। সেখান থেকেই এর নাম Monorail। মনোরেলে দু'টি প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। একটি হলো Straddle-beam পদ্ধতি, যেখানে ট্রেনটি কংক্রিটের বিমকে দুই পাশ থেকে চেপে ধরে তার ওপর দিয়ে চলে। অন্যটি Suspended পদ্ধতি, এতে ট্রেনটি বিমের নিচে ঝুলন্ত অবস্থায় চলাচল করে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ মনোরেল প্রকল্পে Straddle-beam প্রযুক্তিই ব্যবহৃত হচ্ছে।
পটভূমি
১৮০০ সালের দিকে মনোরেলের ধারণা আসে। তখন প্রকৌশলীরা এক রেলের ওপর ঘোড়ার গাড়ি বা কাঠের ট্র্যাক দিয়ে যাত্রী ও সামগ্রী পরিবহন করার চিন্তা শুরু করেন, এটাই মনোরেলের প্রাথমিক ধারণা। ১৮২০ সালে রাশিয়ার ইভান এলমানভ নামে একজন উদ্ভাবক কাঠের একটি এক-রেল পিলার-ট্র্যাক তৈরি করেন। ১৮২১ সালে ইংল্যান্ডের প্রকৌশলী হেনরি রবার্টসন পালমার মনোরেল ধারণার পেটেন্ট নেন। প্রথম যাত্রী বহনকারী মনোরেল সিস্টেম হলো চেশান্ট রেলওয়ে (UK), যা ২৬ জুন ১৮২৫ খোলে এবং তখনই মানুষ এতে যাত্রা করে। ১৯৫৩ সালে জার্মানির Alweg পরিবহন সংস্থার মাধ্যমে কংক্রিট বিমের ওপর চড়ে চলা আধুনিক স্ট্র্যাডল-বিম মনোরেলের ধারণা জনপ্রিয়তা লাভ করে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নগর পরিবহনে মনোরেল ব্যবহৃত হচ্ছে।
সুবিধা
মনোরেল উঁচু পিলারের ওপর স্থাপন করা হয়। ফলে সড়কের জায়গা দখল কম হয়, যানজটের প্রভাব পড়ে না এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহরে তুলনামূলক কম জমি অধিগ্রহণ করেই এটি নির্মাণ সম্ভব। এছাড়া এটি বিদ্যুৎ চালিত হওয়ায় শব্দ ও বায়ুদূষণ তুলনামূলক কম। তাই আবাসিক এলাকার জন্য আরামদায়ক। এছাড়া আলাদা ট্র্যাক হওয়া দুর্ঘটনার ঝুঁকি কম। তবে মনোরেলে রয়েছে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতাও। এর যাত্রী বহনক্ষমতা সাধারণ মেট্রোরেলের তুলনায় কম। রুট সম্প্রসারণ ও ট্র্যাক পরিবর্তনও তুলনামূলক জটিল।
বাংলাদেশে মনোরেল
চট্টগ্রাম নগরের যানজট নিরসনে মনোরেল প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১ জুন ২০২৫ ওরাসকম কনস্ট্রাকশন ও আরব কন্ট্রাক্টরস এ দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ৫৪.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মনোরেলের সম্ভাব্য রুটগুলো হলো কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত ২৬.৫ কিলোমিটার, সিটি গেট থেকে শহিদ বশিরুজ্জামান চত্বর পর্যন্ত ১৩.৫ কিলোমিটার এবং অক্সিজেন থেকে ফিরিঙ্গিবাজার পর্যন্ত ১৪.৫ কিলোমিটার। পুরো অর্থায়ন করবে বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ওরাসকম কনস্ট্রাকশন ও আরব কন্ট্রাক্টরস।
ঢাকায় মনোরেল
ঢাকায় ক্রমবর্ধমান যানজট নিরসনে মেট্রোরেলের পাশাপাশি মনোরেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় সরকার। এরই অংশ হিসেবে ঢাকায় পাঁচটি মনোরেল নির্মাণের সুপারিশ করে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (DTCA)। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)।
মনোরেল-১
♦ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কুড়িল-পূর্বাচল-বসুন্ধরা-জলসিঁড়ি আবাসন পর্যন্ত। দৈর্ঘ্য ২৫.২ কিলোমিটার।
মনোরেল-২
♦ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-উত্তরা সেন্টার-সাভার। দৈর্ঘ্য ১৭.৬ কিলোমিটার।
মনোরেল-৩
♦ মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি-জিঞ্জিরা (কেরানীগঞ্জ)-পোস্তগোলা। দৈর্ঘ্য ১১.৭ কিলোমিটার।
মনোরেল-৪
♦ মধ্যবাড্ডা-পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে, ভুলতা (নারায়ণগঞ্জ)। দৈর্ঘ্য ১৪.৬ কিলোমিটার।
মনোরেল-৫
♦ রামপুরা-বনশ্রী-ডেমরা। দৈর্ঘ্য ১০.৩ কিলোমিটার।


