BCS কঠিন নয়; প্রস্তুতি যদি গোছানো হয়।

Loading...

Monthly Affairs

অর্থনীতি

Economic
January, 2026

জাপানের সাথে বাংলাদেশের প্রথম EPA

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ জাপানের সঙ্গে Economic Partnership Agreement (EPA) স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ এই প্রথম কোনো দেশের সঙ্গে ধরনের বিস্তৃত অর্থনৈতিক চুক্তি করতে যাচ্ছে। EPA নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা-

EPA

Economic Partnership Agreement (EPA) একটি মুক্ত বাণিজ্য এলাকা (FTA) তৈরির পরিকল্পনা। এর আওতায় শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কমানো, আমদানি কোটা সংশোধন, পণ্য ও সেবাবাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করা। সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে EPA করার মাধ্যমে বাংলাদেশের একটি দর-কষাকষি করার পুল তৈরি হবে, যা পরে অন্যান্য দেশ বা অর্থনৈতিক জোটের সঙ্গে দর-কষাকষির ক্ষেত্রে কাজে আসবে। এটি এমন একটি চুক্তি যার কোনো সুনির্দিষ্ট মেয়াদ নেই, এবং যতদিন কোনো পক্ষ এই চুক্তি বাতিল না করবে, ততদিন চলবে।

EPA'র প্রারম্ভকথা

২৭ ডিসেম্বর ২০২৩ বাংলাদেশ-জাপান EPA নেগোসিয়েশনের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে গঠিত যৌথ গবেষণা দল তাদের প্রতিবেদন একযোগে প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে ১৭টি সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে নেগোসিয়েশন। পরিচালনার সুপারিশ করা হয়। ১২ মার্চ ২০২৪ বাংলাদেশ-জাপান EPA নেগোসিয়েশন শুরুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করে। সম্মত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ১৯-২৩ মে ২০২৪ ঢাকায় প্রথম রাউন্ডের নেগোসিয়েশন অনুষ্ঠিত হয়। তবে কিছু অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জের কারণে নেগোসিয়েশন সাময়িকভাবে স্থগিত হয়। এরপর ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী MOTEGI Toshimitsu-এর সাথে টেলিফোনে আলোচনার মাধ্যমে Bangladesh-Japan Economic Partnership Agreement (BJEPA)-এর নেগোসিয়েশন সম্পন্নকরণের যৌথ ঘোষণা প্রদান করেন। ফলশ্রুতিতে জাপানের রাজধানী টোকিওতে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এই চুক্তি স্বাক্ষর হবে।

 

রাউন্ডভিত্তিক বৈঠক

রাউন্ড

স্থান

সময়

প্রথম

ঢাকা

১৯-২৩ মে ২০২৪

দ্বিতীয়

ঢাকা

১০-১৪ নভেম্বর ২০২৪

তৃতীয়

টোকিও

১৯-২০ ডিসেম্বর ২০২৪

চতুর্থ

ঢাকা

২-৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

পঞ্চম

টোকিও

২০-২৬ এপ্রিল ২০২৫

ষষ্ঠ

ঢাকা

২১-২৬ জুন ২০২৫

সপ্তম

টোকিও

৩-১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকার

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রথম দিন থেকেই ৭,৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। পক্ষান্তরে, জাপান ১,০৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। এই EPA-এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ (RMG) অন্যান্য পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। এছাড়াও, তৈরি পোশাক খাতে Single Stage Transformation সুবিধাও পাবে। বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) হিসেবে বাংলাদেশ এই প্রথম বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করছে।

 

সম্ভাব্য লাভ ও ক্ষতি

বাংলাদেশ আগে জাপানের কাছে বেশি বিনিয়োগ চাইলেও কাঠামোগত চুক্তি না থাকায় বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতো। সেই বাধা দূর করবে EPA। এর মাধ্যমে অবকাঠামো, উৎপাদন, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়বে। জাপানের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে বাংলাদেশের শিল্প যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া EPA কার্যকর হলে প্রথমেই দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে। তৈরি পোশাক, চামড়া, হালকা প্রকৌশল, কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য জাপানের বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে। দ্বিতীয়ত, বিনিয়োগ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার, যা বৈশ্বিক পরিসরে খুবই কম। শুল্ক কমলে জাপানের উন্নত প্রযুক্তির পণ্য সহজে বাংলাদেশের বাজারে ঢুকবে। এতে কিছু দেশীয় শিল্প, বিশেষ করে ছোট ও পড়তে পারেন। মাঝারি উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতার চাপে পড়তে পারেন।

 

No more data found.